পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটের আগে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে প্রথম রাজনীতির মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। টলিপাড়ায় এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছিল, যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারেন পরমব্রত। যদিও প্রার্থী তালিকায় পরে তাঁর নাম ছিল না। তবে নির্বাচনের একেবারে শেষ বেলায় তাঁকে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল। এসআইআর নিয়ে সুর চড়িয়ে ছিলেন তিনি। তবে রাজ্যে এবার পদ্ম ফুটেছে, একেবারে পাশা পাল্টে গিয়েছে। ভোট বাক্সে নিরাশ হতে হয়েছে তৃণমূলকে, কিন্তু এর পরও কি পরম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রাখছেন? এবার এই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন নায়ক।

আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ একটা সরকার যখন ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী একটা হাওয়া তৈরি হয়। এই সরকারের যেমন বেশ কিছু ভালো কাজ, ভালো প্রকল্প ছিল, ঠিক তেমনই তাদের এক শ্রেণীর কর্মীদের ঔদ্ধত্য, কিছু বিধায়কের জুলুমবাজি, মানুষের জীবনে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা, একই সঙ্গে চুরি-দুর্নীতি— এ গুলো তো অস্বীকার করা যায় না।’
তাঁর মতে তৃণমূল সুপ্রিমোর ভালো কাজগুলি চাপা পড়ে গিয়েছে দলের কিছু নেতাকর্মীর নেতিবাচকতার জন্য। পরমের কথায়, 'কিছু বিধায়কের জুলুমবাজি মানুষের কাছে মমতা বন্দোপাধ্যায়র ভালো কাজকে গৌণ করে দিয়েছে। এটা তৃণমূলের অতি বড় সমর্থকও স্বীকার করবেন। সেখানে আমি তো তৃণমূল পার্টির সদস্যও নই, কর্মীও নই।’
কিন্তু এই দলের হয়েই ভোট প্রচারে নজর কেড়েছিলেন পরম। প্রথমবারের জন্য পা রেখেছিলেন রাজনীতির আঙ্গিনায়। নদীয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে এসেছে নেতিবাচক দিক সম্পর্কে অবগত থাকা পরও কেন প্রচারে সামিল হলেন তিনি?
পরমব্রতর কথায়, ‘আমি আর্দশগত ভাবে বিজেপির উল্টোদিকের মানুষ। আমি এসআইআর প্রক্রিয়াটি যেভাবে হয়েছে ,সেটি সমালোচনা করার মতো বলেই প্রথম থেকে মনে হয়েছে। প্রক্রিয়াটা বেশ গোলমেলে। আমার মনে হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটার বিরুদ্ধে কথা বলা দরকার। প্রথমে বেশ কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাতিল হয়। পরে যে ভাবে ৩৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ল সেটা আমার কাছে অসাংবিধানিক মনে হয়েছে। আর একটা গণতন্ত্রে একটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের বিরোধিতা করার অধিকারও আমার আছে। সেই সময় এই অন্যায়গুলোক প্রতিবাদ করার রাস্তা হিসেবে তৃণমূলকেই দেখতে পেয়েছি। কারণ বামেরা কোথাও নেই, কংগ্রেসের তো অস্তিত্বই নেই।’
{{/usCountry}}পরমব্রতর কথায়, ‘আমি আর্দশগত ভাবে বিজেপির উল্টোদিকের মানুষ। আমি এসআইআর প্রক্রিয়াটি যেভাবে হয়েছে ,সেটি সমালোচনা করার মতো বলেই প্রথম থেকে মনে হয়েছে। প্রক্রিয়াটা বেশ গোলমেলে। আমার মনে হয়েছে, এই প্রক্রিয়াটার বিরুদ্ধে কথা বলা দরকার। প্রথমে বেশ কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাতিল হয়। পরে যে ভাবে ৩৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ল সেটা আমার কাছে অসাংবিধানিক মনে হয়েছে। আর একটা গণতন্ত্রে একটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের বিরোধিতা করার অধিকারও আমার আছে। সেই সময় এই অন্যায়গুলোক প্রতিবাদ করার রাস্তা হিসেবে তৃণমূলকেই দেখতে পেয়েছি। কারণ বামেরা কোথাও নেই, কংগ্রেসের তো অস্তিত্বই নেই।’
{{/usCountry}}তবে পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘আমি বিজেপির দর্শনের বিরোধী হলেও বিজেপির কিছু জিনিসের বিরোধী নই। সেটা হল, তাদের পার্টির মজ্জায় রয়েছে , ব্যবসা, উন্নয়ন ও শিল্প। সেই উন্নয়ন যদি পশ্চিমবঙ্গে হয়, তা হলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে খুশি হব। সে ক্ষেত্রে দল-রং কিছুই দেখব না।’