রণবীর কাপুরের 'রামায়ণ' ছবির ট্রেলার সামনে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে সাই পল্লবীর 'সীতা' অবতার নিয়ে। দক্ষিণী নায়িকার হিন্দি উচ্চারণ এবং রূপোলি পর্দায় সীতার বেশে উপস্থিতি নিয়ে যখন নেটপাড়া সরগরম, ঠিক তখনই জলঘোলা আরও বাড়িয়ে দিলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত! নিজের ছোটবেলার একটি স্মৃতিঘন পুরনো ছবি পোস্ট করে 'লিবারেল'দের এক হাত নিলেন বলিপাড়ার এই বিতর্কিত অভিনেত্রী।

স্কুলে সেজেছিলেন সীতা, ছবি পোস্ট করে লিবারেলদের কটাক্ষ
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নিজের স্কুলজীবনের একটি দুর্লভ ছবি শেয়ার করেছেন কঙ্গনা। লাল শাড়িতে সীতার বেশে তাকে দেখা যাচ্ছে, পাশে রাম ও হনুমান সাজা ওঁর সহপাঠীরা।
ছবির ক্লোজ-আপ শট শেয়ার করে আশীর্বাদের ভঙ্গিতে হাত তুলে রাখা নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ক্যাপশনে লিবারেলদের দিকে তোপ দেগে কঙ্গনা লেখেন, ‘সব লিবারেলদের জন্য রইল আমার আশীর্বাদ’! সঙ্গে জুড়ে দেন একাধিক হাসির ইমোজি। সাই পল্লবীর সীতা-লুক ঘিরে যখন তুমুল বাদানুবাদ চলছে, তখন কঙ্গনার এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।
জেন জি আন্দোলন ও 'কাকরোচ' বিতর্ক, সিজেপির পাল্টা প্রহার
কঙ্গনার এই খোঁচা কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়! গত কয়েক দিন ধরেই আন্দোলনরত তরুণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে রয়েছেন এই বিজেপি সাংসদ। সম্প্রতি জেন জি (Gen Z)-দের প্রতিবাদী রিলগুলোকে অত্যন্ত কুরুচিকর ও বমি এনে দেওয়া বস্তু বলে তোপ দাগেন তিনি। এমনকি জেন জি-কে ‘নর্দমা’ বলেও তোপ দাগেন।
কঙ্গনার এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন সিজেপি (কাকরোচ জনতা পার্টি)-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। তিনি সোজা আক্রমণ করে বলেন, কঙ্গনার দলের লোকজনই ওনাকে গুরুত্ব দেয় না, তাই দেশের তরুণ প্রজন্ম ওঁর কথা কেন শুনবে? তিনি আরও খোঁচা দিয়ে বলেন, হিমাচল প্রদেশে নিজের কেন্দ্রে গিয়ে কঙ্গনা বলেছিলেন ওঁনার ধারণা ছিল সাংসদদের খুব বেশি কাজ করতে হয় না! এতেই ওঁর মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে যায়। ওঁর চেয়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম দেশের জন্য অনেক বেশি কাজ করেছে।
{{/usCountry}}কঙ্গনার এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন সিজেপি (কাকরোচ জনতা পার্টি)-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। তিনি সোজা আক্রমণ করে বলেন, কঙ্গনার দলের লোকজনই ওনাকে গুরুত্ব দেয় না, তাই দেশের তরুণ প্রজন্ম ওঁর কথা কেন শুনবে? তিনি আরও খোঁচা দিয়ে বলেন, হিমাচল প্রদেশে নিজের কেন্দ্রে গিয়ে কঙ্গনা বলেছিলেন ওঁনার ধারণা ছিল সাংসদদের খুব বেশি কাজ করতে হয় না! এতেই ওঁর মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে যায়। ওঁর চেয়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম দেশের জন্য অনেক বেশি কাজ করেছে।
{{/usCountry}}রূপোলি পর্দায় কঙ্গনা
রাজনৈতিক বিতর্ক আর সোশাল মিডিয়ার তোপ সামলানোর পাশাপাশি সম্প্রতি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে কঙ্গনার ছবি 'ভারত ভাগ্য বিধাতা'। মুম্বইয়ের ২৬/১১ জঙ্গি হানার সময় কামা ও অলব্লেস হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা যেভাবে নিজের জীবন বাজি রেখে ৪০০ জন রোগীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, সেই বাস্তব সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে ছবিটি। তবে পর্দার অভিনয় ছাপিয়ে আপাতত কঙ্গনার সোশাল মিডিয়ার বিষাক্ত হুল ফুটানো পোস্টেই মশগুল নেটপাড়া!
