টলিপাড়ার অন্দরে একের পর এক নক্ষত্রপতন আর মানসিক অবসাদের খবর যেন থামতেই চাইছে না। পরিচালক অনীক দত্তর মৃত্যুর রেশ কাটার আগেই এবার বিনোদন দুনিয়া থেকে উঠে এল আরও এক মর্মান্তিক খবর। কাজের অভাব এবং গভীর অবসাদের জেরে এবার ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহননের চেষ্টা করলেন পরিণীতা ধারাবাহিকের অত্যন্ত পরিচিত মুখ মৌলি দত্ত। তবে সৌভাগ্যবশত, সঠিক সময়ে বন্ধুরা এসে উদ্ধার করায় এই মুহূর্তে তিনি বিপদমুক্ত।

আজকাল ডট ইন-কে নিজের এই চরম পদক্ষেপ ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে খোদ মুখ খুললেন অভিনেত্রী। ইএমআই-এর চাপ আর কাজের অভাব, নেপথ্যে গভীর অবসাদনিজেকে শেষ করে দেওয়ার মতো এমন ভয়ানক সিদ্ধান্ত কেন নিতে গেলেন মৌলি? এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ না পাওয়ার কারণে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। বর্তমানে যে প্রজেক্টে তিনি কাজ করছেন, সেখানে তাঁর তেমন কোনো ডেট বা নিয়মিত ডাক থাকে না। অথচ কলকাতা শহরে টিকে থাকার বেসিক খরচ এবং ফ্ল্যাটের ইএমআই (EMI) প্রতি মাসে তাঁকেই দিতে হয়। কাটোয়ায় থাকা পরিবারের সমস্ত দায়িত্বও ওঁর কাঁধেই। মৌলি আক্ষেপের সুরে জানান, তাঁর হাতে কাজ নেই। অথচ বর্তমান বাজারদর যা তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টলিপাড়ার বিভিন্ন জায়গায় কাজের কথা বললে শুধু 'হ্যাঁ দেখছি' বা 'জানাব' শুনতে হতো। কেউ কেউ আবার বলতেন যে ওঁর মতো কোনো চরিত্র নেই কিংবা ফ্যামিলি ক্যারেক্টারের জন্য উনি মানানসই নন! অথচ কেরিয়ারের শুরু থেকে মৌলি ফ্যামিলি ক্যারেক্টারই করে এসেছেন।
প্রেমের ভাঙাগড়ার গল্পকে উড়িয়ে দিয়ে মৌলি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এর পেছনে কোনো বয়ফ্রেন্ড বা প্রেমের বিষয় জড়িত ছিল না। তিনি নিজের মতো ভালো থাকতে, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে ভালোবাসতেন। কিন্তু কাজের অবসাদের মাঝেই সেদিন এক কাছের বন্ধুর সঙ্গে তাঁর একটু মনোমালিন্য হয়ে যায়। সবকিছু একসঙ্গে মাথার ওপর চেপে বসায় চরম অভিমান হয়েছিল মৌলির। তাঁর মনে হচ্ছিল, ওঁর কথা শোনার মতো বা ওঁর পাশে থাকার মতো বোধহয় কেউ নেই। এই চরম মানসিক একাকীত্ব থেকেই ডিপ্রেশনের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের দেওয়া এক পাতা ঘুমের ওষুধ একবারে খেয়ে নেন তিনি। পরবর্তীতে ওঁর বন্ধুবান্ধবরাই ফ্ল্যাটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পুলিশে খবর দেয়। বন্ডে সই করে বাড়ি ফিরেছেন।
{{/usCountry}}প্রেমের ভাঙাগড়ার গল্পকে উড়িয়ে দিয়ে মৌলি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এর পেছনে কোনো বয়ফ্রেন্ড বা প্রেমের বিষয় জড়িত ছিল না। তিনি নিজের মতো ভালো থাকতে, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে ভালোবাসতেন। কিন্তু কাজের অবসাদের মাঝেই সেদিন এক কাছের বন্ধুর সঙ্গে তাঁর একটু মনোমালিন্য হয়ে যায়। সবকিছু একসঙ্গে মাথার ওপর চেপে বসায় চরম অভিমান হয়েছিল মৌলির। তাঁর মনে হচ্ছিল, ওঁর কথা শোনার মতো বা ওঁর পাশে থাকার মতো বোধহয় কেউ নেই। এই চরম মানসিক একাকীত্ব থেকেই ডিপ্রেশনের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের দেওয়া এক পাতা ঘুমের ওষুধ একবারে খেয়ে নেন তিনি। পরবর্তীতে ওঁর বন্ধুবান্ধবরাই ফ্ল্যাটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পুলিশে খবর দেয়। বন্ডে সই করে বাড়ি ফিরেছেন।
{{/usCountry}}মৌলি জানান, আগের থেকে তিনি অনেকটাই সুস্থ, তবে শরীরে এখনও চরম দুর্বলতা রয়েছে। হাসপাতালে থাকতে ভালো লাগছিল না বলে বন্ডে সই করে কালই বাড়ি ফিরে এসেছেন তিনি। কাল পর্যন্ত একটা প্রবল ঝিমুনি ভাব থাকলেও, এখন তিনি স্বাভাবিক। এই চরম বিপদের দিনে একটা বড় শিক্ষা পেয়েছেন মৌলি। এখন তাঁর মনে হচ্ছে যে এই কাজটা করা ওঁর মোটেও উচিত হয়নি। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই তিনি চিনে নিতে পেরেছেন যে কে ওঁর আসল বন্ধু, আর কারা দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।