...
...
Next Story

Madhuri Dixit: নায়কের বউয়ের জামাকাপড় ধার করেন মাধুরী! টাকা ছিল না ট্যাক্সি ভাড়ার, অজানা কিসসা ফাঁস

আজ যিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন, বলিউডের সেই ‘ধক ধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিতের কেরিয়ারের শুরুটা কিন্তু খুব একটা সহজ ছিল না। ১৯৮৪ সালে ‘অবোধ’ ছবি দিয়ে ডেবিউ করলেও প্রথম দিকে বেশ কিছু ফ্লপ ছবির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। যা মাধুরীর কেরিয়ার নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ণ তুলে দেয়। মুশকিল আসান হন এই নায়কের বউ।

Published on: May 26, 2026, 11:51:03 IST
Advertisement

আজ তাঁর এক একটি পোশাকের দাম লাখ টাকা। ভ্যানিটি ভ্যান থেকে শুরু করে বিলাসবহুল গাড়ি— তাঁর আভিজাত্য দেখার মতো। কিন্তু বলিউডের ‘কুইন’ মাধুরী দীক্ষিতকেও কেরিয়ারের শুরুতে চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। ১৯৮৬ সালের ‘মানব হত্যা’ (Manav Hatya) ছবির শুটিংয়ের সময়কার এমনই এক রূপকথার মতো অথচ বাস্তব লড়াইয়ের গল্প শোনালেন তাঁর সহ-অভিনেতা শেখর সুমন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেখর জানান, ছবিটির বাজেট এতটাই কম ছিল যে ট্যাক্সি ভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না প্রযোজকের। আর সেই কারণেই ছবির হিরোইন মাধুরীকে নিজের বাইকে চাপিয়ে সেটে নিয়ে আসতেন হিরো শেখর সুমন!

নায়কের বউয়ের জামাকাপড় ধার করেন! টাকা ছিল না ট্যাক্সি ভাড়ার,মাধুরীর অজানা কিসসা
নায়কের বউয়ের জামাকাপড় ধার করেন! টাকা ছিল না ট্যাক্সি ভাড়ার,মাধুরীর অজানা কিসসা

প্রথম দেখাতেই কুপোকাত শেখর:

শেখর সুমন জানান, রেখার সঙ্গে তাঁর প্রথম ছবি ‘উৎসব’-এর পর তিনি ‘মানব হত্যা’ ছবিতে একজন সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয়ের অফার পান। ছবির পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ৫ হাজার টাকা! পরিচালক তাঁকে জানান, ছবিতে হিরোইন হিসেবে থাকছেন এক নবাগতা মেয়ে, নাম মাধুরী দীক্ষিত। শেখর বলেন, ‘আমি পরিচালকের সঙ্গে প্রথমবার মাধুরীর বাড়িতে ওঁর সঙ্গে দেখা করতে যাই। ও তখন স্নান করছিল, তাই আসতে একটু সময় নেয়। কিন্তু যখন ও সামনে এল, ওঁর রূপ দেখে আমি জাস্ট স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। এতটাই সুন্দরী লাগছিল যে আমি পরিচালককে বলেছিলাম, ৫ হাজারের জায়গায় আড়াই হাজার টাকা দিলেও আমি এই ছবিতে কাজ করব!’

ট্যাক্সির টাকা নেই, তাই বাইকই ভরসা:

তবে ছবির শুটিং শুরু হতেই প্রযোজকের আসল আর্থিক দশা সামনে আসে। টাকার অভাবে কোনও আউটডোর লোকেশন বুক করা সম্ভব হয়নি, তাই শেখর সুমনের নিজের বাড়িতেই ছবির বেশ কিছু অংশের শুটিং হয়। শুধু তাই নয়, মাধুরীকে বাড়ি থেকে স্টুডিওতে আনার জন্য কোনও গাড়ির বা ট্যাক্সির ব্যবস্থাও করতে পারেননি প্রযোজক।

স্ত্রীর আলমারি থেকে এল মাধুরীর পোশাক ও মেকআপ!

বিপত্তি এখানেই শেষ হয়নি। ছবির জন্য নতুন কস্টিউম (পোশাক) কেনা বা মেকআপ আর্টিস্ট রাখার মতোও তহবিল ছিল না টিমের কাছে। এই পরিস্থিতিতে মুশকিল আসান হিসেবে এগিয়ে আসেন শেখর সুমনের স্ত্রী অলকা সুমন।

অভিনেতা স্মৃতির পাতা উল্টে বলেন, ‘প্রযোজক যখন হাত তুলে দিলেন, তখন আমার স্ত্রী অলকাই মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়ায়। ছবিতে মাধুরী যে সমস্ত পোশাক পরেছিলেন, তার বেশিরভাগই ছিল আমার স্ত্রীর আলমারির কালেকশন। শুধু তাই নয়, শুটিংয়ের সময় মাধুরীর মেকআপটাও আমার স্ত্রী নিজের হাতে করে দিত।’

আজকের গ্ল্যামারাস ও হাইপ্রোফাইল বলিউডের যুগে এই ধরণের ঘটনা ভাবাই যায় না। ‘মানব হত্যা’ ছবিটি বক্স অফিসে সেভাবে সাড়া না পেলেও বা থিয়েটারে ঠিকমতো মুক্তি না পেলেও, এই ছবিই কিন্তু মাধুরীকে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার লড়াইটা শিখিয়েছিল। আজ সাফল্যের শিখরে বসেও মাধুরী দীক্ষিত যে কতটা মাটির মানুষ, শেখর সুমনের এই নস্টালজিক গল্প যেন সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe