তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে সোমবারে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-তে যোগ দেওয়া এবং পুনরায় রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)-কে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় অব্যাহত। এবার এই দলবদল নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি (Kalyan Banerjee)।

কোয়েলকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে বিঁধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য— রূপালী পর্দায় কোয়েল নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তবের রাজনৈতিক ময়দানে তিনি একজন ‘ভিলেন’।
‘সকালবেলা নায়িকা, বিকালবেলা ভিলেন’— কল্যাণের তীব্র আক্রমণ
কোয়েলের ইস্তফা ও তার পরপরই গেরুয়া শিবিরের টিকিটের পেছনে সুযোগসন্ধানী রাজনীতি দেখছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কোয়েলের এই হঠাৎ রাজনৈতিক অবস্থান বদলকে তীব্র সমালোচনা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সে তো শুভেন্দু অধিকারীও আগে তৃণমূলে ছিল, এরা সবাই ভালো অভিনেত্রী। সকালবেলা নায়িকা, বিকালবেলা ভিলেন।’
নীতি ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন কুণালের
কল্যাণের পাশাপাশি মমতার বিধায়ক কুণাল ঘোষ কোয়েলের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরও বলেন যে, ভোটের মুখে সুযোগ নিয়ে তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হওয়া এবং পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে বিজেপির হাত ধরা কেবল পদ ও ক্ষমতার লোভে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ এবং কোয়েলের অনুগামীরা এই রূপ পরিবর্তনকে কখনোই ভালো চোখে মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, ‘যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন আপনার সাংসদ হওয়ার যাওয়ার জন্য তৃণমূলকে খুব ভাল লাগত। আর আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নেই, সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে বিজেপি-তে যেতে হল। এই কারণেই প্রশ্ন ওঠে দিদিমণি এই সমস্ত জিনিসপত্রকে নিয়েছিলেন কেন? সদিচ্ছা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টদের রাজনীতিতে এনেছিলেন, জনপ্রতিনিধি করেছিলেন৷ তৃণমূলে সমাজের সব ক্ষেত্রের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছিল৷ মমতাদি সৌজন্য দেখিয়েছিলেন, আজ কয়েকজন বিশ্বাসঘাতক প্রমাণ করে দিয়েছেন এই সৌজন্য সবার জন্য নয়'।
{{/usCountry}}তিনি বলেন, ‘যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন আপনার সাংসদ হওয়ার যাওয়ার জন্য তৃণমূলকে খুব ভাল লাগত। আর আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নেই, সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে বিজেপি-তে যেতে হল। এই কারণেই প্রশ্ন ওঠে দিদিমণি এই সমস্ত জিনিসপত্রকে নিয়েছিলেন কেন? সদিচ্ছা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টদের রাজনীতিতে এনেছিলেন, জনপ্রতিনিধি করেছিলেন৷ তৃণমূলে সমাজের সব ক্ষেত্রের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছিল৷ মমতাদি সৌজন্য দেখিয়েছিলেন, আজ কয়েকজন বিশ্বাসঘাতক প্রমাণ করে দিয়েছেন এই সৌজন্য সবার জন্য নয়'।
{{/usCountry}}৩. রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে কোয়েলের অবস্থান
এর আগে বিজেপি কর্তৃক রাজ্যসভার প্রার্থী মনোনীত হওয়া এবং দলবদলের কারণে নেটিজেনদের তীব্র ট্রোল ও 'দলবদলু' কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন টলিউড কুইন। এবার শাসকদলের হেভিওয়েট সাংসদের এই সরাসরি আক্রমণে সেই বিতর্কের আগুনে যেন ঘৃতাহুতি পড়ল।
যদিও এই বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্ব বা কোয়েল মল্লিকের তরফ থেকে পালটা প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি, তবে রাজ্যসভা ভোটের আগে টলিউড তারকার এই পলিটিক্যাল শিফট যে বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।