মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কয়েকটি ছাত্র সংগঠন। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে এই আন্দোলন হওয়ার কথা। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে আন্দোলন শুরুর আগে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে বিতর্কে জড়ালেন গীতিকার ও লেখক মনোজ মুনতাশির। ভিডিওতে সিজেপি এবং দলের নেতা অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও নিশানা করেছেন মনোজ।

দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে কী বললেন মনোজ মুনতাশির?
নিজের ভিডিওর শুরুতেই জেন জি, জেন আলফা, মিলেনিয়ালস-সহ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দেন মনোজ। তাঁর দাবি, তরুণদের ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে এবং তাঁরা বুঝতে পারছেন না, কারা তাঁদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
মনোজ বলেন, “আমার বাচ্চারা, জেন জি, জেন আলফা, মিলেনিয়ালস, জেনেলিয়ালস—এই ভিডিওটি তৈরি করছি কারণ এখন এটা জরুরি হয়ে পড়েছে। আপনাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আপনারা এতটাই সরল যে হাতার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সাপগুলো দেখতে পাচ্ছেন না।”
তিনি আরও বলেন, এত দিন নিজের ভিডিওতে কোনও রাজনীতিকের নাম নেননি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নাম না করে কথা বলা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে মনোজের বক্তব্য, আন্দোলন করা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। শান্তিপূর্ণ ও অহিংস উপায়ে সরকারের কাছে নিজেদের বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারেন তাঁরা। তবে সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে কারা রয়েছেন, তা জানাও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
অভিজিৎ দীপকেকে কেজরিওয়ালের ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ
{{/usCountry}}অভিজিৎ দীপকেকে কেজরিওয়ালের ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ
{{/usCountry}}ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন মনোজ মুনতাশির। তাঁর দাবি, অভিজিৎ দীপকে আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ‘বি-টিম’ হিসেবে কাজ করছেন।
মনোজের কথায়, “আপনাদের রাস্তায় নামিয়ে কেউ সত্যিই দেশের ভালো করতে চাইছেন, নাকি আপনাদের ব্যবহার করে নিজের ক্ষমতার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন, সেটা জানা জরুরি। কোনও কথা ঘুরিয়ে না বলে দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই, অভিজিৎ দীপকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বি-টিম। নিজের নেতার বড় পরাজয়ের পর তাঁকে ক্ষমতায় ফেরানোর জন্যই তিনি আপনাদের শক্তি ব্যবহার করছেন।”
অভিজিৎকে উদ্দেশ করে মনোজ আরও বলেন, তিনি অরবিন্দ কেজরিওয়াল, রাহুল গান্ধী কিংবা অন্য কোনও নেতার সমর্থক হতেই পারেন। কিন্তু নিরপেক্ষতার ভান করা উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, যেসব তরুণ অভিজিতের উপর ভরসা করছেন, তাঁদের সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দেওয়া উচিত।
ধ্রুব রাঠিকেও নিশানা মনোজের
শুধু অভিজিৎ দীপকে নন, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন মনোজ মুনতাশির। তাঁর অভিযোগ, সিজেপি শুধুমাত্র সেই রাজ্যগুলির স্কুলে সমস্যা খুঁজছে, যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণদের বোকা ভাবা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ধ্রুব রাঠিকে কটাক্ষ করে মনোজ বলেন, সুযোগের অপেক্ষায় থাকা ওই ইউটিউবার ভারতে এসেছেন। তাঁর দাবি, দেশের সাফল্যের মধ্যেও ষড়যন্ত্র খুঁজে বেড়ান ধ্রুব। মনোজের বক্তব্য, দেশের প্রশংসা করার সুযোগ থাকলেও ধ্রুব উল্টে দেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে এসেছেন।
‘দেশের প্রতি ওদের ভালোবাসা নিয়ে সন্দেহ হওয়া উচিত’
ভিডিওতে আরও এক ধাপ এগিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মনোজ মুনতাশির। তাঁর দাবি, এই ব্যক্তিদের অর্থায়ন সীমান্তের ওপার থেকে হয়। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে ভিডিওতে কোনও প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।
মনোজের বক্তব্য, দেশের তরুণদের বোঝা উচিত কারা তাঁদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তাঁদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী। তাঁর অভিযোগ, কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চাইছেন।
তরুণদের উদ্দেশে মনোজ বলেন, তাঁদের প্রতিবাদকে জয়প্রকাশ নারায়ণ বা আন্না হাজারের মতো ব্যক্তিত্বের আন্দোলনের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁর দাবি, বর্তমান আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যাঁরা তরুণদের শক্তিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছেন।
ভিডিওর শেষে তরুণদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মনোজ বলেন, তাঁরা কি ভারতকে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান? তাঁর বক্তব্য, যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের নিজেদের বিবেচনা দিয়ে নেতৃত্বের উদ্দেশ্য যাচাই করা উচিত।
উল্লেখ্য, অভিজিৎ দীপকে, ধ্রুব রাঠি এবং সিজেপিকে নিয়ে মনোজ মুনতাশিরের বক্তব্য ও অভিযোগগুলি তাঁর প্রকাশিত ভিডিওর ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।