টলিপাড়ার ‘আকাশ কুসুম’ ধারাবাহিকের নায়ক তিনি। কিন্তু পর্দার সেই চেনা মেজাজ ছাপিয়ে বাস্তব জীবনে এবার খবরের শিরোনামে অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায়। তবে কোনও নতুন কাজের জন্য নয়, খোদ নিজের বাড়ির পরিচারিকাকে শারীরিক হেনস্থা ও অত্যাচারের অভিযোগে আপাতত উত্তাল নেটপাড়া। অভিনেতার বিরুদ্ধে হরিদেবপুর থানায় রীতিমতো মারধরের অভিযোগ এনেছেন ওই পরিচারিকা। তবে এই মারাত্মক অভিযোগের মুখে চুপ থাকেননি সম্রাট। পাল্টা তোপ দেগে গোটা ঘটনাকে ‘মিথ্যে’ এবং ‘ব্ল্যাকমেল’-এর চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন তিনি।

শখের বহুমূল্য আংটি গায়েব, সন্দেহ দানা বাঁধতেই অশান্তি
আসলে ঘটনার সূত্রপাত সম্রাটের একটি শখের বহুমূল্য আংটি হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে। অভিনেতা জানান, তাঁর বাড়িতে দারোয়ান এবং বাচ্চার দেখাশোনার জন্য দু’জন আলাদা কর্মী আছেন, যাঁরা কেউই সম্রাটের শোওয়ার ঘরে ঢোকেন না। কিন্তু ঘর পরিষ্কার করার জন্য শুধু ওই পরিচারিকাই ঘরে ঢুকতেন। আংটিটি না মেলায় দারোয়ানের সঙ্গে ওই পরিচারিকার তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। দারোয়ানের থেকে খবর পেয়ে সম্রাট বাড়ি ফিরে আসেন।
সম্রাটের দাবি, বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন পরিচারিকা জোর জবরদস্তি বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আংটি চুরির কথা অস্বীকার করে তিনি বারবার বলতে থাকেন, "আমি এখনই বেরিয়ে যাব।" পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সম্রাট সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশ না আসা পর্যন্ত তাঁকে যেতে দেওয়া হবে না।
‘পালানোর সময় সিঁড়িতে পা পিছলে পড়ে যান’
হরিদেবপুর থানায় খবর দেওয়া হলে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আসে মহিলা পুলিশও। সম্রাটের অভিযোগ, ওই পরিচারিকা আংটি চুরির কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এমনকি পুলিশ তাঁকে ৫ হাজার টাকার পুরস্কারের টোপ দিলেও তিনি মুখ খোলেননি। এরপরই সম্রাট পরিচারিকার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেন।
{{/usCountry}}হরিদেবপুর থানায় খবর দেওয়া হলে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আসে মহিলা পুলিশও। সম্রাটের অভিযোগ, ওই পরিচারিকা আংটি চুরির কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এমনকি পুলিশ তাঁকে ৫ হাজার টাকার পুরস্কারের টোপ দিলেও তিনি মুখ খোলেননি। এরপরই সম্রাট পরিচারিকার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেন।
{{/usCountry}}পরিচারিকার গায়ে হাত তোলার অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে অভিনেতা বলেন:
"আমি এফআইআর করার পরেই উনি একদল লোকজন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে যান। আসলে চোরের মায়ের বড় গলা! পালানোর জন্য উনি যখন পাগলের মতো দৌড়াদৌড়ি করছিলেন, তখন সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পা পিছলে লোহার রেলিঙে ওঁর কপালে চোট লাগে। আমরা মারলে তো পুলিশ দেখতে পেত। পুলিশ আসার পরেই তো ওঁকে ছাড়া হয়েছে।"
অভিনেতাদের হেনস্থা করা সহজ! আক্ষেপ সম্রাটের
চলতি মাসেই সম্রাটের শাশুড়ির একটি সোনার হার চুরি গিয়েছিল বলে দাবি অভিনেতার। কিন্তু সেবার উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় তিনি পুলিশে যাননি, শুধু বাড়ির সবাইকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু এবার পরপর এমন ঘটনায় সন্দেহ তীব্র হয়।
হারানো আংটিটি এখনও উদ্ধার হয়নি। আক্ষেপের সুরে সম্রাট জানান, আংটিটি ওঁর অত্যন্ত শখের ও মূল্যবান ছিল। তাই হাতজোড় করে পরিচারিকাকে বলেছিলেন, নিয়ে থাকলে ফেরত দিয়ে দিতে, পুলিশে দেওয়া হবে না। কিন্তু সম্রাটের মতে— ওনারা ভাবেন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে একজন অভিনেতাকে হেনস্থা করা খুব সহজ। ভয় দেখিয়ে যাতে এফআইআর তুলে নেওয়া যায়, সেই কারণেই পরিচারিকা এই মনগড়া মিথ্যে মারধরের গল্প ফাঁদছেন। টলিপাড়ার এক পরিচিত মুখ এবং তাঁর পরিচারিকার এই থানা-পুলিশের লড়াই এখন কোন মোড় নেয়, সেটাই দেখার।