৪ বছরেই শেষ পথ চলা, দ্বিতীয় বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটলেন কণিকা কাপুর
২০২২ সালে নিজের জীবনকে আরো একবার সাজিয়ে তোলার সুযোগ দিয়েছিলেন কণিকা কাপুর। লন্ডনে ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী গৌতম হাতিরমণির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
২০২২ সালে নিজের জীবনকে আরো একবার সাজিয়ে তোলার সুযোগ দিয়েছিলেন কণিকা কাপুর। লন্ডনে ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী গৌতম হাতিরমণির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই বিয়েও টিকলো না। বিয়ের মাত্র চার বছরের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করলেন গায়িকা।

মঙ্গলবার ইনস্ট্রাগ্রামে একটি পোষ্টের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন কণিকা। এই পোস্টে গায়িকা সকলকে গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে কী কারণে বিচ্ছেদ হয়েছে তা তিনি প্রকাশ্যে আনেননি।
পোস্টে কী লিখেছেন কণিকা?
কণিকা লেখেন, ‘প্রিয় বন্ধু ও পরিবার। অনেক চিন্তাভাবনার পর আমি এবং আমার স্বামী আলাদা হয়ে যাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে যে সময় কাটিয়েছি তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতের জন্য ওকে আমি শুভকামনা জানাই। আমি আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি সকলে যেন আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সদয় এবং শ্রদ্ধাশীল থাকেন। আমরা আমাদের মতো এগিয়ে যাব আমাদের জীবনে।’
আরও পড়ুন: হয়ে গেল ‘ডাকিনী বিদ্যা’- র লুক সেট, বড় চমক ঋষভ- সাহেব-পারিজাতের
কণিকা ও গৌতমের বিয়ে
কণিকা এর আগে জানিয়েছিলেন যে তিনি গৌতমকে প্রায় ১৫ বছর ধরে চেনেন এবং তাদের সম্পর্ক প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হওয়ার আগে তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন যে তিনি গৌতমকে দুবার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, প্রথমবার ২০১৪ সালে এবং তারপর আবার ২০২০ সালে। অবশেষে ২০২১ সালের আগস্টে গৌতম তাকে প্রস্তাব দেন এবং ২০২২ সালের ২০ মে লন্ডনে একটি ঘরোয়া অথচ জমকালো অনুষ্ঠানে এই দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, এবং তার তিন সন্তানও অনুষ্ঠানগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল।

এটি ছিল কণিকার দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে এই গায়িকা ব্যবসায়ী রাজ চান্দোকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, যার সঙ্গে তাঁর তিন সন্তান রয়েছে – কন্যা আয়ানা ও সমরা এবং পুত্র যুবরাজ। কণিকা ১৯৯৮ সালে রাজকে বিয়ে করেন, যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। বিয়ের পর তিনি লন্ডনে চলে যান, যেখানে তিনি বেশ কয়েক বছর বসবাস করেন এবং তাঁর সন্তানদের বড় করে তোলেন। তবে, ২০১২ সালে এই দম্পতির বিচ্ছেদ ঘটে এবং কণিকা সঙ্গীতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ভারতে ফিরে আসেন। তিনি এর আগে বলেছেন যে, তিনি এবং রাজ অবশেষে তাঁদের বিচ্ছেদ মেনে নিয়েছিলেন এবং একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, কারণ রাজই তাঁর সন্তানদের বাবা ছিলেন।
আরও পড়ুন: 'শান্তিতে খুন পর্যন্ত করতে পারবো না', AI নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ মানসীর
কণিকা কাপুর সম্পর্কে
২০১৪ সালে সানি লিওনের ছবি 'রাগিনি এমএমএস ২'-এর 'বেবি ডল' গানটির মাধ্যমে কণিকা কাপুর খ্যাতি অর্জন করেন। মিট ব্রোস-এর সুর করা এই গানটি মুক্তির সাথে সাথেই হিট হয় এবং কণিকাকে একজন জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। একই বছর শাহরুখ খান ও দীপিকা পাডুকোন অভিনীত 'হ্যাপি নিউ ইয়ার' ছবির 'লাভলি' গানটিও তিনি সফলভাবে পরিবেশন করেন। এরপর তিনি সুরকার মিট ব্রোস এবং ডক্টর জিউসের সাথে 'রয়' ছবির 'চিট্টিয়াঁ কালাইয়াঁ', 'এক পহেলি লীলা' ছবির 'দেশি লুক', 'অল ইজ ওয়েল' ছবির 'নাচন ফাররাতে' এবং 'উড়তা পাঞ্জাব' ছবির 'দা দা দাসসে'-সহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গানে কাজ করেন।
প্লেব্যাক গানের পাশাপাশি কণিকা স্বাধীন সঙ্গীত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাজও করেছেন। বলিউডে অভিষেকের আগেই তাঁর 'জুগনি জি' গানটি তাঁকে পরিচিতি এনে দেয়। ২০১৯ সালে কণিকা গানের রিয়েলিটি শো 'দ্য ভয়েস'-এ বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
E-Paper

