রাজ্যজুড়ে পুরসভা ও প্রশাসনের তরফ থেকে বেআইনি জবরদখল ও হকার উচ্ছেদের যে অভিযান চলছে, তা এবার চরম রূপ নিল যাদবপুর স্টেশন রোড এলাকায়। রবিবার মধ্যরাতে সেখানে চলে বুলডোজার। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক দোকানপাট ও রুটিরুজির সংস্থান। হকার উচ্ছেদ রুখতে ময়দানে নেমেছিল বাম-কংগ্রেস। রবিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধ্বস্তিতে আহত হন একাধিক বাম কর্মী। লাঠির আঘাতে মাথা ফাটে বর্ষীয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তীর, আটক করা হয় সৃজনকে। ঘটনার ধারেকাছেও ছিল না তৃণমূল।

প্রশাসনের এই আচমকা অ্যাকশনকে ‘হৃদয়বিদারক’ ও ‘অন্যায্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। তবে এই তীব্র উত্তেজনার মাঝেও সায়নীকে সশরীরে স্পটে বা ‘মাঠে’ না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় হকার ও বাসিন্দাদের একাংশ।
‘হাজার হাজার মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে’— সায়নী ঘোষ
যাদবপুর স্টেশন রোডে বুলডোজার চালানোর ঘটনা সামনে আসতেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাংসদ সায়নী ঘোষ। রাজ্যজুড়ে চলা এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে পরোক্ষে নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান: ‘যাদবপুর স্টেশন রোডে যেভাবে বুলডোজার চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই উচ্ছেদ অভিযান হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে তাঁদের আয়ের উৎস থেকে বঞ্চিত করছে। কোনও আগাম নোটিশ বা ইতিবাচক আলোচনা ছাড়া এভাবে বলপূর্বক উচ্ছেদ করা একেবারেই অন্যায্য। পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের এই সম্পূর্ণ নীরবতা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সরকারের অসহনশীলতার পরিচয় দেয় এবং তাদের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।’
ক্ষোভের মুখে সাংসদ: "মাঠে পাওয়া যায়নি তাঁকে"
{{/usCountry}}ক্ষোভের মুখে সাংসদ: "মাঠে পাওয়া যায়নি তাঁকে"
{{/usCountry}}সায়নী ঘোষ সোচ্চার হলেও স্থানীয় হকারদের বড় অংশের অভিযোগ, যখন তাঁদের মাথার ওপর বুলডোজার চলছিল, দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন তাঁদের পাশে এসে দাঁড়াননি ঘরের সাংসদ। ভোটের সময় যাঁরা বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই চরম সঙ্কটের দিনে তাঁদের ‘মাঠে’ বা উচ্ছেদস্থলে দেখা যায়নি। মুখে ‘দরিদ্র ও প্রান্তিক’ মানুষের পাশে থাকার কথা বললেও, বাস্তবে পুনর্বাসনের কোনও নিশ্চয়তা না দিয়েই যেভাবে উচ্ছেদ করা হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা
হকার সংগঠনগুলোর দাবি, তাঁরা ফুটপাত বা রাস্তা দখল করে থাকার পক্ষে নন, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করে আসা এই দরিদ্র পরিবারগুলোকে হঠাত্ করে কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না দিয়ে উচ্ছেদ করলে তাঁরা খাবেন কী? সরকারের পুনর্বাসন নীতি নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা এই মুহূর্তে যাদবপুরের হকারদের এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। সাংসদের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর এখন দেখার, প্রশাসন সত্যিই উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য কোনও ইতিবাচক আলোচনার পথ খোলে কি না।