রুপোলি পর্দার ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ বা রাজনৈতিক মঞ্চের ‘মহাগুরু’— মিঠুন চক্রবর্তীকে আমরা বিভিন্ন মেজাজে দেখেছি। কিন্তু ঘরের অন্দরে তিনি কেমন শ্বশুরমশাই? সেই ব্যক্তিগত রসায়ন নিয়েই এবার মুখ খুললেন তাঁর পুত্রবধূ তথা অভিনেত্রী মাদালসা শর্মা। মহাক্ষয় চক্রবর্তীর ঘরণী স্পষ্ট জানালেন, সন্তান নেওয়ার মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে মিঠুন বা শ্বশুরবাড়ির কেউই তাঁর ওপর কোনো রকম চাপ সৃষ্টি করেন না।

ব্যক্তিগত পরিসরে মিঠুন:
মাদালসা জানান, বাইরে থেকে মিঠুন চক্রবর্তীকে গম্ভীর মনে হলেও পরিবারের সদস্যদের স্বাধীনতার বিষয়ে বিশেষত নারী স্বাধীনতার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত উদার। বর্তমান সমাজে অনেক পরিবারেই বিয়ের পর সন্তান নেওয়ার জন্য পুত্রবধূর ওপর এক ধরনের সামাজিক বা পারিবারিক চাপ তৈরি করা হয়। কিন্তু চক্রবর্তী পরিবার এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। মাদালসা বলেন, ‘শ্বশুরমশাই (মিঠুন) সবসময় আমার কেরিয়ার এবং ইচ্ছাকে সম্মান করেন। আমরা কখন মা-বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেব, তা সম্পূর্ণ আমাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।’
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে মিঠুনের বড় ছেলে মহাক্ষয় চক্রবর্তী ওরফে মিমোর সঙ্গে বিয়ে হয় মালদাসার। তারপর ৮ বছর কেটেছে, এখনও মাতৃত্বকে আলিঙ্গন করেননি অভিনেত্রী।
কেরিয়ারকে প্রাধান্য:
টেলিভিশন দুনিয়ার পরিচিত মুখ মাদালসা। নিজের কাজ নিয়ে তিনি এখন ভীষণ ব্যস্ত। মাদালসার কথায়, মিঠুন চক্রবর্তী সবসময় তাঁকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে এবং নিজের পরিচয় তৈরি করতে উৎসাহিত করেন। ‘তিনি কোনওদিন আমাকে বা মিমোহকে বলেননি যে এবার আমাদের পরিবার বাড়ানো উচিত। বরং তিনি চান আমরা যেন নিজেদের জীবনে খুশি থাকি এবং কাজ নিয়ে এগিয়ে যাই,’— দাবি অভিনেত্রীর। মিঠুনের তিন পুত্র- মিমো, উষ্ময় এবং নমশিরু। এবং এক দত্তক কন্যা রয়েছে। নাম দিশানি।
আধুনিক মানসিকতার পরিচয়:
{{/usCountry}}আধুনিক মানসিকতার পরিচয়:
{{/usCountry}}মাদালসা ও মহাক্ষয়ের বিয়ের বেশ কয়েক বছর পার হয়ে গেলেও এই দম্পতি নিজেদের শর্তে জীবন কাটাতে পছন্দ করেন। চক্রবর্তী পরিবারের এই আধুনিক ও মুক্তমনা মানসিকতার প্রশংসা করেছেন নেটিজেনরাও। একজন মেগাস্টার হয়েও বাড়ির বৌমার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার এই দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল।
মাদালসা বর্তমানে তাঁর অভিনয় জীবন এবং বৈবাহিক জীবন— দুইই দারুণভাবে উপভোগ করছেন। আর এই যাত্রায় ঢাল হয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং ‘মিঠুনদা’। ছোটপর্দায় পরিচিত মুখ মালদাসা। অনুপমা সিরিয়ালে তাঁর অভিনয় দর্শক মনে দাগ কেটেছিল। নিজের শর্তেই সেই সিরিয়াল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মিঠুনের পুত্রবধূ।