দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে দিন কয়েক আগে কলকাতায় বামপন্থীদের এক মিছিলে সামিল হয়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সেই মিছিলে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি কুরুচিকর ও বিকৃত ছবি সম্বলিত পোস্টার হাতে তুলে ধরে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে শ্রীলেখার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হওয়ার পর এবার এই ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ ও বিশিষ্ট অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল।

‘একজন সেলিব্রেটি হয়ে আগে না দেখে পোস্টার তুলে ধরলে কেন?’
মহানায়ক উত্তম কুমারের স্নেহধন্যা প্রবীণ অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল শ্রীলেখার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
তারকা হিসেবে দায়িত্ববোধের অভাব
রত্না দেবী জানান, একজন পরিচিত মুখ বা সেলিব্রিটি কোনো কিছু হাত উঁচিয়ে ধরা মানেই সাধারণ মানুষের কাছে সেটা এক ধরণের প্রচার। তাই কিসের পোস্টার ধরা হচ্ছে, তা না দেখে সরাসরি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরাটা অত্যন্ত বড় ভুল।
ঘটনার পর শ্রীলেখা দাবি করেছিলেন যে চশমা সঙ্গে না থাকায় তিনি পোস্টারের ছবি দেখতে পাননি। রত্না ঘোষালের তোপ, ‘ওর যত বয়স বাড়ছে মাথাটা তত খারাপ বয়ে যাচ্ছে। ওহ (শ্রীলেখা) একটা সেলিব্রিটি। ওর হাতে যেটা ধরিয়ে দেবে, সেটা ও দেখাবে কেন? নিজের আগে দেখা উচিত ছিল সেখানে কী আছে! ওহ তো নিজেও বলছে আমি দেখিনি। এটা ওহ খুব ভুল করেছে।’
আফসোসের সুরে যোগ করেন, ‘এই ভুলের মাশুল ওকে দিতে হচ্ছে। লোকের কাছে বলতে হচ্ছে, ওর নামে এফআইআর হয়েছে, সেখানে যেতে হচ্ছে। এই করতে হচ্ছে.. এই সব ঝামেলা করে লাভ নেই... কী দরকার ছিল এই সবের? ওহ একবার যদি দেখে নিত, তাহলে এমনটা হত না।’
{{/usCountry}}আফসোসের সুরে যোগ করেন, ‘এই ভুলের মাশুল ওকে দিতে হচ্ছে। লোকের কাছে বলতে হচ্ছে, ওর নামে এফআইআর হয়েছে, সেখানে যেতে হচ্ছে। এই করতে হচ্ছে.. এই সব ঝামেলা করে লাভ নেই... কী দরকার ছিল এই সবের? ওহ একবার যদি দেখে নিত, তাহলে এমনটা হত না।’
{{/usCountry}}বামপন্থীদের মিছিলে প্রধানমন্ত্রীকে বিকৃত করে দেখানো পোস্টার বিতর্ক এখন টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। শ্রীলেখার বিরুদ্ধে চলা আইনি পদক্ষেপ নিয়ে নেটপাড়াতেও চলছে তীব্র তর্ক-বিতর্ক।
মোদীর পোস্টার ইস্যুতে সাফাই দিয়ে শ্রীলেখা জানিয়েছিলেন, ‘আমি একটা পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি সেটা ভাইরাল করা হয়েছে। ছবিটা দেখলেই বুঝবেন, আমি বিজেপি বিরোধী যতই হই, অন্ধভক্ত বিরোধী যতই হই, বা মোদী বিরোধী হই। কেউ আমাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিলে সেটা হাস্যকর ব্যাপার। একইরকম হাস্যকর, আমি ইচ্ছে করে ওই ছবিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছি। পেটে তো একটু শিক্ষাদীক্ষা আছে। ওতো লাখ লাখ হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঘামের গন্ধ, ওই মাঠে দাঁড়িয়ে বিপ্লব যেটা… যখন লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। আর পাঁচটা যুব-ছাত্রদের সাথে আমিও দৌড়েছি। আমি আগে অনেক মিটিং-মিছিলে গেছি তবে এমনটা হয়নি’।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমারও একটা মেয়ে আছে বড় হচ্ছে।...চশমা ছাড়া গিয়েছিলাম সানগ্লাস হাতে। ওইটুকু পোস্টারে মোদীজির বিলো দ্য বেল্টের দিকে আমার চোখটা যায়নি। মহিলারা পুরুষমানুষকে দেখলে ৯৫% নিম্নাঙ্গে দেখি না।… আমি পোস্টারটা ঘুরিয়ে দেখিওনি। সময়ও ছিল না, পুলিশের লাঠিচার্জ হচ্ছে। তারপরে শুনছি আমার নামে অনেক কিছু হচ্ছে, আমাকে ইমিটিয়েড গ্রেফতারির দাবি উঠছে… এমন শাস্তি দেবেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যে তিন পুরুষ মনে রাখবে। এক কাজ কারুন, আপনার যে আপ্ত সহায়কদের পরপর মৃত্যু হয়েছে, আপনি আগে তাদের (সেই মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী) কড়া শাস্তি দিন’।