রাজধানী দিল্লিতে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো মণিপুরের বিশিষ্ট প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী ও গিটারিস্ট চোংথম বিক্রম সিংকে (Chongtham Vikram Singh)। উত্তর-পূর্ব ভারতের রক মিউজিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ তথা ৫৪ বছর বয়সী এই সঙ্গীতসাধকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত সঙ্গীতমহল ও মণিপুরি সম্প্রদায়।
অ্যাপার্টমেন্টের সামনে হট্টগোল আটকানোই কি কাল হলো?
দিল্লির এক অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন বিক্রম। সূত্রের খবর, সোমবার রাতে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টের ঠিক বাইরে কয়েকজন লোক মদ্যপান করে তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদে বিক্রম সিং তাঁদের বাধা দিতে ও সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। তাতেই শুরু হয় বচসা। মুহূর্তের মধ্যে তা সংঘর্ষের রূপ নেয় এবং অভিযুক্তেরা প্রবীণ এই সঙ্গীতশিল্পীকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর ছেলে তাঁকে তড়িঘড়ি 'হোলি ফ্যামিলি' হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই নৃশংস ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এ পর্যন্ত ৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১ জন নাবালককে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতেরা স্থানীয় বিভিন্ন ধাবায় কাজ করত বলে জানা গেছে।
মণিপুর থেকে দিল্লি— এক সুরের সফর
মণিপুরের ইম্ফল ওয়েস্টের বাসিন্দা বিক্রম সিং প্রায় ১৭ বছর ধরে দিল্লিতে বসবাস করছিলেন। মণিপুরের ওয়েস্টার্ন মিউজিক এবং রক ব্যান্ডগুলোতে তরুণ বয়স থেকেই গিটারিস্ট হিসেবে তুমুল নাম কুড়িয়েছিলেন তিনি। দিল্লিতে এসে নিজে মিউজিক স্কুল চালু করার পাশাপাশি ‘দিল্লি স্কুল অফ মিউজিক’-এ শিক্ষকতাও করতেন। অসংখ্য তরুণ গায়কের মেন্টর ছিলেন তিনি।
তাঁর পরিবারেও ছিল সঙ্গীতের গভীর প্রভাব। বিক্রম সিংয়ের মা মণিপুরের বিখ্যাত ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। এ ছাড়া, বাফটা (BAFTA) বিজয়ী 'বুং' (Boong) ছবির পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী তাঁর তুতো বোন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী জোৎস্না এবং এক ছেলেকে রেখে গেছেন।
{{/usCountry}}তাঁর পরিবারেও ছিল সঙ্গীতের গভীর প্রভাব। বিক্রম সিংয়ের মা মণিপুরের বিখ্যাত ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। এ ছাড়া, বাফটা (BAFTA) বিজয়ী 'বুং' (Boong) ছবির পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী তাঁর তুতো বোন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী জোৎস্না এবং এক ছেলেকে রেখে গেছেন।
{{/usCountry}}তীব্র ক্ষোভ ও বিচারের দাবি
একজন বরেণ্য শিল্পীকে এভাবে রাস্তায় পিটিয়ে মারার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছে 'নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস সোসাইটি, দিল্লি ইউনিভার্সিটি'। এই ঘটনাকে হিংসার এক চরম ও ঘৃণ্য রূপ বলে বর্ণনা করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।