‘মেরা দিল ভি কিতা পাগল হে’, ‘তুজে দেকা তো ইয়েহ জানা সানম’, ‘বাস এক সনম চাহিয়ে আশিকি কের লিয়ে’… যদি কেউ ৯০-এর দশকের গানগুলোর ভক্ত হন, তবে নিশ্চয়ই এই গানগুলো শুনে থাকবেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না এই গানগুলোর কণ্ঠদানকারী গায়কের নাম গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে রয়েছে। জানেন তিনি কে?

এই গায়কের নাম কুমার শানু। কুমার শানুর নাম গত ৩৩ বছর ধরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে রয়েছে। কেন? আসলে, কুমার শানু এক দিনে ২৮টি গান রেকর্ড করেছিলেন। তিনি এটি করেছিলেন কারণ তিনি ৪০ দিনের ইউএস ট্যুরে যাচ্ছিলেন এবং সমস্ত পেন্ডিং কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন।
কেন নাম পরিবর্তন করেছিলেন?
কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী কুমার শানুর আসল নাম শানু ভট্টাচার্য। কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ কল্যাণজি-আনন্দজি যখন কুমার শানুর কণ্ঠ শুনেছিলেন, তখন তিনি তাকে নাম পরিবর্তন করে কুমার শানু রাখার পরামর্শ দেন কারণ তিনি মনে করেন কুমার শানুর গায়কির ধরন সম্পূর্ণরূপে কিশোর কুমারের মতো।
'আশিকি' রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিয়েছিল
১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ফিল্ম ‘আশিকি'-র গানগুলোর কারণে ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পের ইতিহাস বদলে গিয়েছিল। এই ছবির ব্লকবাস্টার সফলতা কুমার শানুকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। এই ছবির মাধ্যমেই তার সফলতার সেই যাত্রা শুরু হয় যা ক্রমাগত এগিয়ে চলে।
ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
{{/usCountry}}ফিল্মফেয়ার পুরস্কার
{{/usCountry}}তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত ধারাবাহিক ৫ বছর ফিল্মফেয়ার বেস্ট মেল প্লেব্যাক সিঙ্গার পুরস্কার জিতেছিলেন। তিনি এই পুরস্কার ‘সজন’ (১৯৯১), ‘দিওয়ানা’ (১৯৯২), ‘বাজিগর’ (১৯৯৩) এবং ১৯৪২: এ লাভ স্টোরি (১৯৯৪) এর জন্য পেয়েছিলেন।
পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি
ধারাবাহিক পাঁচবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতার পর, যখন ষষ্ঠ বছরেও কুমার শানুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তখন তিনি উদারতা দেখিয়ে এই পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল যে, এখন এই সম্মান কোনও নতুন এবং উদীয়মান শিল্পীকে পাওয়া উচিত।
পদ্মশ্রী সম্মান
৯০-এর দশকে কুমার শানু সব বড় অভিনেতার প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি সেই সময়ের কিংবদন্তী শিল্পীদের জন্য শত শত সুপারহিট গান গেয়েছেন। তিনি কেবল হিন্দি এবং বাংলা ভাষায় নয়, বরং দেশের ১৫টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়েছেন। তার এই অবদানের জন্য ভারত সরকার ২০০৯ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করে।