কঙ্গনার সাম্প্রতিক মন্তব্যে ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্যের জন্য গত কয়েকদিন ধরেই শিরোনাম দখল করে চলেছেন কঙ্গনা। সোমবার কঙ্গনা জানিয়েছিলেন, ভারতের মূল্যবোধ ও পরিশীলিততার সঙ্গে এই বিক্ষোভের সম্পূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, 'আমি জীবনে কখনো এক জায়গায় এত কুৎসিততা দেখিনি। জেন জেড প্রতিবাদের এই রিলগুলি বমি-প্ররোচিত, তারা যেভাবে কথা বলছে এবং তারা যে ধরণের ভাষা ব্যবহার করছে। আমি আমার জীবনে কখনও প্রতিটি ফ্রেমের সবকিছু একবারে এতটা ঝাঁকুনি এবং এত ক্র্যাস দেখিনি। তিনি আরও যোগ করেছেন, "কে তাদের জন্ম দিচ্ছে এবং লালন-পালন করছে? ভারত হল বৈচিত্র্যময় সুন্দর মানুষের জায়গা, কমনীয়তায় আবৃত এবং সাংস্কৃতিক পরিশীলিততায় শিকড়; আপনি নিজেকে তেলাপোকা বলে ডাকেন এবং তাদের মতো দেখান / আচরণ করেন; সেখানে কোনও প্যারাডক্স বা জুক্সটাপোজিশন নেই, কেবল বিশ্বকে আপনার নোংরা, আবর্জনা এবং কুৎসিততার অধীন করা। আমি এই রিলগুলি থেকে ক্ষতবিক্ষত হয়েছি, কিছু নিরাময়, ডিজিটাল ডিটক্স প্রয়োজন।
কঙ্গনার প্রধান বিচারপতি সৌরভ দাস তারপরে অভিনেতাকে তীব্র আক্রমণ করে এএনআইকে বলেন, "এমনকি তার নিজের দলের সদস্যরাও কঙ্গনা রানাওয়াতের প্রতি খুব বেশি মনোযোগ দেয় না বা তাকে গুরুত্ব দেয় না, তাহলে আমরা কেন করব? আমি মনে করি না যে জেন জেড, জেন আলফা বা কোনও তরুণ প্রজন্মের কেউ তাকে গুরুত্ব সহকারে নেয় বা তিনি যা বলেন তা শোনেন। তিনি এখন একজন রাজনীতিবিদ। তিনি যখন হিমাচল প্রদেশে তাঁর নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন, তখন তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি আশা করেছিলেন যে এই কাজের জন্য খুব কম কাজের প্রয়োজন হবে, কেবল বুঝতে পেরেছিলেন যে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে শ্রম জড়িত। এটি তার নিজের গুরুত্বের কথা বলে। জেনারেল জেড তার চেয়ে এই দেশের জন্য আরও বেশি করেছেন। কর্মক্ষেত্রে, কঙ্গনাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল 'ভারত ভাজ্ঞা বিধাতা' ছবিতে। চলচ্চিত্রটি সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল এবং মুম্বাইয়ের কামা এবং অ্যালব্লেস হাসপাতালে 26/11 সন্ত্রাসী হামলার সময় 400 জন রোগীকে রক্ষা করা হাসপাতালের কর্মীদের গল্প বলে, জুনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল।