টলিপাড়ার একঝাঁক তারকা যখন তৃণমূলের টিকিট হাতে নিয়ে পরাজয়ের গ্লানি মুখে মাখছেন, তখন শুটিং ফ্লোর থেকে গর্জে উঠলেন স্বস্তিকা দত্ত। এতদিন পর্দার বাইরে রাজনৈতিক রং নিয়ে মৌন থাকলেও, ২০২৬-এর এই পরিবর্তনের দিনে বামেদের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা বুক ঠুকে জানালেন অভিনেত্রী। তবে শুধু নিজের কথা নয়, অভিনেতা বন্ধু অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিস্ফোরক পোস্ট শেয়ার করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।

চারদিকে যখন গেরুয়া ঝড়ের দাপট, তখন মুর্শিদাবাদের ডোমকলে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর নিজের গড় পুনরুদ্ধার করলেন সিপিএম-এর মুস্তাফিজুর রহমান (রানা)। তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীরকে ১৬,২৯৬ ভোটে পরাজিত করে বিধানসভায় ফিরছেন রানা। আর রানার এই জয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত। জয়ী বাম প্রার্থীর একটি ছবি ভাগ করে তিনি লেখেন, ‘শিরদাঁড়া সোজা ছিল, আছে আর থাকবে’।
অনিন্দ্যর সেই ভাইরাল পোস্ট:
অনিন্দ্য লিখেছিলেন, ‘গত ১৫ বছরের অভিনয় জীবনে শাসকদলের হয়ে স্টেজে ওঠার উত্তেজনা সম্বরণ করেছি। ওই লবিতে থাকলে হয়তো জীবনটা আর একটু সিকিওর হতো, কাজের পরিধি বাড়ত। কিন্তু ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের কথা না ভেবে স্ট্রাগল বেছে নেওয়া আমার মতন কিছু মুষ্টিমেয় অভিনেতারা যাতে শুধু নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস রেখে মাথা উঁচু করে কাজ করতে পারি, এটুকুই আশা।’
অনিন্দ্যর সুরে স্বস্তিকার ‘যুগলবন্দী’:
শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝে আলাদা করে কথা গুছিয়ে লেখার সময় পাননি স্বস্তিকা। বন্ধু অনিন্দ্যর পোস্টটি শেয়ার করে তিনি সপাটে লিখলেন— ‘ধরে নেবেন ওর দেওয়া স্ট্যাটাসের কথাগুলো আমিও বলছি! আমার খুব ভালো বন্ধু অনিন্দ্য।’
{{/usCountry}}শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝে আলাদা করে কথা গুছিয়ে লেখার সময় পাননি স্বস্তিকা। বন্ধু অনিন্দ্যর পোস্টটি শেয়ার করে তিনি সপাটে লিখলেন— ‘ধরে নেবেন ওর দেওয়া স্ট্যাটাসের কথাগুলো আমিও বলছি! আমার খুব ভালো বন্ধু অনিন্দ্য।’
{{/usCountry}}কেরিয়ারের পরোয়া করি না:
রাজনৈতিক মতাদর্শ স্পষ্ট করলে কাজ কমবে কি না, কিংবা দর্শক কী ভাববেন— সেই পরোয়া কোনোদিনই করেননি স্বস্তিকা। এদিনও তার ব্যতিক্রম হলো না। তাঁর সাফ কথা, এতদিন কোনো লবি বা রাজনৈতিক ছাতা ছাড়াই নিজের ক্ষমতায় কাজ পেয়েছেন, ভবিষ্যতেও তাই পাবেন। বাবা-মাকে নিয়ে নিজের শর্তে মাথা উঁচু করে বাঁচাই তাঁর আসল জয়।
শিরদাঁড়া বনাম সুবিধাভোগী:
মুস্তাফিজুর রানার জয়ের পর পর্দার বিদ্যা ব্যানার্জিক সেই ‘শিরদাঁড়া সোজা’ রাখার পোস্ট এবং স্বস্তিকার এই সাহসী স্বীকারোক্তি বুঝিয়ে দিল, টলিপাড়ায় এক নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। শাসকদলের সুবিধাভোগী তারকাদের পরাজয়ের দিনে স্বস্তিকা-অনিন্দ্যদের মতো ‘মুষ্টিমেয়’দের লড়াই যেন আজ এক বিশেষ স্বীকৃতি পেল।