বিগত কিছুদিন যাবত যে লড়াই চলছিল, সেই লড়াই থেমে গেল আজ। না ফেরার দেশে চলে গেলেন রাজা সেন। শেষ হলো তাঁর পথচলা। ৭১ বছর বয়সে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এই পরিচালক।

রাজা সেনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা টলিউড। পরিচালকের শেষ দিন পর্যন্ত হাসপাতালে থেকে যথাযথ ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। কিন্তু এত চেষ্টা বিফলে চলে গেল। পরিচালকের প্রয়াণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ঋতুপর্ণা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন এমন অনেক না জানা কথা, যা জমেছিল তাঁর মনের গভীরে।
আরও পড়ুন: তৃতীয় বিয়ের মাস ঘুরতেই দুঃসংবাদ আমিরের বাড়িতে, কী হল আচমকা?
রাজা সেনের সঙ্গে তোলা বেশ কিছু সুন্দর মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে ঋতুপর্ণা লেখেন, ‘রাজা সেনের মতো হৃদয়বান একজন মানুষ খুব কম ছিল এই ইন্ডাস্ট্রিতে। তিনি এমন অনেক ছবি সকলকে উপহার দিয়েছেন, যা সারা জীবন সকলের মনে থেকে যাবে। একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন উনি, যার ছন্দপতন হল। নক্ষত্রপতন হল আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির। কিন্তু ওনার মূল্যায়ন হয়তো করতে পারলাম না আমরা। ওঁর মতো একজন পরিচালককেও প্রডিউসার নিয়ে খোঁজ করতে হতো। আরো অনেক ভালো কাজ করার ইচ্ছে ছিল, ভালো কাজের কি মূল্যায়ন হয়, ঠিক জানি না।’
অভিনেত্রীর কথায়, পরিচালকের চলে যাওয়ায় তিনি অভিভাবকহীন হলেন। বাবার মতো তাঁকে সারা জীবন আগলে রাখতেন রাজা সেন। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হয়েও নিজের থেকে বেশি খেয়াল রাখতেন অন্যের। ঋতুপর্ণাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসতেন তিনি, বিভিন্ন ছবি দেখে ঋতুপর্ণার কাজের প্রশংসা করতেন। বিশ্লেষণ করতেন চরিত্রের।
{{/usCountry}}অভিনেত্রীর কথায়, পরিচালকের চলে যাওয়ায় তিনি অভিভাবকহীন হলেন। বাবার মতো তাঁকে সারা জীবন আগলে রাখতেন রাজা সেন। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হয়েও নিজের থেকে বেশি খেয়াল রাখতেন অন্যের। ঋতুপর্ণাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসতেন তিনি, বিভিন্ন ছবি দেখে ঋতুপর্ণার কাজের প্রশংসা করতেন। বিশ্লেষণ করতেন চরিত্রের।
{{/usCountry}}‘রাজা সেনের ছবিতেই জয়া বচ্চন থেকে তাপস পাল, অপর্ণা সেন থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এমন অনেক তারকারা নিজেদের অভিনয়ের ছাপ ফেলে রেখেছেন। কিন্তু যে পরিচালক বাংলাকে এনে দিয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কার, সেই রাজা সেন হয়তো প্রাপ্য সম্মান পেলেন না। যতটা সম্মান পাওয়া উচিত ছিল, ততটা দিতে পারল না ইন্ডাস্ট্রি’, লিখলেন ঋতুপর্ণা।
আরও পড়ুন: কেরালার পথে একেনবাবু, প্রকাশ্যে মোশন পোস্টার, ফার্স্ট লুক
রাজা সেনের আত্মার শান্তি কামনা করে ঋতুপর্ণা লেখেন, ‘সব সময় আমি থাকব পাপিয়াদির সঙ্গে। রাজাদার সঙ্গে, তার কাজের সঙ্গে, এই পরিবারের সঙ্গে। আমি আজকের ঋতুপর্ণা হয়েছি, তার জন্য রাজা সেনের অনেক অবদান রয়েছে। আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন উনি। যেখানেই আছো, চাইব পরের জন্মে যেন সব আশা পূর্ণ হয়।’