সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানী দিল্লিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক আবহ। একদিকে যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে 'চলো সংসদ' কর্মসূচি নিয়ে এগোয় ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সমর্থকরা, অন্যদিকে সংসদে পৌঁছে সেই বিক্ষোভের তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রে সরকারকে চাপ দিয়ে মন্ত্রী অপসারণ বা সরকার পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণ করা যায় না। এদিকে সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে সমর্থন জানিয়ে আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন একাধিক বলিউড তারকা।
কঙ্গনা রানাওয়াতের প্রতিক্রিয়া

কঙ্গনার কথায়, ‘সংসদের অধিবেশন হয় যাতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারি এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলতে পারি। বিশৃঙ্খলা তৈরি করা, কাজকর্ম ব্যাহত করা এবং এভাবে বিক্ষোভ দেখানো কোনওভাবেই ঠিক নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ একটি সরকারকে নির্বাচিত করেছেন। সেই সরকার কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদেরই রয়েছে। যদি কারও এতই আপত্তি থাকে, তাহলে নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত। সরকারকে চাপ দিয়ে কে থাকবে আর কে যাবে, তা নির্ধারণ করা যায় না। এই ধরনের চাপ সৃষ্টি গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অংশ নয়।’ একইসঙ্গে বিজেপি সাংসদ দাবি করেন, ধীরে ধীরে সবাই বিজেপি এবং সনাতন সংস্কৃতির দিকেই ফিরে আসবে, কারণ সেটিই ভারতের নিজস্ব সংস্কৃতি।
দিল্লিতে 'চলো সংসদ' কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা
সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে 'চলো সংসদ' কর্মসূচি শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। যদিও দিল্লি পুলিশ এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি। সংসদ চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আর সকাল ১০টার পর থেকে কর্মসূচি শুরু হতে না হতেই, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি চালায় পুলিশ। ছোঁড়া হয় জলকামান, কাঁদানে গ্যাসও। ব্যারিকেড দিয়ে একাধিক জায়গায় আটকানোর চেষ্টা করা হয় 'চলো সংসদ' কর্মসূচিতে আসা সাধারণ মানুষকে। এমনকী, যন্তর মন্তরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে, একাধিক মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সোনম ওয়াংচুকের পাশে বলিউডের একাংশ
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন। তাঁর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে রবিবার যন্তর মন্তরে পৌঁছন প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি ওয়াংচুকের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন।
{{/usCountry}}ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন। তাঁর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে রবিবার যন্তর মন্তরে পৌঁছন প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি ওয়াংচুকের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন।
{{/usCountry}}শুধু শাবানা আজমিই নন, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন প্রকাশ রাজ এবং পুনম পাণ্ডেও। এছাড়াও সোনি রাজদান, জিনাত আমান, অভয় দেওল, সোনাক্ষী সিনহা, ওমি বৈদ্য, ইমরান খান, নাসিরুদ্দিন শাহ এবং রত্না পাঠক শাহ-সহ একাধিক তারকা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সোনম ওয়াংচুক এবং আন্দোলনকারীদের অনশনকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন।
কঙ্গনা রানাওয়াতের কড়া সমালোচনা এবং বলিউডের একাংশের প্রকাশ্য সমর্থনের মধ্যে সোনম ওয়াংচুককে ঘিরে আন্দোলন এখন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক— দুই ক্ষেত্রেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।