ডটার্স ডে-র দিন মেয়ে সাইনা চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে আবেগমাখা পোস্ট ভাগ করে নিলেন সংযুক্তা চট্টোপাধ্যায়। অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের আচমকা মৃত্যু ছন্নছাড়া করেছিল মা-মেয়ের জীবন। তবে একে-অপরকে নিয়েই সামলে নিয়েছেন হঠাৎ আসা সেই আঘাত। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন সাইনা। বলা চলে, গোটা বাংলার মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন নিজের সরল-মিষ্টি স্বভাব দিয়ে।

ডটার্স ডে-তে মেয়ের জন্য সংযুক্তা লিখলেন, ‘সাইনা বা ডল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ, আমার শক্তি এবং অনেক দিক থেকেই আমার শিক্ষাগুরু। অভিষেক চলে যাওয়ার পর থেকে সে আমার পাশে এক শক্ত পাঁচিলের মতো দাঁড়িয়ে আছে। আমার জীবনটা তাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়, তবে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে তা হলো মাত্র ১৬ বছর বয়সেও তার অসাধারণ ম্যাচিওরিটি। ওর এমন একটা বয়স যেখানে এত মানুষের ভালোবাসা, মনযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার কারণে পরিস্থিতির স্রোতে ভেসে যাওয়া খুব স্বভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু সেখানেও ও এক অসাধারণ ভারসাম্য ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর ওর যে দক্ষতা, তার থেকে মাঝে মাঝে আমাকেও শিক্ষা নিতে হয়।’
‘ও ইতিবাচক, প্রগতিশীল চিন্তাধারার মানুষ। তবে সর্বোপরি, ও অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। ও মানুষকে সম্মান দেয়। যে নিরাপত্তারক্ষী ওর জন্য দরজা খুলে দেন, তাকে 'ধন্যবাদ' জানায়। যে গেটকিপার তাকে সম্ভাষণ জানান, তাকে সে গুরুত্ব দেয়। মানুষটি কে বা কোথা থেকে এসেছেন—তা বিচার না করেই সে প্রয়োজনে থেমে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি ঠিক আছেন?’ মানুষের অনুভূতির প্রতিও অত্যন্ত যত্নশীল। সামাজিক মর্যাদা, বয়স বা পদের ওপর ভিত্তি করে কাউকে সম্মান জানানোয় একেবারেই বিশ্বাসী নয় ও। একজন মা এর থেকে বেশি আর কী চাইতে পারে। সে আমার মেয়ে, আমার ডল। কিন্তু সে আমার মা দুর্গা—আমার শক্তি। আমার মা কালী—আমার সাহস। আমার মা লক্ষ্মী—আমার আশীর্বাদ। আমার মা সরস্বতী—আমার প্রজ্ঞা। জন্ম হয়তো আমিই দিয়েছি, কিন্তু এমন অনেক দিন গিয়েছে যখন মনে হয়েছে সেই আমার হাত ধরে আমাকে সঠিক পথ দেখাচ্ছে। 'ডটার্স ডে'-র শুভেচ্ছা, ডল। তুমি চিরকাল এমনই দয়ালু, মাটির কাছাকাছি থাকা, দৃঢ়চেতা ও সুন্দর মনের মানুষ হয়ে থেকো।’, মেয়ের উদ্দেশে আরও লেখেন সংযুক্তা।