বলিউডের খ্যাতিমান পরিচালক ও প্রযোজক কিরণ রাও (Kiran Rao) নিজের চিন্তাভাবনা ও স্পষ্টভাষী বক্তব্যের জন্য সর্বদা চর্চায় থাকেন। হিন্দি সিনেমার সুপারস্টার আমির খান (Aamir Khan)-এর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরও তাঁদের সুস্থ ও বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক বিনোদন জগতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আধুনিক সমাজ, সম্পর্ক এবং বিয়ের আগের শারীরিক ও মানসিক সমীকরণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন কিরণ।
‘বিয়ের আগের শারীরিক সম্পর্ক বা লিভ-ইন এখন স্বাভাবিক’
সাক্ষাৎকারে সমাজ ও সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কিরণ রাও জানান, বর্তমান যুগে মানসিকতা অনেকটাই বদলে গেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক বা লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা আর কোনো অদ্ভুত বা অস্বাভাবিক বিষয় নয়। বিশ্ব এখন অনেক বদলে গেছে এবং মানুষ নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিতে শিখছে।’
তিনি উদাহরণ টেনে জানান যে, আমির খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে তাঁরা নিজেরাও প্রায় এক বছর লিভ-ইন বসবাস করেছিলেন, যা মূলত তাঁদের অভিভাবকদের আশ্বস্ত করতেই পরবর্তীতে বিয়ের রূপ নেয়।
‘বিয়ে অনেক সময় দমবন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি করে’
মেয়েদের ওপর বিয়ের প্রভাব এবং সম্পর্কের স্বাধীনতা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ শেয়ার করে ‘লাপাতা লেডিজ’ খ্যাত এই পরিচালক জানান, অনেক সময় সমাজ ও বিয়ের প্রথা একজন মানুষের মৌলিক স্বাধীনতাকে সীমিত করে দেয়।
{{/usCountry}}মেয়েদের ওপর বিয়ের প্রভাব এবং সম্পর্কের স্বাধীনতা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ শেয়ার করে ‘লাপাতা লেডিজ’ খ্যাত এই পরিচালক জানান, অনেক সময় সমাজ ও বিয়ের প্রথা একজন মানুষের মৌলিক স্বাধীনতাকে সীমিত করে দেয়।
{{/usCountry}}তাঁর মতে, সমাজে এখনও বিয়ের প্রাতিষ্ঠানিক চাপ বিশেষ করে মহিলাদের মানসিক বিকাশে কিছুটা হলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি মনে করেন, একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হলো দুজন মানুষের পারস্পরিক সম্মান ও নিজস্ব ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীনতা বজায় রাখা।
আমির খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ ও পরিচয় পুনর্নির্মাণ
আমির খানের বিশাল ব্যক্তিত্বের পাশে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলা নিয়েও কথা বলেন কিরণ। তিনি জানান, অত্যন্ত সফল একজন তারকার সাথে বিবাহবন্ধনে থাকলে নিজের ব্যক্তিত্ব বা পরিচয় খানিকটা ম্লান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তবে ২০২১ সালে আমিরের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদের পর তাঁরা নিজেদের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছেন এবং ছেলে আজাদকে যৌথভাবে মানুষ করছেন। কিরণ জানান, কোনো তিক্ততা ছাড়া এই বিচ্ছেদ তাঁদের দুজনকে নিজস্ব ব্যক্তি হিসেবে নতুন করে বিকশিত হতে সাহায্য করেছে।