‘দিদি নম্বর ১’ থেকে বাদ পড়া, ‘আরবানা’ আবাসনে থাকার যোগ্যতা এবং লোকসভা নির্বাচন নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক বয়ান দিয়ে এই মুহূর্তে টলিউডের সবচেয়ে চর্চিত নাম সাংসদ-অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)। তবে এবার আরও এক নতুন দাবি করে নেটপাড়ায় হাসির খোরাক হলেন রচনা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করে বসেন, তিনিই নাকি বলিউড শাহেনশা অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bachchan) একমাত্র বাঙালি নায়িকা!

রচনার এই তথ্য যে সম্পূর্ণ ভুল, তা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে যখন তীব্র ট্রোলিং শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই রচনার এই আলটপকা মন্তব্যের ঢাল হয়ে পাশে দাঁড়ালেন ‘রোজগেরে গিন্নী’ খ্যাত গায়িকা ও সঞ্চালিকা পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় (Parama Banerjee)।
কেন ট্রোলের মুখে পড়লেন রচনা?
রচনার এই ‘একমাত্র বাঙালি নায়িকা’র দাবিকে নেটিজেনরা তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ ভুল বলে দেগে দিয়েছেন। অমিতাভ বচ্চন তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই জয়া ভাদুড়ী (বচ্চন), শর্মিলা ঠাকুর, রাখী গুলজার, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের মতো একাধিক প্রথম সারির বাঙালি অভিনেত্রীর সাথে ‘শোলে’, ‘সিলসিলা’ বা ‘অভিমান’-এর মতো ক্লাসিক ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় কাজ করেছেন।
১৯৯৯ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘সূর্যবংশম’ (Sooryavansham)-এ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু অমিতাভের মূল নায়িকা (হিরোইন) ছিলেন না। ছবিতে বিগ বি-র স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী সৌন্দর্য। বরং রচনাকে সেই ছবির খলনায়িকা বা ভিলেন বলাই চলে, যিনি ছবির শুরুতে অমিতাভকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
রচনার পাশে দাঁড়িয়ে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফাই
{{/usCountry}}রচনার পাশে দাঁড়িয়ে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফাই
{{/usCountry}}গোটা ঘটনায় যখন নেটপাড়ায় রচনাকে নিয়ে ট্রোলিং তুঙ্গে, তখন ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখে রচনার পাশে দাঁড়ান পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরমার মতে, রচনার সমসাময়িক সময়ে তিনিই একমাত্র বাঙালি যিনি বিগ বি-র বিপরীতে হিন্দি ছবিতে সুযোগ পেয়েছিলেন।
রচনার মন্তব্যের ভুল সংশোধন করে পরমা লেখেন:
‘ওর সময়কালে অবশ্যই উনি একমাত্র। হ্যাঁ, ৬০ এবং আর্লি ৭০-এর দশকে যখন উনি ‘বিগ বি’ হননি, তখন অনেক বাঙালি অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন। সেসব ছবিতে অমিতাভ জি কিন্তু আজকের মতো সুপারস্টার ‘হিরো’ নন, এটাও ভুললে চলবে না। সুপারহিট সূর্যবংশম ছবিতে অমিতাভ জির সম্ভবত একেবারে শেষের দিকের মেনস্ট্রিম ‘হিরো’ রোল ছিল। এরপর একটা গ্যাপ তৈরি হয়, তারপর কেবিসি (KBC) এবং ওঁর ওয়ান্স এগেইন ২.০ অবতারের জন্ম হয়।’
‘ইন্টারনেট পূর্ববর্তী একটা পৃথিবীও ছিল’— ট্রোলাদের কড়া জবাব পরমার
আজকের প্রজন্মের ‘অনলাইন ব্যস্ত বাচ্চাদের’ এক হাত নিয়ে পরমা মনে করিয়ে দেন যে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা সময় ওড়িয়া ও দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে একছত্র রাজত্ব করেছেন। সেই সময়ে ওড়িয়া ছবিগুলো ইটিভি বাংলায় ডাব করে দুপুরের স্লটে দেখানো হতো এবং সেই সব ছবির ডাবিং ও গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে পরমার নিজেরও।
নিজের পুরনো কাজের স্মৃতি রোমন্থন করে পরমা লেখেন:
‘গলফ ক্লাব রোডের ফিল্ম সার্ভিস স্টুডিওতে শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুবাদ করা গানে আমি গলা দিতাম। যতগুলি ওড়িয়া ছবিতে আমি বাংলায় গান গেয়েছি, প্রত্যেকটিতেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন লিডিং লেডি। তাই ওঁর মন্তব্য নিয়ে যাঁরা আজ সমাজমাধ্যমে মজা করছেন, তাঁরা অনেকেই হয়তো ব্যাকগ্রাউন্ড ফ্যাক্টটা না জেনে স্রেফ ট্রোল করার জন্য করছেন। আজকালকার বাচ্চারা ভাবতেই পারে না যে ইন্টারনেট পূর্ববর্তী একটা পৃথিবীও ছিল এবং সেখানেও প্রচুর কাজ হয়েছে।’