বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান তাঁর সহ-অভিনেতাদের প্রতি কতখানি যত্নশীল সে কথা কথা ইন্ডাস্ট্রিতে সর্বজনবিদিত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই উষ্ণতা ও ভালোবাসার অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নিলেন গুণী অভিনেত্রী মিতা বশিষ্ঠ। মনি রত্নমের কালজয়ী ছবি ‘দিল সে’ (১৯৯৮)-এর শুটিং সেটের এক রোমাঞ্চকর ঘটনা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি জানালেন, কীভাবে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে শাহরুখ খান তাঁর জীবন রক্ষা করেছিলেন!

পাহাড়ের চূড়া থেকে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে প্রাণ বাঁচান শাহরুখ:
হিমাচল প্রদেশের ডালহৌসির কনকনে ঠাণ্ডায় চলছিল ‘দিল সে’ ছবির শুটিং। দৃশ্যটি ছিল, মিতা বশিষ্ঠ হাতে একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল নিয়ে অন্ধভাবে হাঁটতে থাকা শাহরুখকে পথ দেখাচ্ছেন।
সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে মিতা বলেন, ‘আমাদের জুতোর তলাগুলো প্লাস্টিকের হওয়ায় মাটির গ্রিপ ঠিক পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিচালক মনি স্যার ক্রমাগত বলছিলেন, ‘পেছাও, পেছাও!’ আমি আস্তে আস্তে পেছাচ্ছিলাম। হঠাৎই অনুভবে এলো আমি শূন্যে তলিয়ে যাচ্ছি এবং আকাশের দিকে মুখ উঠে গেছে! আমি বুঝতে পারি, পাহাড়ের খাদের একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলাম এবং নিচে পড়ে যাচ্ছিলাম।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সেই মুহূর্তে শাহরুখের রিফ্লেক্স (ক্ষিপ্রতা) ছিল অসাধারণ! এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে উনি এগিয়ে এসে আমার জ্যাকেটের কলার ধরে আমাকে টেনে ওপরে তোলেন। ওভাবে ভারী বন্দুক নিয়ে খাদে পড়ে গেলে কী যে হতো জানি না, কিন্তু শাহরুখের উপস্থিত বুদ্ধিতে সেদিন আমার প্রাণ বাঁচে!’
সেটে সুরক্ষা ও বিশেষ যত্ন:
{{/usCountry}}সেটে সুরক্ষা ও বিশেষ যত্ন:
{{/usCountry}}শুটিংয়ের আরও কিছু ভালোবাসার গল্প শেয়ার করে মিতা জানান, ছবিতে একটি অ্যাকশন সিকোয়েন্স ছিল যা শেষ পর্যন্ত মূল ছবিতে রাখা হয়নি। সেই দৃশ্যে যখনই শাহরুখ মিতাকে পাথরের দেওয়ালে ধাক্কা দিতেন, প্রতিবার নিজের হাতের তালু মিতার মাথার পেছনে রাখতেন যাতে তাঁর মাথায় আঘাত না লাগে।
এমনকি হাত ফসকে একটি পাথর গিয়ে শাহরুখের মাথায় লেগে কেটে গেলেও, অভিনেতার আচরণে বিন্দুমাত্র বিরক্তি আসেনি, বরং তিনি মিতার প্রতি সমান সহানুভূতিশীল ছিলেন।
কালজয়ী ‘দিল সে’ ছবির স্মৃতি:
১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া মনি রত্নমের রোমান্টিক থ্রিলার ‘দিল সে’-তে অল ইন্ডিয়া রেডিওর সাংবাদিক অমরের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ খান এবং তাঁর বিপরীতে ছিলেন মণীষা কৈরালা ও প্রীতি জিন্টা। ছবিতে একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিতা বশিষ্ঠ। এ আর রহমানের সঙ্গীত পরিচালনায় ‘ছাইয়া ছাইয়া’-র মতো কালজয়ী গান এখনও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর হয়ে রয়েছে।