ভোর ৪:১৫-র পুণ্য 'ব্রহ্ম মুহূর্তে' মুক্তি পেল নীতীশ তিওয়ারির বহু প্রতীক্ষিত মেগা ছবি 'রামায়ণ'-এর ট্রেলার। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় এই সৃষ্টি ঘিরে বহু দিন ধরেই উত্তেজনা তুঙ্গে। অবশেষে দেখা মিলল অযোধ্যার রাজকুমার রাম হিসেবে রণবীর কাপুর, সীতার চরিত্রে সাই পল্লবী, লক্ষ্মণের ভূমিকায় রভি দুবে এবং রাবণের মহাশক্তিশালী চরিত্রে দক্ষিণী মেগাস্টার যশের। প্রথম টিজারের পর ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং গ্রাফিক্স অনেকটাই বদলে ফেলা হয়েছে, কিন্তু ট্রেলার সামনে আসতেই স্পষ্ট দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল নেটপাড়া!

ট্রেলারে রাজকীয় লঙ্কা ও অযোধ্যা, কিন্তু নিখোঁজ সানি দেওলের হনুমান!
ট্রেলারের সূচনাতেই বিশাল প্রাসাদের দরজায় সশব্দে আঘাত হেনে গর্জে ওঠেন রাবণ অর্থাৎ যশ। সেখান থেকেই সূচনা হয় ওঁর দাপুটে 'রাবণ রাজ'-এর।
এরপরই মর্ত্যে বিষ্ণুর অবতার হয়ে রামের আবির্ভাব, মহর্ষি বিশ্বামিত্রের সাথে রাক্ষস বধ এবং পরবর্তীতে রানী কৈকেয়ী (লারা দত্ত)-র বচনে পিতা দশরথ (অরুণ গোভিল)-এর নির্দেশে ১৪ বছরের বনবাসের পটভূমি ভেসে ওঠে। রামের সাথে ছায়ার মতো যোগ দেন সীতা ও ভাই লক্ষ্মণ। আগের টিজারের মতো অতিরিক্ত কাল্পনিক জীবজন্তু না দেখিয়ে এবার অযোধ্যা ও লঙ্কার বিশাল সেট এবং আবেগের ওপর জোর দিয়েছেন পরিচালক। তবে সবচেয়ে বড় চমক, পুরো ট্রেলারে সানি দেওলের হনুমান রূপের বিন্দুমাত্র ঝলক রাখা হয়নি! হয়তো দ্বিতীয় পর্বের জন্য সেই মহা-চমক লুকিয়ে রেখেছেন নির্মাতারা।
৪০০০ কোটির বাজেট বনাম ভিজ্যুয়ালস: প্রশংসার মাঝেও কটাক্ষের সুর
{{/usCountry}}৪০০০ কোটির বাজেট বনাম ভিজ্যুয়ালস: প্রশংসার মাঝেও কটাক্ষের সুর
{{/usCountry}}ট্রেলারের বিশাল ক্যানভাস, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং কালার গ্রেডিং দেখে তো আনন্দে আত্মহারা ভক্তদের একাংশ। ওনাদের দাবি, এটি স্রেফ কোনো ট্রেলার নয়, ভারতীয় সিনেমার এক ঐতিহাসিক আত্মপ্রকাশ!
তবে অন্য একাংশ কিন্তু খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁদের মতে, ছবিটির ৪০০০ কোটি টাকার বাজেটের যে বিশাল হাওয়া তোলা হয়েছিল, ভিজ্যুয়ালস এখনো সেই মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। কিছু দৃশ্যে সবুজ পর্দার কাজ বড্ড বেশি স্পষ্ট বলে দাবি করেছেন সিনেমা প্রেমীদের একাংশ।
রণবীরের রাম রূপ নিয়ে খটকা, যশের তাণ্ডবে থরহরি কম্প!
অভিনয় ও চরিত্রের রূপায়ন নিয়েও শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক: রামের চরিত্রে রণবীরের শান্ত ভাব পছন্দ হলেও সংলাপ বলার ধরন ও গলার স্বর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকরা। রাবণ চরিত্রে যশের এন্ট্রি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁর অসীম তেজ, চোখের আগুন চাউনি আর রাজকীয় উপস্থিতি দেখে দর্শকদের দাবি— এটি এক যুগান্তকারী কাস্টিং! আগামী দিনে বহু বছর যশের এই রাবণ রূপকে মনে রাখবে মানুষ।
আগের বিতর্ক কাটিয়ে এই মেগা ট্রেলার ছবির প্রতি আগ্রহ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, নাকি ওনাদের প্রত্যাশা মেটাতে পারল না— তা নিয়ে এখন তুলকালাম যুদ্ধ চলছে নেটপাড়ায়!