...
...
Next Story

বাড়ির বাইরে লেখা থাকত 'Beware of Kishore Kumar'! এই ৬ কাণ্ড শুনলে বুঝবেন, কেন কিশোর কুমারকে লোক বলত খ্যাপাটে

শুধু অসাধারণ কণ্ঠ নয়, খামখেয়ালি স্বভাব, তীক্ষ্ণ রসবোধ এবং নিজের শর্তে বাঁচার জন্যও কিশোর কুমার রয়ে গিয়েছেন আজও সকলের মনের মণিকোঠায়। তাঁর এই কাণ্ডগুলো জানা নেই অনেকেরই।

Published on: Aug 5, 2026, 13:00:20 IST
Advertisement

ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এমন কিছু শিল্পী রয়েছেন, যাঁদের কণ্ঠ কখনও পুরনো হয় না। তাঁদেরই অন্যতম কিংবদন্তি গায়ক, অভিনেতা ও সুরকার কিশোর কুমার। আজও ইউটিউব থেকে রেডিয়ো—সব জায়গাতেই সমান জনপ্রিয় তাঁর গান। তবে শুধু অসাধারণ কণ্ঠ নয়, খামখেয়ালি স্বভাব, তীক্ষ্ণ রসবোধ এবং নিজের শর্তে বাঁচার জন্যও তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন কিশোর কুমার। চলুন ফিরে দেখা যাক তাঁর জীবনের এমন কিছু ঘটনা, যা আজও বিস্মিত করে অনুরাগীদের।

অল ইন্ডিয়া রেডিয়োতে কেন নিষিদ্ধ হয়েছিলেন কিশোর কুমার?

কিশোর কুমারকে কেন লোক বলত খ্যাপাটে?
কিশোর কুমারকে কেন লোক বলত খ্যাপাটে?

ছোটবেলা থেকেই গায়ক হওয়ার স্বপ্ন ছিল কিশোর কুমারের। বড় ভাই অশোক কুমারের পরামর্শে অভিনয়ে এলেও সেই পথে প্রথমদিকে তেমন সাফল্য পাননি। ১৯৪৮ সালে 'জিদ্দি' ছবিতে প্রথম প্লেব্যাক করার সুযোগ পান। তবে ১৯৬৯ সালের 'আরাধনা' ছবির 'মেরে সপ্নো কি রানি' গানই তাঁকে এনে দেয় সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তা। রাজেশ খান্না ও কিশোর কুমারের জুটি তখন বলিউডের সবচেয়ে সফল কম্বিনেশনগুলির একটি হয়ে ওঠে।

তবে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন কিশোর কুমার। এরপর তাঁর গান গান অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো এবং দূরদর্শনে সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমে কার্যত নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি।

'Beware of Kishore Kumar'—বাড়ির বাইরে কেন ছিল এমন সাইনবোর্ড?

মুম্বইয়ের 'গৌরী কুঞ্জ' বাংলোর বাইরে ঝুলত একটি সাইনবোর্ড—'Beware of Kishore Kumar'। এটি নিছক মজা ছিল না। একবার এক পরিচালক বকেয়া পারিশ্রমিক মিটিয়ে করমর্দন করতে গেলে কিশোর কুমার নাকি সত্যিই তাঁর হাতে কামড়ে দেন। পরে মজা করে বলেন, বাইরে লেখা সতর্কবার্তাটি আগে পড়া উচিত ছিল। শুধু তাই নয়, আর এক প্রযোজকের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা বকেয়া না পেয়ে তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে নাচতে নাচতে টাকা দাবি করেছিলেন বলেও শোনা যায়। এমনই আরও মজার কাণ্ডকারখানা রয়েছে এই কিংবদন্তিকে ঘিরে।

কিশোর কুমারের একটি নীতি ছিল—'আগে টাকা, তারপর কাজ।' একবার এক প্রযোজক পুরো পারিশ্রমিক না দিয়ে অর্ধেক টাকা দেন। প্রতিবাদে কিশোর কুমার মুখের এক পাশেই মেকআপ করে শুটিং ফ্লোরে হাজির হন। কারণ জানতে চাইলে তাঁর জবাব ছিল, ‘অর্ধেক টাকা, তাই অর্ধেক মেকআপ!’

২. গাছের সঙ্গেই চলত গল্প

চকচকে পার্টির চেয়ে প্রকৃতির সঙ্গেই সময় কাটাতে বেশি ভালোবাসতেন তিনি। নিজের বাগানের প্রতিটি গাছের আলাদা নাম রেখেছিলেন। অবসর পেলেই গাছগুলোর সঙ্গে গল্প করতেন, যেন তারা তাঁর পরিবারেরই সদস্য।

৩. সাংবাদিককে খাঁচার ভেতরে বন্দি!

একবার এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকার নিতে তাঁর বাড়িতে গেলে কিশোর কুমার তাঁকে ড্রয়িংরুমে বসিয়ে রেখে একটি বড় খাঁচা এনে তাঁর মাথার ওপর চাপিয়ে দেন। তারপর বলেন, ‘খাঁচার ভেতরে থাকা প্রাণীদের কেমন লাগে, এবার বুঝতে পারবেন।’ ঘটনাটি তাঁর অদ্ভুত রসবোধের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে এখনও আলোচিত।

৪. আলমারির ভেতর থেকে পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক

একজন পরিচালক সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে তাঁর বাড়িতে গেলে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর আলমারির ভেতর থেকে কিশোর কুমারের গলা শুনতে পান। পরে দেখা যায়, তিনি আলমারির মধ্যেই বসে স্ক্রিপ্ট ও পারিশ্রমিক নিয়ে আলোচনা করছেন!

৫. বাড়ির দেওয়ালে কঙ্কাল ঝুলিয়ে অতিথিদের ভয় দেখাতেন

নিজের বাড়ির বসার ঘরে কঙ্কাল ও মানুষের মাথার খুলির প্রতিরূপ সাজিয়ে রাখতেন তিনি। নতুন অতিথি বা প্রযোজক এলেই ঘরের আলো নিভিয়ে সেগুলো জ্বালিয়ে দিতেন। অনেকেই ভয় পেয়ে যেতেন, আর সেটাই ছিল তাঁর অন্যতম প্রিয় দুষ্টুমি।

৬. নিজের মৃত্যুকেও নিয়েও করেছিলেন রসিকতা

জীবনের শেষ দিকেও তাঁর রসবোধ অটুট ছিল। বন্ধুদের তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি মারা গেলে কেউ কাঁদবে না। সবাই আমার চারপাশে দাঁড়িয়ে হইচই করবে, পপকর্ন খাবে।’ মৃত্যুর মতো গুরুতর বিষয় নিয়েও তিনি এমন হালকা মেজাজে কথা বলতে পারতেন।

আজও অমলিন কিশোর কুমার

গায়ক, অভিনেতা, সুরকার কিংবা কৌতুকপ্রিয় মানুষ—প্রতিটি পরিচয়েই ছিলেন ব্যতিক্রমী। তাঁর গান যেমন আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে আছে, তেমনই তাঁর অদ্ভুত, মজার এবং খামখেয়ালি জীবনের গল্পও আজও সমান আগ্রহ নিয়ে শোনেন ভক্তরা। তাই কিশোর কুমার শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি ভারতীয় বিনোদন জগতের এক চিরকালীন কিংবদন্তি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe