বলিউডের খান পরিবারের গণেশ উৎসব মানেই এক বিশাল তারকাদের মেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও অভিনেতা সোহেল খানের গ্যালাক্সি সংলগ্ন বাসভবনে আয়োজন করা হয়েছিল গণপতি বাপ্পার পুজো। মা সালমা খান ও বোন অর্পিতা খান শর্মার হাতে বাপ্পার বরণ দিয়েই সূচনা হয়েছিল পারিবারিক এই উদযাপনের। তবে দিনশেষে সবচেয়ে বড় চমক এনে দিলেন পরিবারের জ্যেষ্ঠ পুত্র তথা বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খান।

‘ওয়ান্টেড’ লুকের সেই পুরানো নস্টালজিয়া
উৎসবের সন্ধ্যায় সোহেলের বাড়ির পুজোর অনুষ্ঠানে নীল স্ট্রাইপড শার্ট, হালকা নীল জিন্স এবং মাথায় সাদা রঙের স্কার্ফ বেঁধে প্রবেশ করেন সলমন। ভাইজানের এই বিশেষ অবতার দেখা মাত্রই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ২০০৯ সালের সুপারহিট ছবি ‘ওয়ান্টেড’-এর স্মৃতি। ছবিতে ঠিক এমনই এক অবতারে বাজিমাত করেছিলেন ভাইজান।
ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় পোজ দেওয়া নায়কের সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগী ও নেটিজেনরা মন্তব্যের বন্যা ভাসিয়ে লেখেন—'ওয়ান্টেড লুক ইজ ব্যাক!' কেউ আবার লেখেন ‘এত বছর পরও ওয়ান্টেড লুকটা হুবহু একই রকম লাগছে!’
তারকাদের মেলা সোহেলের ডেরায়
{{/usCountry}}তারকাদের মেলা সোহেলের ডেরায়
{{/usCountry}}দিনভর সোহেলের বাড়িতে বাপ্পার আশীর্বাদ নিতে হাজির হন বলিপাড়ার একঝাঁক প্রথম সারির ব্যক্তিত্ব। করণ জোহর, মহীপ কাপুর, লুলিয়া ভান্তুর, জেনেলিয়া ডি’সুজা এবং সীমা সাজদেহ সহ আরও একাধিক তারকা গণপতি বাপ্পার সামনে প্রার্থনা জানান।
সলমনের মা সলমা খান হিন্দু পরিবারের মেয়ে, বাবা সেলিম খানও বড় হয়েছেন ইন্দোরের এমন জায়গায়, যেখানে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। ফলে ছোট থেকেই সেলিম খানও সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শেই বড় হয়েছেন। খান পরিবারে তাই ইদ, হোলি-দিওয়ালি কিংবা গণেশ চতুর্থী যতটা সাড়ম্বরে পালিত হয়, ততটাই সেলিব্রেশনের আমজে থাকে ক্রিসমাসেও। প্রসঙ্গত, সেলিম খানের দ্বিতীয় স্ত্রী হেলেন খ্রিস্টান।
‘বিগ বস ২০’-র কাস্টিং বিতর্ক ও সালমানের প্রচ্ছন্ন খোঁচা
পারিবারিক উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি বর্তমানে টেলিভিশনের পর্দায় ‘বিগ বস ২০’ সঞ্চালনায় ব্যস্ত সলমন খান। তবে চলতি সিজনে জনপ্রিয় মুখের অভাব এবং ‘বোরিং’ প্রতিযোগীদের নির্বাচন নিয়ে নেটিজেন ও দর্শকদের ক্ষোভের মুখে পড়েছে শো-টি। ‘উইকেন্ড কা বার’-এ এই নিয়ে খোদ প্রতিবাদী সুর শোনান সঞ্চালক নিজেই।
দর্শকদের ক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিযোগীদের উদ্দেশ্যে ব্যঙ্গাত্মক সুরে সঞ্চালক বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম খুব বেছে বেছে সেরা প্রতিযোগীদের ঘরে আনব। কিন্তু মাঝে মাঝে আমাদের নির্বাচনেও ফাঁক থেকে যায়! আপনারা যখন বলেন শো-তে কোনো ‘কমতি’ নেই, তখন আমার মনে হয় ঘরে দু-একটা ‘কামিনা’ প্রতিযোগীর সত্যিই বড্ড অভাব! আপনাদের অসভ্যতা, নিয়ম ভাঙা, আর ভুলভাল পারফরম্যান্সের জন্য গালিগালাজ সেন্সর করতে করতেই আমাদের দিন যাচ্ছে—আপনারা সত্যি আমার নাম উজ্জ্বল করবেন!’
