একদিকে যখন টলিপাড়ায় ‘পিঠ বাঁচানো’ আর রাজনৈতিক ভোলবদলের হিড়িক চলছে, ঠিক তখনই অতীত পাপ তাড়া করে বেড়াল টলিউডের প্রথম সারির দুই তারকাকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিনের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার বড়সড় আইনি বিপাকে জড়ালেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ৫ বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছিল গেরুয়া শিবিরের। সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলীপ ঘোষের পুরোনো বক্তব্য টেনে পোস্ট করেছিলেন পরমব্রত। মন্তব্য করেন স্বস্তিকা। সেই নিয়ে যাবতীয় ঝামেলা। ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে কলকাতার গড়িয়াহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন এক আইনজীবী। আর এই খবর চাউর হতেই টলিপাড়ার অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল ২০২১-এর ২ মে?
গড়িয়াহাট থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২ মে বিকেল ৪টে নাগাদ, যখন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে, তখন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন— ‘আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।’ অভিযোগ, পরমব্রতর এই পোস্টে সম্মতি জানিয়ে এবং তাল মিলিয়ে অভিনেত্রী তথা পরমব্রতর প্রাক্তন প্রেমিকা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় কমেন্ট বক্সে লিখেছিলেন, ‘হোক হোক’।
খুন ও গণহত্যার উস্কানির মারাত্মক অভিযোগ:
অভিযোগকারী আইনজীবীর দাবি, তারকাদের এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য আদতে সেই সময়ে ভোট পরবর্তী হিংসায় প্রচ্ছন্ন উস্কানি দিয়েছিল। এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ওই নির্বাচনের পর বাংলায় অন্তত ৫০ জন বিজেপি কর্মী-সমর্থক খুন হন, বহু নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আরও মারাত্মক অভিযোগ, পরমব্রতের এই ফেসবুক পোস্টের ঠিক এক ঘণ্টার মধ্যেই বেলেঘাটায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। অভিযোগকারীর স্পষ্ট দাবি, টলিউডের এই প্রথম সারির তারকাদের উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে উৎসাহিত হয়েই তৎকালীন শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা গণহত্যা ও হিংসার পথ বেছে নিয়েছিল।
বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা বর্তমানে রাজ্য়ের উপমুখ্যমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ টলিউডের শিল্পীদের ‘রগড়ে’ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। বেশ কিছু শিল্পীদের গাওয়া ‘আমরা এই দেশেতেই থাকবো’ গানটি তাঁর কেমন লেগেছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছিলেন, “শিল্পীদের এটা শোভা পায় না। রাজনীতিটা আমাদের করতে দিন। না হলে রগড়ে দেব। আর শিল্পীরা জানেন, আমি কীভাবে রগড়াই।' এর পরেই ঝড় ওঠে সাংস্কৃতিক মহলে। পরমব্রত অতীতে নিজের পোস্টের সাফাই দিয়ে সাফ জানিয়েছেন, দিলীপ ঘোষের মন্তব্য়ের প্রেক্ষিতেই তাঁর পোস্ট।
{{/usCountry}}বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা বর্তমানে রাজ্য়ের উপমুখ্যমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ টলিউডের শিল্পীদের ‘রগড়ে’ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। বেশ কিছু শিল্পীদের গাওয়া ‘আমরা এই দেশেতেই থাকবো’ গানটি তাঁর কেমন লেগেছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছিলেন, “শিল্পীদের এটা শোভা পায় না। রাজনীতিটা আমাদের করতে দিন। না হলে রগড়ে দেব। আর শিল্পীরা জানেন, আমি কীভাবে রগড়াই।' এর পরেই ঝড় ওঠে সাংস্কৃতিক মহলে। পরমব্রত অতীতে নিজের পোস্টের সাফাই দিয়ে সাফ জানিয়েছেন, দিলীপ ঘোষের মন্তব্য়ের প্রেক্ষিতেই তাঁর পোস্ট।
{{/usCountry}}সদ্য় সমাপ্ত বিধানসভা ভোটেও তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছেন পরমব্রত। যদিও বিজেপির জয়ের পর সুর নরম করেন অভিনেতা-পরিচালক। বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষকে পাশে নিয়ে তিনি ফেডারেশনের বৈঠকে বুধবারই জানান, সদ্যজাত সন্তানের মুখ চেয়ে নাকি পূর্বতন সরকারের সঙ্গে আপোস করেছেন তিনি।
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘সেদিন আমার সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না তাই। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিষোদগারের জন্য এখানে আসিনি। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রাগও পেশ করতে চাই না। কিন্তু আপনাদের যেহেতু বাড়ির লোক ভাবি, সেইজন্য ব্যক্তিগত অপমানের কথাটা ভাগ করে নিলাম। ভবিষ্যতে যেন এরকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, পরমব্রত আগে থেকেই আন্দাজ করতে পেরেছিলেন যে ২০২১ সালের সেই ‘রগড়ানি দিবস’-এর চড়া মাশুল তাঁকে দিতে হতে পারে। আর সেই কারণেই আইনি গেরো ও বর্তমান রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে বাঁচতে আগাম ‘সদ্যোজাত সন্তানের সিম্প্যাথি কার্ড’ খেলে পিঠ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করছিলেন অভিনেতা।
আপাতত গড়িয়াহাট থানার পুলিশের পক্ষ থেকে এই মামলার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই আইনি জল কতদূর গড়ায় এবং পরমব্রত ও স্বস্তিকা এই মারাত্মক অভিযোগের জবাবে কী সাফাই দেন, সেটাই এখন দেখার!