বাঙালি দর্শকদের গোয়েন্দা গল্পের প্রতি এক আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। ফেলুদা, ব্যোমকেশ কিংবা কাকাবাবুর চেনা গণ্ডির বাইরে এবার হইচই-এর পর্দায় পা রাখছেন নতুন এক গোয়েন্দা— আদিত্য মজুমদার। সেই ভূমিকাতেই এবার থাকছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্য়ায়।

অভিনেতা এবং পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বরাবরই ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের চমকে দিতে ভালোবাসেন। ফেলুদা হিসাবে দর্শক তাঁকে পর্দায় দেখেছে, এবার নতুন গোয়েন্দার অবতারে হাজির হতে চলেছেন তিনি।
পরিচালক অরিত্র সেন (Aritra Sen)-এর হাত ধরে এই সিরিজটিতে একজোট হয়েছেন টলিপাড়ার একঝাঁক হেভিওয়েট তারকা। এক বনেদি ও প্রভাবশালী পরিবারের অন্দরে লুকিয়ে থাকা উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ক্ষমতার লোভ আর পারিবারিক টানাপোড়েনের এক অনবদ্য মনস্তাত্ত্বিক খেলা দেখা যাবে এই মেগা প্রজেক্টে। সম্প্রতি সিরিজটির মূল প্লট এবং নিজেদের চরিত্র নিয়ে অকপটে মুখ খুললেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ঋতাভরী চক্রবর্তী ও পায়েল সরকার।
'ছদ্মবেশী’র মূল গল্প
কলকাতার এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিত্তশালী পরিবারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে ‘ছদ্মবেশী’র গল্প। পুরনো দিনের কিংবদন্তি ও সেলিব্রেটেড অভিনেত্রী মন্দাকিনী চৌধুরীর (জুন মালিয়া) জীবনে হঠাৎ করেই ঘটতে থাকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যজনক ঘটনা। মন্দাকিনীর মনে হতে থাকে, এই ঘটনাগুলো মোটেও সাধারণ বা আকস্মিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র।
{{/usCountry}}কলকাতার এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিত্তশালী পরিবারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে ‘ছদ্মবেশী’র গল্প। পুরনো দিনের কিংবদন্তি ও সেলিব্রেটেড অভিনেত্রী মন্দাকিনী চৌধুরীর (জুন মালিয়া) জীবনে হঠাৎ করেই ঘটতে থাকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যজনক ঘটনা। মন্দাকিনীর মনে হতে থাকে, এই ঘটনাগুলো মোটেও সাধারণ বা আকস্মিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র।
{{/usCountry}}এই রহস্যের সমাধানের দায়িত্ব এসে পড়ে স্ট্রাগলিং প্রাইভেট ডিটেকটিভ আদিত্য মজুমদারের কাঁধে। তদন্তে নেমে আদিত্য বুঝতে পারে, চৌধুরী বাড়ির আভিজাত্যের আড়ালে প্রত্যেকেই এক একটি মুখোশ পরে রয়েছে। যেখানে অগাধ সম্পত্তি, পুরনো উত্তরাধিকার এবং দীর্ঘকাল ধরে চেপে রাখা অন্ধকার অতীত একে অপরের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে, সেখানে কাকে বিশ্বাস করবে আদিত্য? নিজের স্ত্রী রত্না এবং এসিপি গৌতমের সাহায্য নিয়ে আদিত্য যখনই কোনও সত্যের মুখোমুখি হয়, তখনই তৈরি হয় এক নতুন প্রশ্ন।
পরমব্রতর কথায়, ‘সাধারণত পর্দায় আমরা যে ধরণের নিখুঁত ও প্রথাগত গোয়েন্দা দেখতে অভ্যস্ত, আদিত্য তাদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তার মধ্যে ভুলভ্রান্তি আছে, সে দুর্বল এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ সামলানোর পাশাপাশি এই জটিল কেসটির সমাধান করার চেষ্টা করছে। চরিত্রটির এই মানবিক দিক এবং ইমোশনাল লেয়ারগুলোই আমাকে আকর্ষণ করেছিল। নির্মাতা বা পরিচালক হিসেবে হইচই-এর সাথে আমার সম্পর্ক অনেক পুরনো হলেও, একজন অভিনেতা হিসেবে ‘হইচই অরিজিনাল সিরিজ’-এ এটাই আমার প্রথম কাজ। আমি অত্যন্ত আপ্লুত।’
পরমব্রতর স্ত্রীর চরিত্রে ঋতাভরী
সিরিজে আদিত্যর স্ত্রী ও তাঁর অন্যতম পরামর্শদাতা ‘রত্না’-র চরিত্রে দেখা যাবে ঋতাভরীকে। তিনি জানান, ‘আদিত্যর এই রহস্যময় সফরে রত্না খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করে। সে গল্পে একাধারে যেমন আবেগ ও বুদ্ধিমত্তার ভারসাম্য বজায় রাখে, তেমনই পরোক্ষভাবে এই তদন্তের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। চিত্রনাট্যটি প্রথম পড়ার সময় থেকেই আমাকে একদম আটকে রেখেছিল। আমি নিশ্চিত দর্শকরা এই গল্পের প্রতিটা টুইস্ট দারুণ উপভোগ করবেন।’
এখানে কিছুই সোজা নয়'— পায়েল সরকার
চৌধুরী পরিবারের জটিল সমীকরণের মাঝে ‘মার্থা স্যাভিও’ নামের একটি কৌতূহল জাগানো চরিত্রে অভিনয় করছেন পায়েল সরকার। এছাড়াও এই সিরিজে দেখা মিলবে ভরত কল, সৃজলা গুহ, খেয়া চট্টোপাধ্যায়, বিমিল গিরি, ইন্দ্রাশিস আচার্যের। সাহিত্যিক অভিরূপ সরকারের প্রশংসিত উপন্যাস ‘চৌধুরী বাড়ির রহস্য’ অবলম্বনে এবং পদ্মনাভ দাশগুপ্তের ধারালো চিত্রনাট্য ও সংলাপে তৈরি এই সিরিজটি আগামী জুলাই (২০২৬) মাসে পর্দায় ঝড় তুলতে আসছে।