টেলিভিশন দুনিয়ার জনপ্রিয় অভিনেতা রোহিত চান্দেল (সিরিয়াল ‘সাইরাব’, ‘পান্ডিয়া স্টোর’ খ্যাত) বিগত প্রায় দুই মাস ধরে হাজতে বন্দী। ঘাটকোপার পুলিশ তাঁকে পকসো (POCSO) আইনে গ্রেফতার করলেও, পুলিশ ও মেডিক্যাল টিমের একাধিক ভুল তথ্যের কারণে তার জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হয়ে যাচ্ছে অভিনেতার।

ঘটনার বিবরণ ও মামলা:
গত ৯ জুলাই ২০২৬ রাতে ‘সাইরাব’ মেগার শুটিং সেটের মাঝপথ থেকেই গ্রেফতার করা হয় রোহিত চান্দেলকে। ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে উত্যক্ত করা ও হেনস্থা করার অভিযোগে ঘাটকোপার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়।
তদন্তে একের পর এক গাফিলতি ও বড় ভুল:
সম্প্রতি রোহিতের প্রথম জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার কারণ পর্যালোচনা করতে গিয়ে একাধিক সরকারি নথিতে মারাত্মক কিছু ভুল সামনে এসেছে।
পেশা ও ধর্ম পরিবর্তন: শুটিং সেট থেকে গ্রেফতার করা হলেও পুলিশ ডায়রিতে রোহিতকে অভিনেতা না লিখে ‘ব্যবসায়ী’ (Businessman) হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া চার্জশিটে এবং গ্রেফতারির নথিতে ধর্ম আলাদা লেখা হওয়ায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
বৈবাহিক অবস্থার ভুল তথ্য (Marital Status): মেডিক্যাল পরীক্ষার সময় হাসপাতালের ডাক্তার ও পুলিশের নথিতে অবিবাহিত রোহিতকে ‘বিবাহিত’ (Married) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। আদালত যখন জামিনের শুনানি করে, তখন রেকর্ডে তাকে বিবাহিত দেখে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় এবং তা জামিন খারিজের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আদালতে আইনজীবীর তোপ: এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রোহিত চান্দেলের আইনজীবী সুইনা বেদী সচ্চার জানান, 'আইনি নথিতে বা পুলিশ ডায়রিতে বৈবাহিক অবস্থা কোনো সাধারণ তথ্য নয়, এর ওপর আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। পুলিশ ও মেডিক্যাল অফিসারের ভুলের কারণে আমার মক্কেলকে ভুলবশত 'বিবাহিত' বলে দেখানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার এই ভুলের মাশুল গুণতে হচ্ছে রোহিতকে। এতে তার ক্যারিয়ার, রুজি-রুটি এবং ভাবমূর্তির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।'
{{/usCountry}}আদালতে আইনজীবীর তোপ: এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রোহিত চান্দেলের আইনজীবী সুইনা বেদী সচ্চার জানান, 'আইনি নথিতে বা পুলিশ ডায়রিতে বৈবাহিক অবস্থা কোনো সাধারণ তথ্য নয়, এর ওপর আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। পুলিশ ও মেডিক্যাল অফিসারের ভুলের কারণে আমার মক্কেলকে ভুলবশত 'বিবাহিত' বলে দেখানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার এই ভুলের মাশুল গুণতে হচ্ছে রোহিতকে। এতে তার ক্যারিয়ার, রুজি-রুটি এবং ভাবমূর্তির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।'
{{/usCountry}}তদন্তকারী সংস্থার চরম গাফিলতির দরুন একজন অভিযুক্তকে এই ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হওয়ায় আইনি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। তবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর কোর্টে ফের রোহিতের জামিনের আর্জি শুনানি রয়েছে, যেখানে এই ভুলগুলো সংশোধন করে আদালত থেকে তিনি স্বস্তি পেতে পারেন বলে আশা করছে তার আইনি টিম।