জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সঞ্চিতা উগালের আকস্মিক আত্মহত্যার খবর ওলটপালট করে দিয়েছে নেটপাড়া। মাত্র কয়েক বছরের কেরিয়ারে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই তরুণীর এমন চরম সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না কেউই। বিনোদন জগতের এই মর্মান্তিক ক্ষতিতে এবার মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেতা তথা বিজেপি সাংসদ রবি কিষাণ।

সঞ্চিতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের এই চরম মানসিকতা ও আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন রবি কিষাণ।
‘আত্মহত্যা সবচেয়ে বড় পাপ’— রবি কিষাণের স্পষ্ট বার্তা
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সঞ্চিতা উগালের মৃত্যুর খবর শুনে স্তব্ধ হয়ে যান রবি কিষাণ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়তে থাকা মানসিক অবসাদ এবং এই ধরণের মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
রবি কিষাণ বলেন, ‘সঞ্চিতার আত্মহত্যার খবর শুনে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। এত কম বয়সে একটা ফুটফুটে মেয়ের এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না। তবে আমি সবসময় একটা কথা বলি— ‘আত্মহত্যা সবচেয়ে বড় পাপ’। ঈশ্বর আমাদের এই সুন্দর জীবন দিয়েছেন লড়াই করার জন্য, এভাবে মাঝপথে হাল ছেড়ে দেওয়ার জন্য নয়।’
বর্তমান প্রজন্ম ও সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ নিয়ে উদ্বেগ
রবি কিষাণ বর্তমান লাইমলাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতির অন্ধকার দিকটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড বা সোশ্যাল মিডিয়ার চাকচিক্যের আড়ালে তরুণরা এক চরম একাকীত্ব এবং ট্রোলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।
তিনি যোগ করেন, ‘আজকের প্রজন্মের মধ্যে ধৈর্যের বড্ড অভাব। সামান্য কোনও ব্যর্থতা বা ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এলেই তারা জীবন শেষ করার কথা ভাবে।’
{{/usCountry}}তিনি যোগ করেন, ‘আজকের প্রজন্মের মধ্যে ধৈর্যের বড্ড অভাব। সামান্য কোনও ব্যর্থতা বা ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এলেই তারা জীবন শেষ করার কথা ভাবে।’
{{/usCountry}}বিজেপি সাংসদ আরও বলেন, ‘আমি সব বাবা-মায়ের কাছে অনুরোধ করব, আপনাদের সন্তানদের সাথে কথা বলুন। গ্ল্যামার বা ভিউয়ারশিপের দুনিয়াটাই সব নয়। কোনও সমস্যা হলে পরিবারের সাথে শেয়ার করা উচিত, আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া কখনোই কোনও সমাধান হতে পারে না।’
কে ছিলেন সঞ্চিতা উগালে?
সঞ্চিতা উগালে মূলত ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে নিজের রিলস ও শর্ট কন্টেন্টের জন্য দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। লাখ লাখ অনুরাগী ছিল তাঁর। তবে পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, গত বেশ কিছুদিন ধরে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদ এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের বাসভবনে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন, যা গোটা দেশের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।