...
...
Next Story

এবার টলিউডে SIR! ফেডারেশনের দিন শেষ, ‘টাকা দিয়ে যারা কাজ…’, পাপিয়ার বিরাট ঘোষণা

দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের অন্দরে যে ‘ভয়ের পরিবেশ’ ও কাজ হারানোর আশঙ্কা কাজ করত, তা পুরোপুরি কাটানোর আশ্বাস দিয়েছেন নতুন বিধায়ক। বিশ্বাস ব্রাদার্সের জমানা শেষ, যোগ্যরা যাতে কাজ পায় সেই ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করবে 'ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যান্ড সিনে ক্রাফটস কনফেডারেশন’।

Published on: Jun 3, 2026, 14:31:33 IST
Advertisement

টলিপাড়ার টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে শুরু করে এনটিওয়ান— সর্বত্র এখন শুধু একটাই আলোচনা, এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে স্টুডিওপাড়ার অন্দরে যে একাধিপত্য ও ক্ষমতার দাপট তৈরি হয়েছিল বিশ্বাস ব্রাদার্সের, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। টলিপাড়ার অন্দরের সমস্ত চেনা সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে এবার এক লহমায় ভেঙে দেওয়া হলো পুরনো ফেডারেশনের আওতাধীন ২৬টি গিল্ড। আর তার পরিবর্তে এক্কেবারে নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে টলিউডে আত্মপ্রকাশ করল এক নতুন কনফেডারেশন— ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যান্ড সিনে ক্রাফটস কনফেডারেশন’ বা ‘EIMPCC'। আর এই নতুন ও শক্তিশালী সংগঠনের সর্বোচ্চ চেয়ার বা নেতৃত্বের ব্যাটন উঠল বর্ষীয়ান তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীর হাতে! তিনি সাফ বলেন, ‘সকলে একছাতার তলায় আসবেন। ফেডারেশনের পুরনো কাঠামোকে পিছনে ফেলে এবার সিনেশিল্প এগোবে নতুন পরিচয়ে— Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation বা EIMPCC-র হাত ধরে। ২৬টা গিল্ড থাকবে না। ভীষণ অসুবিধা। তিনটে বা চারটে থাকবে। তার জন্য যা যা দরকার, প্রতি সপ্তাহে টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় আলোচনা হবে। সকলকে নিয়ে কাজ হবে।’

এবার টলিউডে SIR! ফেডারেশনের দিন শেষ, ‘টাকা দিয়ে যারা কাজ…’, পাপিয়ার বিরাট ঘোষণা (PTI)
এবার টলিউডে SIR! ফেডারেশনের দিন শেষ, ‘টাকা দিয়ে যারা কাজ…’, পাপিয়ার বিরাট ঘোষণা (PTI)

পুরনো একাধিপত্যের অবসান, মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস ফেলছে টলিপাড়া!

গত বেশ কিছু বছর ধরে টলিপাড়ার টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীদের ওপর পুরনো ফেডারেশনের অঘোষিত ‘দাদাগিরি’, যখন-তখন কাজ বন্ধ করে দেওয়া, ডিক্টেটরশিপ বা একনায়কতন্ত্র এবং পকেট গিল্ডের দৌরাত্ম্য নিয়ে ক্ষোভ জমছিল স্টুডিওপাড়ার আনাচে-কানাচে। বহু পরিচালক, প্রযোজক এবং স্বাধীনচেতা টেকনিশিয়ানরা মুখ বুজে এই টর্চার সহ্য করছিলেন বলে অভিযোগ। অনেক সময় আইনি লড়াই বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বদলায়নি সেই চেনা ছবি।

তবে ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া টলিপাড়ার দেওয়ালে লাগতেই পুরো সিনারিওটাই বদলে গেল। পুরনো ক্ষমতার দাপটকে চিরতরে উপড়ে ফেলে ২৬টি গিল্ডের বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। টলিপাড়ার কলাকুশলীদের দাবি, এই মেগা ওভারহল বা খোলনলচে বদলে যাওয়ার ফলে এবার স্টুডিওপাড়ায় কাজের পরিবেশ অনেক বেশি স্বচ্ছ ও মুক্ত হবে। কোনো বিশেষ দলের বা ব্যক্তির অঙ্গুলিহেলনে আর কারও রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া যাবে না।

নতুন কনফেডারেশন ‘EIMPCC’-এর ব্যাটন হাতে নিয়ে অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী ওঁর স্বভাবসিদ্ধ ও দৃঢ় মেজাজে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওনাদের মূল লক্ষ্যই হলো টলিপাড়ার প্রতিটি কর্মীর অধিকার রক্ষা করা এবং কাজের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতহীন এক সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা। কোনো জুনিয়র আর্টিস্ট বা টেকনিশিয়ান যাতে শোষণের শিকার না হন এবং প্রযোজকদেরও যাতে অহেতুক হেনস্থা বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, তা সুনিশ্চিত করবে এই নতুন বডি।

পাপিয়া অধিকারীর এই নতুন কোর কমিটিতে টলিপাড়ার আরও বেশ কিছু চেনা ও অভিজ্ঞ মুখ শামিল হয়েছেন বলে খবর। বাংলার চলচ্চিত্র মহল এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে। এখন দেখার, পুরনো ফেডারেশনের সেই একচ্ছত্র রাজপাট ভেঙে ফেলার পর পাপিয়া অধিকারীর এই নতুন ‘EIMPCC’ টলিপাড়ার টেকনিশিয়ানদের মুখে কতটা স্থায়ী হাসি ফোটাতে পারে এবং বক্স অফিসের কাজে গতি ফিরিয়ে আনতে কতটা সফল হয়!

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe