আর মাস দেড়েক পড়েই মর্তে আসবেন দেবী দুর্গা। ইতিমধ্যেই পুজোর আবহ তিলোত্তমায়। পড়তে শুরু করেছে প্যান্ডেল। যদিও চলতি বছরে মায়ের পুজোর প্রস্তুতিতে একটু ঢিমেতাল। কারণ বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে, বড় বড় ক্লাবগুলির দায়িত্বেও হাত বদল এসেছে। তবে তাতে অবশ্য সাধারণ মানুষের উৎসাহে কোনো ভাঁটা নেই। কারণ দুর্গাপুজো মানেই যে কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া, নতুন জামায় সাজুগুজু, প্রিয়জনের সঙ্গে দেদার আড্ডা, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, প্রেমিকের সঙ্গে সেলফি-- আরও কত কী!

তবে এসবের মাঝেই ছন্দ কাটছে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যে। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু নেতানেত্রী (পড়ুন শাসক দলের) দুর্গাপুজো নিয়ে এমনসব মন্তব্য করছেন যাতে বাঙালি চটে লাল। তা সে খাবার নিয়ে হোক বা থিমের পুজো নিয়ে। আর তার বিরোধিতা করেই ফেসবুকে পোস্ট করলেন পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পরমা লিখেছেন, ‘বাঙালির দুর্গাপুজোয় অবাঙালি 'পেঁয়াজি' একদম নিতে পারছি না ! মেনু থেকে মাছ, মাংস, বিরিয়ানি, ফিশফ্রাই, এগ রোল উঠে গেলে খাব কি! রাজমা চাওয়াল ?যাহ্!’
‘আর থিম পুজো? পুজো কে ঘিরে এত সুন্দর ফ্রী আর্ট ফেস্টিভ্যাল তো সারা দেশের গর্ব। কত শিল্পী, কত গ্রামের মা-বোনদের রোজগার হয় এখান থেকে। সরকার কি করতে চায় জানি না বাপু! ভাল্লাগছে না।’, আরও লেখেন পরমা।
আসলে সবটাই হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের 'বিশেষ গাইডলাইন' নিয়ে। যদিও এসব মানতে একেবারেই নারাজ বাঙালি। যেখানে প্রথমে বলা হয়েছিল, দুর্গাপুজোর আশেপাশে আমিষ বিক্রি করা যাবে না। যদিও পরে তারা দাবি করেন, তাঁদের বক্তব্যকে ভুলভাবে অনুধাবন করা হয়েছে। দাবি, তাঁরা বলতে চেয়েছেন পুজো মণ্ডপে আমিষ নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।
সঙ্গে, ‘আর্ট’-এর নামে যা খুশি তা-ই চালিয়ে দেওয়া সহ্য করা হবে না, এমন কথাও বলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। যাতে সুর মিলিয়েছে বিজেপির কিছু নেতা-মন্ত্রীও। এমনকী, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেন মা দুর্গার মুখ ‘মা দুর্গার মতো’ই দেখতে হয়। কোনো বাচ্চা মেয়ে বা ওই ধরনের না হয়! আর্টের নামে জুতো কিংবা ডিমের প্যান্ডেল বানিয়ে পুজোর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা বরদাস্ত করা হবে না।
অর্থাৎ, এবছর পুজোর আগের পরিস্থিতি বেশ টালমাটাল। যদিও এসব ক্লাব বা পুজো কর্মকর্তাদের মাথাব্যথার কারণ! সাধারণ মানুষ কিন্তু বরাবরের মতো এবারেও মা দুর্গাকে ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
প্রসঙ্গত, পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় আসা বিজেপি সরকারের বিপক্ষে একাধিক পোস্ট করেছেন। এমনকী, তিনি এমনটাও দাবি করেন যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকেই ভোট দিয়েছিলেন। তবে এখন নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তাঁরই মনে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় আসা বিজেপি সরকারের বিপক্ষে একাধিক পোস্ট করেছেন। এমনকী, তিনি এমনটাও দাবি করেন যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকেই ভোট দিয়েছিলেন। তবে এখন নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তাঁরই মনে।
{{/usCountry}}