প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্টার হাতে ছবি ওঠার পর আনন্দপুর থানায় শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বিজেপি। এবার এই নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী ও অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র (Rupanjana Mitra) কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন শ্রীলেখার বিরুদ্ধে। গোটা বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন শ্রীলেখা মিত্রও।

রূপাঞ্জনা মিত্রের কড়া প্রতিক্রিয়া
শ্রীলেখার এমন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যমে সরব হন রূপাঞ্জনা। শ্রীলেখার উদ্দেশ্য়ে তিনি লেখেন, ‘শ্রীলেখা মিত্র, তোমার থেকে এটা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না! ছবিটা তোলার আগে অন্তত ছবিটা কীসের, সেটা দেখা উচিত ছিল তোমার। আর দয়া করে এভাবে জেন-জি (Gen Z)-দের অপমান কোরো না!’
রূপাঞ্জনার মতে, না বুঝে বা পোস্টার না দেখে এভাবে ছবি তোলা দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ এবং এর দায় জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের ওপর চাপানো উচিত নয়।
শ্রীলেখা মিত্রের সাফাই ও ব্যাখ্যা
চারিদিক থেকে ট্রোল, এফআইআর এবং সতীর্থদের সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের সাফাই গেয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র।
শুক্রবার ধর্মতলায় বামেদের ডাকা প্রতিবাদ মিছিলে তরুণদের (Gen Z) উৎসাহ দিতে গিয়ে তিনি ভিড়ের মধ্যে একটি পোস্টার হাতে তুলে নিয়েছিলেন। পোস্টারে ঠিক কী লেখা বা আঁকা ছিল, তা ছবি তোলার মুহূর্তে তিনি খেয়াল করেননি বা পিছন থেকে দেখতে পাননি। পাশাপাশি তিনি নাকি ওইদিন চশমা পরে যেতে ভুলে গিয়েছিলেন!
তিনি বলেন, ‘আমি একটা পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি সেটা ভাইরাল করা হয়েছে। ছবিটা দেখলেই বুঝবেন, আমি বিজেপি বিরোধী যতই হই, অন্ধভক্ত বিরোধী যতই হই, বা মোদী বিরোধী হই। কেউ আমাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিলে সেটা হাস্যকর ব্যাপার। একইরকম হাস্যকর, আমি ইচ্ছে করে ওই ছবিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছি। পেটে তো একটু শিক্ষাদীক্ষা আছে। ওতো লাখ লাখ হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঘামের গন্ধ, ওই মাঠে দাঁড়িয়ে বিপ্লব যেটা… যখন লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। আর পাঁচটা যুব-ছাত্রদের সাথে আমিও দৌড়েছি। আমি আগে অনেক মিটিং-মিছিলে গেছি তবে এমনটা হয়নি’।
{{/usCountry}}তিনি বলেন, ‘আমি একটা পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি সেটা ভাইরাল করা হয়েছে। ছবিটা দেখলেই বুঝবেন, আমি বিজেপি বিরোধী যতই হই, অন্ধভক্ত বিরোধী যতই হই, বা মোদী বিরোধী হই। কেউ আমাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিলে সেটা হাস্যকর ব্যাপার। একইরকম হাস্যকর, আমি ইচ্ছে করে ওই ছবিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছি। পেটে তো একটু শিক্ষাদীক্ষা আছে। ওতো লাখ লাখ হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঘামের গন্ধ, ওই মাঠে দাঁড়িয়ে বিপ্লব যেটা… যখন লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। আর পাঁচটা যুব-ছাত্রদের সাথে আমিও দৌড়েছি। আমি আগে অনেক মিটিং-মিছিলে গেছি তবে এমনটা হয়নি’।
{{/usCountry}}শ্রীলেখার কথায়, ‘আমারও একটা মেয়ে আছে বড় হচ্ছে।...চশমা ছাড়া গিয়েছিলাম সানগ্লাস হাতে। ওইটুকু পোস্টারে মোদীজির বিলো দ্য বেল্টের দিকে আমার চোখটা যায়নি। মহিলারা পুরুষমানুষকে দেখলে ৯৫% নিম্নাঙ্গে দেখি না।… আমি পোস্টারটা ঘুরিয়ে দেখিওনি। সময়ও ছিল না, পুলিশের লাঠিচার্জ হচ্ছে। তারপরে শুনছি আমার নামে অনেক কিছু হচ্ছে, আমাকে ইমিটিয়েড গ্রেফতারির দাবি উঠছে… এমন শাস্তি দেবেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যে তিন পুরুষ মনে রাখবে। এক কাজ কারুন, আপনার যে আপ্ত সহায়কদের পরপর মৃত্যু হয়েছে, আপনি আগে তাদের (সেই মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী) কড়া শাস্তি দিন’।
অভিনেত্রীর সাফ কথা, ‘আমাকে অ্যারেস্ট করার ইচ্ছে হলে করবেন, ফাঁসিতে চড়ানোর ইচ্ছে হলে চড়াবেন, আবার একটা আন্দোলন হবে… আমি তৈরি’।
. টলিপাড়ায় দুই অভিনেত্রীর মুখোমুখি
রাজনীতি ও মূল্যবোধের প্রশ্নে টলিপাড়ার এই দুই পরিচিত মুখের বিপরীত অবস্থান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে রূপাঞ্জনা মিত্র যেখানে প্রধানমন্ত্রীর পদের সম্মান ও সচেতনতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, অন্যদিকে শ্রীলেখা দাবি করছেন যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য পুরো ছাত্র আন্দোলন বা জেন-জি-দের প্রতিবাদকে কালিমালিপ্ত করা ঠিক নয়।