দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করার অভিযোগে নাম জড়ানো এক তরুণী অবশেষে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। আর সেই ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হতেই সোশাল মিডিয়ায় আবার সরব হলেন অভিনেতা তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। 'বামপন্থী' ও 'উগ্র ফেমিনাজি' (ফেমিনিস্ট ও নাজি শব্দের মেলবন্ধন) উস্কানিতে পা দিয়েই তরুণ প্রজন্ম বিপথে চালিত হচ্ছে বলে সোচ্চার হয়েছেন তিনি। তবে বিতর্ক ও শাস্তির আবহ সরিয়ে রেখে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে অত্যন্ত মানবিক বার্তা দিয়ে তরুণদের ক্ষমা করে মূলস্রোতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

'আমাদের মেয়েরাই কেন উস্কানিতে পা দিচ্ছে?' কঙ্গনার হুশিয়ারি
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ওই তরুণীর ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওর স্ক্রিনশট শেয়ার করে কঙ্গনা লিখেছেন, ‘মেয়েটির বয়স মেরেকেটে ১৫ বছর। সে নিজেই স্বীকার করছে যে সারা জীবনে কখনো মোদীজির বিরুদ্ধে কিছু লেখেনি, কিন্তু সেদিনের প্রতিবাদে বন্ধুরা ও কিছু মানুষ ওনাকে উসকানি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গালাগাল করায়। এসো নিজেদের সন্তানদের শয়তান ফেমিনাজি ও পৈশাচিক বামপন্থীদের হাত থেকে বাঁচাই।’
কঙ্গনা আরও প্রশ্ন তোলেন, প্রতিবাদের নামে এই ধরনের কুরুচিকর প্রদর্শনে স্কার্ফ বা বোরখা পরা কোনো মেয়েকে দেখা যায় না, অথচ ঘরের মেয়েরাই কেন সহজে বিপথে চালিত হচ্ছে? তিনি যোগ করেন, সমাজ বা অভিভাবক হিসেবে আমরা কোথাও একটা ব্যর্থ হচ্ছি। আমাদের নিজেদের মেয়েদের সুরক্ষার স্বার্থে গভীর আত্মসমীক্ষা করা উচিত।
এফআইআরে ২৫, ভিডিওতে দাবি ১৫! কী বলছেন ওই তরুণী?
গত ২৩ জুলাইয়ের প্রতিবাদ কর্মসূচীর পর দায়ের হওয়া পুলিশি এফআইআরে ওই তরুণীর বয়স ২৫ বছর বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে সোশাল মিডিয়ায় উঠে আসা ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওতে মেয়েটিকে দাবি করতে শোনা যায় ওঁর বয়স মাত্র ১৫।
ভিডিওতে মেয়েটি অত্যন্ত অনুতপ্ত হয়ে জানান, কিছু মানুষের প্ররোচনায় পা দিয়ে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কুরুচিকর কথা বলে ফেলেছেন। নিজের ভুল স্বীকার করে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, 'আমি এতই লজ্জিত যে নিজের দিকে নিজেই তাকাতে পারছি না। আমাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিন।'
{{/usCountry}}ভিডিওতে মেয়েটি অত্যন্ত অনুতপ্ত হয়ে জানান, কিছু মানুষের প্ররোচনায় পা দিয়ে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কুরুচিকর কথা বলে ফেলেছেন। নিজের ভুল স্বীকার করে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, 'আমি এতই লজ্জিত যে নিজের দিকে নিজেই তাকাতে পারছি না। আমাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিন।'
{{/usCountry}}'ওরা ভুল পথে চালিত শিশু', প্রধানমন্ত্রীর বড় মন ও বার্তা
তরুণীর এই ভিডিও সামনে আসার পরেই সোশাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিবাদের নামে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের ঘটনায় আইনি কড়াকড়ি বা হেনস্থার বদলে তরুণদের সঠিক পথ দেখানোর পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সঠিক দিশা দেখানোর দায়িত্ব: এরা ভুল পথে চলে যাওয়া আমাদেরই সন্তান। এদের সঠিক পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। আদালত বা সামাজিক হেনস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানো যাবে না।
দেশ গড়ার ডাক: শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বার্তা দেন— ‘ভুল থেকেই মানুষ শেখে। চলো সব ভুলে একসাথে দেশের জন্য এগিয়ে যাই। আমি তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যই দিনরাত পরিশ্রম করি।’