সম্প্রতি বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের (নগেন্দ্র রায়) নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে করা কুরুচিকর ও বিতর্কিত মন্তব্যে বাংলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। সর্বস্তরের বঙ্গবাসী ও বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি এই বিষয়ে সোচ্চার হলেন বিশিষ্ট অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী।

অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের পাল্টা কড়া সমালোচনা করে নেতাজির পর্বতপ্রমাণ ব্যক্তিত্ব ও তাঁর ঐতিহাসিক অবদানের কথা মনে করিয়ে দেন এই অভিনেতা। প্রসঙ্গত, নেতাজিকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেছিলেন বিজেপি সাংসদ। তিনি বলেছিলেন ‘নেতাজি একজন ওয়ার ক্রিমিনাল। যারা দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, বন্দুক ধরে তারা কি দেশদ্রোহী নয়?’ পরে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ক্ষমা চেয়ে নিলেও বিতর্কের আঁচ কমছে না।
‘ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলিও স্বীকার করে গেছেন…’
অনন্ত মহারাজের নাম না নিয়েই প্রশ্ন শুনে টোটা রায়চৌধুরী বলেন যে, গদির মোহে অন্ধ নেতাদের চেয়ে নেতাজির স্থান দেশবাসীর হৃদয়ে অনেক ওপরে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘নেতারা থাকেন গদিতে, আর নেতাজি থাকেন হৃদয়ে। নেতাজি ভারতমাতার শ্রেষ্ঠ সন্তান। এটা শুধু আমি বলছি না, ভারতের স্বাধীনতা যে মূলত তাঁর জন্যই এসেছে—তা ইতিহাস এবং খোদ কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।’
নিজের যুক্তির স্বপক্ষে ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে টোটা উল্লেখ করেন, 'তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট রিচার্ড অ্যাটলিকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল—আপনারা এভাবে তড়িঘড়ি ভারত ছেড়ে পালিয়ে এলেন কেন? তিনি স্পষ্ট উত্তর দিয়েছিলেন: 'Bose and his INA' (সুভাষ বসু এবং তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ)। তাই নেতাজির সম্পর্কে কে কী মন্তব্য করল, তাতে কিচ্ছু এসে যায় না।'
রাজ্যজুড়ে আইনি কোপ ও অনন্তর ক্ষমা ভিক্ষা
{{/usCountry}}রাজ্যজুড়ে আইনি কোপ ও অনন্তর ক্ষমা ভিক্ষা
{{/usCountry}}অনন্ত মহারাজের এই অবমাননাকর বক্তব্যের পর রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মান কাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়।
অনভিপ্রেত মন্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রকাশ: নিজের দলের ভেতরের চাপ ও সাধারণ মানুষের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়ে অবশেষে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অনভিপ্রেত মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন অনন্ত মহারাজ। বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ বলেন, 'আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।'
সংহতি ও ঐতিহ্যের বার্তা
বিপ্লবী অনন্ত সিং-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি 'কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত'-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন টোটা রায়চৌধুরী। দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দাঁড়িয়ে নেতাজির এই অপমানকে মেনে নিতে পারেননি অভিনেতা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য বা পদ সাময়িক হতে পারে, কিন্তু নেতাজির ত্যাগ ও লড়াই চিরকাল ভারতের ইতিহাসে অমলীন হয়ে থাকবে।