ভারতীয় চলচ্চিত্রে মিটু আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া তনুশ্রী দত্ত (Tanushree Dutta)-এর হাত ধরে। প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকর (Nana Patekar)-এর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন তনুশ্রী। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর অনুরাগী থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম— সবার নজরই ছিল তনুশ্রীর প্রতিক্রিয়ার দিকে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে বেশ সরব দেখা যায় অভিনেত্রীকে। অবশেষে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।
বিমানবন্দর থেকে ভিডিও বার্তা ও তনুশ্রীর বক্তব্য
একটি ইভেন্টে যোগ দিতে লখনউ যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও শেয়ার করেন তনুশ্রী। সেখানে নানার নাম সরাসরি না উচ্চারণ করলেও পুরো বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি খবরটা শুনেছি। আজ আমার কাজের দিন, লখনউতে একটা খুব বড় ইভেন্টের জন্য যাচ্ছি এবং আমি সেখানে মন দিতে চাই। কী অদ্ভুত একটা দিনে সবটা ঘটলো! আমার পুরো দিনের প্ল্যান করা ছিল— লাইভ করা, কনটেন্ট পোস্ট করা... আর এখন আমার চিন্তা হচ্ছে যে বিকেলে সংবাদমাধ্যম হয়তো শুধু ‘ইভিল ডেড’ (Evil Dead)-কে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। আমি কী ধরণের প্রতিক্রিয়া দেব তা আগে ভেবে নিই, তারপর প্রতিক্রিয়া দেব। তবে হ্যাঁ, পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল কিন্তু…’।
তবে পরিবারকে সমবেদনা জানালেও পুরো বার্তায় নানা পাটেকরের নাম একবারও মুখে আনেননি তিনি।
{{/usCountry}}তবে পরিবারকে সমবেদনা জানালেও পুরো বার্তায় নানা পাটেকরের নাম একবারও মুখে আনেননি তিনি।
{{/usCountry}}ঘটনার দিন সকালের পোস্ট
খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তনুশ্রী একাধিক পোস্ট ও স্টোরি দেন:
সকালে দুর্গা মায়ের একটি প্রার্থনার পাশাপাশি হিন্দিতে লেখা একটি বার্তা পোস্ট করেন, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়— ‘আমার সাথে একটি সোনালী ছায়া হাঁটে, যা আমি মন্দির থেকে অর্জন করেছি।’
এছাড়াও এদিন বিমানবন্দরে হেঁটে যাওয়া এবং স্যান্ডউইচ খাওয়ার কিছু সেলফি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি।
তনুশ্রী ও নানার পুরোনো বিবাদ:
২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ (Horn Ok Pleasss) ছবির সেটে একটি আইটেম নম্বর শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী। ২০১৮ সালে সেই ঘটনা নিয়ে পুনরায় সোচ্চার হয়ে ভারতে মিটু আন্দোলনের জন্ম দেন তিনি। যদিও নানা পাটেকর সবসময় এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছিলেন এবং ২০১৯ সালে প্রমাণের অভাবে মুম্বাই পুলিশ মামলাটিতে বি-সামারি (B-Summary) রিপোর্ট জমা দিয়ে বন্ধ করে দেয়।