দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার বিনোদন জগতে একপ্রকার রাজত্ব করে চলেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। একসময় যখন বাংলা সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়েছিল দর্শকরা, কোনো ইনভেস্টারই রাজি ছিল না বাংলা সিনেমাতে বিনিয়োগে, তখনো একার কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন সব দায়িত্ব। তাই তো এখন তিনিই ‘ইন্ডাস্ট্রি’। তাঁকে ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখে আট থেকে আশি-রা। সম্প্রতি সামনে এল অভিনেতার মানবিক মুখ, যা আরও একবার মন কাড়ল তাঁর ভক্তদের।

একটি পাপারাজ্জি পেজ থেকে ভিডিয়োটি শেয়ার করে নেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জে নায়কের সঙ্গে দেখা করতে হাজির তাঁর এক খুদে ভক্ত। যে রাস্তায় পেন বিক্রি করে। প্রসেনজিৎকে একঝলক দেখার আশায় সে প্রায়ই দাঁড়িয়ে থাকে ‘উৎসব’-এর সামনে। আর জানতে পেরে বেরিয়ে এসে দেখা করলেন তিনি। খুদে ভক্তকে হতাশ করেননি একেবারেই।
দেখা যায় পছন্দের নায়ককে সামনে দেখে ছেলেটি যারপরনাই খুশি। এগিয়ে এসে প্রসেনজিতের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে সে। মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেন টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠ পুত্র’। ছেলেটির ব্যাপারে জানতে চান। দুজনে কথা বলেন। সেই ভিডিয়ো সামনে আসতেই এক নেটিজেন মন্তব্য করলেন, ‘লিভিং লেজেন্ড’। আরেকজন লেখেন, ‘জানি অনেকে অনেক কথা বলে। তবে এই মানুষটা উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর টলিউডকে নতুন দিশা দেখিয়েছে’। আরেকজন লিখলেন, ‘মিস্টার ইন্ডাস্ট্রি’।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ৩৫০ থেকে ৪০০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়ের পুত্র তিনি। যদিও ছোটবেলাটা বেশ কষ্টেই কাটিয়েছেন। ১৯৭০-এর দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে ঋত্বিক ঘটকের সহকারী পরিচালক বিমল রায়ের 'ছোট্ট জিজ্ঞাসা' সিনেমায় দেখা গিয়েছিল ছোট্ট বুম্বাকে। ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তরুণ মজুমদারের 'অমর সঙ্গী' সিনেমাটি তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। এই ছবির ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ গানটি আজও বাঙালি শ্রোতাদের মনে জায়গা করে আছে। ঋতুপর্ণ ঘোষ, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, গৌতম ঘোষের মতো পরিচালকদের সঙ্গে করেছেন কাজ।
২০০৭ সালে 'দোসর' চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (Special Jury Award) লাভ করেন। ২০২৬ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রীও লাভ করেন।
{{/usCountry}}২০০৭ সালে 'দোসর' চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (Special Jury Award) লাভ করেন। ২০২৬ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রীও লাভ করেন।
{{/usCountry}}