বর্তমানে ‘বিগ বস ২০’ জিওহটস্টার ও কালার্স টিভিতে সম্প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু ঘরের ভেতরে চলা বিতর্ক কিংবা বাইরের কাস্টিং চর্চা—সব কিছুকে ছাপিয়ে গণেশ পুজোর সন্ধ্যায় সালমানের সেই আইকনিক স্কার্ফ লুকই এখন বি-টাউনের টক অফ দ্য টাউন।
সালমান বর্তমানে বিগ বস 20 হোস্ট করছেন। দর্শকরা প্রতিযোগী লাইন-আপ নিয়ে নির্মাতাদের সমালোচনা করার পরে, অনেকে বাড়িতে জনপ্রিয় মুখের অভাবের কারণে এই মরসুমের কাস্টিংকে "বিরক্তিকর" বলে অভিহিত করেছিলেন, হোস্ট উইকেন্ড কা ভারে কনসেন্সকে সম্বোধন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "হামনে সোচা চাঁথ চাঁত কে প্রতিযোগীরা লায়েঙ্গে লেকিন কভি কভি কভি হামে সিলেকশন মে কামি পড়া জাতি হ্যায়। অউর উসমিন জব আপ বোলতে হো কি কোই কামি-না তো হুমে লাগতা হ্যায় এক ইয়া দো কামিনা তো হোগা হি ঘর মে না (আমরা ভেবেছিলাম আমরা সাবধানে প্রতিযোগীদের নির্বাচন করব, তবে কখনও কখনও আমাদের নির্বাচনে ত্রুটি থাকে। এবং যখন আপনি বলেন যে কোনও ত্রুটি নেই, তখন আমাদের মনে হয় বাড়িতে এক বা দু'জন 'কামিনা' লোক থাকা উচিত, তাই না?)। তিনি প্রতিযোগীদের আরও বলেছিলেন যে তাদের মতো প্রতিযোগীদের হোস্ট করা তাঁর জন্য একটি সৌভাগ্যের বিষয় এবং ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেছিলেন, "আপ লোগোন কি দুয়াঁ কি ওয়াজা সে, কন্ট্রিবিউশন কি ওয়াজাহ সে অউর রুলস কে উলাংঘানো কি ওয়াজাহ সে, আপকে বদমামিজি কি ওয়াজাহ সে, ইমোশনস অউর টাস্ক কি ওয়াজাহ সে অউর গালিয়াঁ কো হাম কাত দেতে হ্যায়; আপ মেরা নাম জরুর রোশন করোগে (আপনার প্রার্থনা, আপনার অবদান, আপনার নিয়ম লঙ্ঘন, আপনার দুর্ব্যবহার, আপনার আবেগ এবং কাজগুলির কারণে, এবং যেহেতু আমরা গালিগালাজ কেটে ফেলেছি, আপনি অবশ্যই আমাকে গর্বিত করবেন)। সালমান খান হোস্ট করা বিগ বস 20 সম্পর্কে, শোটি 6 সেপ্টেম্বর প্রিমিয়ার হয়েছিল, 16 জন প্রতিযোগী বিগ বসের বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন। শোটি প্রথম দিন থেকেই শহরের আলোচনায় পরিণত হয়েছে। এই মরসুমে, প্রতিযোগীদের মনোনয়ন থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য দুটি জীবন রয়েছে। যাইহোক, এই উইকএন্ড কা ভারের সময়, অভিনেত্রী উদিতি সিং দর্শকদের কাছ থেকে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়ার পরে তার একটি জীবন হারিয়েছিলেন, অন্যদিকে কণিকা মান তার ভারদান হারিয়েছিলেন যখন বাড়ির ক্যাপ্টেন ইয়ং ডিএসএ তার কাছ থেকে এটি কেড়ে নিয়েছিলেন। শোটি জিও হটস্টার এবং কালারস টিভিতে দেখার জন্য উপলব্ধ।