অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার মেরি কমের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছেন তাঁর প্রাক্তন স্বামী ওনলার কম। অভিযোগ, টেলিভিশন-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্মে মেরি তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা তাঁর সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন।

কী হতে পারে সাজা?
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা BNS-এর ৩৫৬ ধারায় এই মামলা করা হয়েছে। এই ধারা মানহানির সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা দু’টিই হতে পারে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৯ নভেম্বর ২০২৬-এ হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন আইনি পদক্ষেপ ওনলারের?
রিপোর্ট অনুযায়ী, মেরি কমের টেলিভিশন শো এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে করা মন্তব্যের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার কথা ভাবছিলেন ওনলার। শেষ পর্যন্ত সেই পথেই হাঁটলেন তিনি।
মামলা নিয়ে ওনলার জানিয়েছেন, বিষয়টি যেহেতু বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই তিনি এ নিয়ে বেশি কিছু বলতে চান না। তাঁর কথায়, “আমার মামলা যথেষ্ট শক্তিশালী। ভারতের আইনি ব্যবস্থার উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
মেরি কম কী অভিযোগ করেছিলেন?
মেরি কম আগে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর বক্সিং কেরিয়ার থেকে উপার্জিত কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাঁকে প্রতারণা করা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, তাঁর নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তাঁর সম্পত্তি বন্ধক রাখা হয়েছে এবং তাঁর অনুমতি ছাড়াই কিছু সম্পত্তি ও সম্পদ অন্যের নামে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে মেরির এই সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ওনলার। এমনকী তিনি মেরিকে ওই অভিযোগগুলির প্রমাণ দেওয়ার চ্যালেঞ্জও জানিয়েছিলেন।
{{/usCountry}}তবে মেরির এই সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ওনলার। এমনকী তিনি মেরিকে ওই অভিযোগগুলির প্রমাণ দেওয়ার চ্যালেঞ্জও জানিয়েছিলেন।
{{/usCountry}}কীভাবে শুরু হয়েছিল মেরি-ওনলারের সম্পর্ক?
মেরি কম ও ওনলার কমের পরিচয় হয়েছিল ২০০০ সালে দিল্লিতে। সেই সময় ওনলার ছিলেন ছাত্র। একটি প্রতিযোগিতায় যাওয়ার সময় মেরির জিনিসপত্র হারিয়ে গেলে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন ওনলার। সেখান থেকেই তাঁদের সম্পর্কের সূত্রপাত।
পরবর্তীতে তাঁরা বিয়ে করেন। ২০০৭ সালে তাঁদের যমজ দুই ছেলে হয়। এরপর ২০১৩ সালে তাঁদের আরও এক পুত্রসন্তান জন্মায়। ২০১৮ সালে একটি কন্যাসন্তান দত্তক নেন মেরি ও ওনলার। তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের ইচ্ছা ছিল একটি কন্যাসন্তানকে পরিবারে আনার।
বর্তমানে অবশ্য তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। মেরির বিরুদ্ধে ওনলারের করা এই মানহানির মামলা এখন আদালতে বিচারাধীন।