রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিপাড়ার অনেক তারকারই সুর যে একটু একটু করে বদলাতে শুরু করেছে। এবার কি সেই দলে সামিল ইমন চক্রবর্তী? কোনও রাজনৈতিক রং গায়ে না লাগিয়েই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। শমীকের একটি সাম্প্রতিক ভাষণের ভিডিও নিজের ওয়ালে শেয়ার করে ইমন সাফ লিখলেন— ‘নাও বলো আমাকে বিজেপি… কিন্তু কথাগুলো শুনে নিও। বিগেস্ট ফ্যান অফ দিস ম্যান… এখন না, বরাবরের…’।

তৃণমূলের গুণগান থেকে শমীকের প্রশংসা:
ইমনের এই পোস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নেটপাড়ায় তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ, খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন রাজ্যে তৃণমূল সরকারের নীতি এবং দলনেত্রীর প্রশংসা করতে শোনা যেত ইমনকে। ভোটের আগে তৃণমূল সরকারের পাঁচালি গেয়েছিলেন ইমন, কম কটূক্তি শুনতে হয়নি। তবে সেই সমস্ত অতীত বিতর্ককে একপাশে সরিয়ে রেখে এবার সরাসরি বিজেপি নেতার স্পষ্টবক্তা ইমেজের প্রতি নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন ইমন।
‘কথাগুলো শুনে নিও’, অনুগামীদের বার্তা ইমনের:
শমীক ভট্টাচার্য তাঁর বাগ্মীতা এবং মার্জিতববক্তব্যের জন্য রাজনৈতিক মহল তো বটেই, আমজনতার কাছেও বেশ জনপ্রিয়। ইমনও তাঁর এই গুণেরই গুণগ্রাহী। ট্রোলিংয়ের আগাম আশঙ্কা করেই গায়িকা পোস্টে শুরুতেই লিখে দিয়েছেন, ‘নাও বলো আমাকে বিজেপি’। অর্থাৎ, এই পোস্ট দেখার পর অনেকেই যে তাঁকে গেরুয়া শিবিরের তকমা দিয়ে দেবেন, তা তিনি ভালো করেই জানেন। কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে শমীকের ওই ভাইরাল বক্তৃতায় বলা কথাগুলো যে কতটা বাস্তবসম্মত, সেটাই তিনি তাঁর অনুরাগীদের কানে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন।
কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি বলেন, ‘আজ আমি যাদের সামনে বসে আছি, তাঁদের কারও মুখ ম্লান নয়। এঁরা নিজেদের মেধা, অসাধারণ প্রতিভা আর কঠিন অধ্যাবসায় দিয়ে আজ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই মুখগুলি আসলে তাঁদের সমগ্র পরিবারের এক একটি উজ্জ্বল মুখ।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রতি যাদের অন্তরে প্রকৃত শ্রদ্ধা থাকে, তাঁরাই কেবল প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারেন। শুধুমাত্র বইয়ের পাতার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান লাভ করা বা জীবনের আসল পাঠ শেখা সম্ভব নয়।’
{{/usCountry}}কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি বলেন, ‘আজ আমি যাদের সামনে বসে আছি, তাঁদের কারও মুখ ম্লান নয়। এঁরা নিজেদের মেধা, অসাধারণ প্রতিভা আর কঠিন অধ্যাবসায় দিয়ে আজ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই মুখগুলি আসলে তাঁদের সমগ্র পরিবারের এক একটি উজ্জ্বল মুখ।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রতি যাদের অন্তরে প্রকৃত শ্রদ্ধা থাকে, তাঁরাই কেবল প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে পারেন। শুধুমাত্র বইয়ের পাতার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান লাভ করা বা জীবনের আসল পাঠ শেখা সম্ভব নয়।’
{{/usCountry}}লাইট-ক্যামেরা আর গানের ওপেন এয়ার কনসার্টের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে ইমনের এই ‘পলিটিক্যাল পোস্ট’ এখন নেটপাড়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। তবে ভোটের রেজাল্ট আউট হওয়ার আগেও ইমন এক পডকাস্টে জানিয়েছিলেন তিনি শমীক ভট্টাচার্যের ফ্যান। কেউ কেউ গায়িকার এই সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার বিরোধীদের একাংশ একে ‘সুবিধাবাদী অবস্থান’ বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। এখন দেখার, এই নতুন সমীকরণ টলিপাড়ার রাজনৈতিক হাওয়ায় আর কী কী বদল আনে!