টলিপাড়ার টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে শুরু করে এনটিওয়ান— সর্বত্র এখন শুধু একটাই আলোচনা, এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে স্টুডিওপাড়ার অন্দরে যে একাধিপত্য ও ক্ষমতার দাপট তৈরি হয়েছিল বিশ্বাস ব্রাদার্সের, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। টলিপাড়ার অন্দরের সমস্ত চেনা সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে এবার এক লহমায় ভেঙে দেওয়া হলো পুরনো ফেডারেশনের আওতাধীন ২৬টি গিল্ড। আর তার পরিবর্তে এক্কেবারে নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে টলিউডে আত্মপ্রকাশ করল এক নতুন কনফেডারেশন— ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যান্ড সিনে ক্রাফটস কনফেডারেশন’ বা ‘EIMPCC'। আর এই নতুন ও শক্তিশালী সংগঠনের সর্বোচ্চ চেয়ার বা নেতৃত্বের ব্যাটন উঠল বর্ষীয়ান তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীর হাতে! তিনি সাফ বলেন, ‘সকলে একছাতার তলায় আসবেন। ফেডারেশনের পুরনো কাঠামোকে পিছনে ফেলে এবার সিনেশিল্প এগোবে নতুন পরিচয়ে— Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation বা EIMPCC-র হাত ধরে। ২৬টা গিল্ড থাকবে না। ভীষণ অসুবিধা। তিনটে বা চারটে থাকবে। তার জন্য যা যা দরকার, প্রতি সপ্তাহে টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় আলোচনা হবে। সকলকে নিয়ে কাজ হবে।’

পুরনো একাধিপত্যের অবসান, মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস ফেলছে টলিপাড়া!
গত বেশ কিছু বছর ধরে টলিপাড়ার টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীদের ওপর পুরনো ফেডারেশনের অঘোষিত ‘দাদাগিরি’, যখন-তখন কাজ বন্ধ করে দেওয়া, ডিক্টেটরশিপ বা একনায়কতন্ত্র এবং পকেট গিল্ডের দৌরাত্ম্য নিয়ে ক্ষোভ জমছিল স্টুডিওপাড়ার আনাচে-কানাচে। বহু পরিচালক, প্রযোজক এবং স্বাধীনচেতা টেকনিশিয়ানরা মুখ বুজে এই টর্চার সহ্য করছিলেন বলে অভিযোগ। অনেক সময় আইনি লড়াই বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বদলায়নি সেই চেনা ছবি।
তবে ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া টলিপাড়ার দেওয়ালে লাগতেই পুরো সিনারিওটাই বদলে গেল। পুরনো ক্ষমতার দাপটকে চিরতরে উপড়ে ফেলে ২৬টি গিল্ডের বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। টলিপাড়ার কলাকুশলীদের দাবি, এই মেগা ওভারহল বা খোলনলচে বদলে যাওয়ার ফলে এবার স্টুডিওপাড়ায় কাজের পরিবেশ অনেক বেশি স্বচ্ছ ও মুক্ত হবে। কোনো বিশেষ দলের বা ব্যক্তির অঙ্গুলিহেলনে আর কারও রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া যাবে না।
পাপিয়া অধিকারীর কাঁধে নতুন দায়িত্ব, পাশে একঝাঁক চেনা মুখ
{{/usCountry}}পাপিয়া অধিকারীর কাঁধে নতুন দায়িত্ব, পাশে একঝাঁক চেনা মুখ
{{/usCountry}}নতুন কনফেডারেশন ‘EIMPCC’-এর ব্যাটন হাতে নিয়ে অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী ওঁর স্বভাবসিদ্ধ ও দৃঢ় মেজাজে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওনাদের মূল লক্ষ্যই হলো টলিপাড়ার প্রতিটি কর্মীর অধিকার রক্ষা করা এবং কাজের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতহীন এক সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা। কোনো জুনিয়র আর্টিস্ট বা টেকনিশিয়ান যাতে শোষণের শিকার না হন এবং প্রযোজকদেরও যাতে অহেতুক হেনস্থা বা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, তা সুনিশ্চিত করবে এই নতুন বডি।
পাপিয়া অধিকারীর এই নতুন কোর কমিটিতে টলিপাড়ার আরও বেশ কিছু চেনা ও অভিজ্ঞ মুখ শামিল হয়েছেন বলে খবর। বাংলার চলচ্চিত্র মহল এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে। এখন দেখার, পুরনো ফেডারেশনের সেই একচ্ছত্র রাজপাট ভেঙে ফেলার পর পাপিয়া অধিকারীর এই নতুন ‘EIMPCC’ টলিপাড়ার টেকনিশিয়ানদের মুখে কতটা স্থায়ী হাসি ফোটাতে পারে এবং বক্স অফিসের কাজে গতি ফিরিয়ে আনতে কতটা সফল হয়!