টেলিভিশন দুনিয়ার অন্যতম হ্যান্ডসাম, জনপ্রিয় এবং মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর হলেন হর্ষদ চোপড়া । ‘কিস দেশ মে হ্যায় মেরা দিল’, ‘বেপনাহ’ কিংবা ‘ইয়ে রিশতা কেয়া কেহলাতা হ্যায়’ খ্যাত এই অভিনেতা বিগত দুই দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করলেও, নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় লাইমলাইট থেকে দূরেই রেখেছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা কেন এখনও সিঙ্গেল। কেন বিয়ে করেননি হর্ষদ? কেন তাঁর প্রেমজীবন নিয়ে কোনও তথ্য মেলে না? তা নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ ছিল না। অবশেষে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ সিজন ২’ (Lock Upp 2)-এর মঞ্চে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার ও বেদনাদায়ক অধ্যায়টি মেলে ধরলেন হর্ষদ।

তিনি স্পষ্ট জানালেন, ২০১০ সালের একটি ভয়ঙ্কর বিশ্বাসঘাতকতার পর থেকে মানুষের ওপর থেকে তাঁর বিশ্বাসটাই উঠে গেছে, যা তাঁকে আজীবন একাকীত্বের পথে ঠেলে দিয়েছে।
‘একই সাথে প্রেমিকা ও প্রিয় বন্ধুকে হারিয়েছিলাম’— হর্ষদের গোপন সত্য
‘লক আপ ২’-এর প্রিমিয়ার পর্বে সঞ্চালক ফারহা খান এবং রিতেশ দেশমুখ হর্ষদকে জিজ্ঞেস করেন, এত বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন নিজের ব্যক্তিগত জীবন এভাবে লুকিয়ে রাখেন? এই প্রশ্নের জবাবে হর্ষদ তাঁর জীবনের ১৬ বছর ধরে চেপে রাখা সেই কষ্টের কথা শেয়ার করেন, ‘আমার অনুরাগীরা অভিযোগ করেন যে আমার ব্যাপারে কেউ কিছু জানে না। কিন্তু আমি চিরকাল এমন ছিলাম না। যখন ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম, বেশ সামাজিকভাবে সক্রিয় ছিলাম। কিন্তু ২০১০ সালে আমি একই সাথে আমার প্রিয় বন্ধু এবং আমার প্রেমিকাকে হারিয়ে ফেলি। আমার প্রেমিকা আমারই বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে আমাকে চিট (ধোঁকা) করেছিল। তারপর থেকেই আমি গুটিয়ে যাই, মানুষের সাথে মিশতে ভয় পাই।’
‘আমি বড্ড বেশি অ্যাভেলেবল ছিলাম, হয়তো ভুলটা আমারই’— ইমোশনাল হর্ষদ
{{/usCountry}}‘আমি বড্ড বেশি অ্যাভেলেবল ছিলাম, হয়তো ভুলটা আমারই’— ইমোশনাল হর্ষদ
{{/usCountry}}শো-এর পরবর্তী পর্বে সহ-প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরা যখন হর্ষদকে তাঁর সিঙ্গেল স্ট্যাটাস ও বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন হর্ষদ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, সঠিক মানুষ জীবনে এলে সে শক্তি জোগায় ঠিকই, কিন্তু সঠিক মানুষ আসার সাথে একটা মস্ত বড় রিস্কও জড়িয়ে থাকে।
অভিনেতা আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমি ডেট করি, কিন্তু তারপরই আমার কপাল পুড়ে যায়। মানুষ মুখে এক বলে আর কাজে অন্য কিছু করে। লোকে বড্ড স্বার্থপর। আমি সম্পর্কের মধ্যে মানসিক বধিরতা অনুভব করেছি। মানে আমি বলে যাচ্ছি, বলে যাচ্ছি, কিন্তু সামনের মানুষটা না শুনছে, না বুঝছে। মনে হতো আমি কথা বলছি কিন্তু তা কারও কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না! আসলে সমস্যা এটা নয় যে আমি রিলেশনে গুরুত্ব দিই, সমস্যা হলো আমি বড্ড বেশি সবার জন্য ‘সহজলভ্য’ হয়ে যাই। হয়তো ভুলটা আমারই ছিল।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়, পাশে দাঁড়ালেন শিবাঙ্গি
হর্ষদ চোপড়ার এই কান্নায় ভেজা স্বীকারোক্তি সামনে আসতেই নেটপাড়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শো-এর সেটে তাঁর এই কষ্টের কথা শুনে ওনাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় সহ-অভিনেত্রী শিবাঙ্গি জোশীকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হর্ষদের অনুরাগীরা ওই পুরোনো বিশ্বাসঘাতকদের তীব্র নিন্দা করছেন। একইসঙ্গে রেডিটের একাধিক ইউজার দাবি করেছেন, হর্ষদের এই প্রেমিকা আর কেউ নন, কুমকুম ভাগ্য় খ্যাত অভিনেত্রী স্মৃতি ঝা। সৌভাগ্যবতী ভবঃ সিরিয়াল চলাকালীন হর্ষদ-স্মৃতির প্রেমচর্চা ডানা মেলেছিল। অন্যদিকে হর্ষদের সেই বন্ধু হলেন কুণাল করণ কাপুর। যার সঙ্গে পরবর্তীতে স্মৃতির নাম জড়ায়। লেফট রাইট লেফটের পর থেকেই হর্ষদ-কুণাল ছিলেন বিএফএফ। কিন্তু হঠাৎ করেই দুজনের সম্পর্কে দূরত্ব আসে।
হর্ষদ যাতে জীবনে আবার নতুন করে ভালোবাসা খুঁজে পান, সেই প্রার্থনা জানাচ্ছেন। বছরের পর বছর ধরে হৃদয়ে চেপে রাখা এই গভীর ক্ষত যে অভিনেতাকে ভেতর থেকে কতটা ভেঙে দিয়েছিল, তা ওনার কথাতেই স্পষ্ট।