পর্দার সুপারম্যান হতে পারেন, কিন্তু বাস্তবের সলমন খান যে কতটা সংবেদনশীল, তা আরও একবার ধরা পড়ল তাঁর লেখনীতে। তাঁর অতি প্রিয় বন্ধু ও দীর্ঘ চার দশকের সঙ্গী সুশীল কুমারের প্রয়াণে সলমন লিখলেন এক দীর্ঘ ও আবেগঘন ‘ফেয়ারওয়েল নোট’। সুশীলের সঙ্গে একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে অভিনেতা কার্যত তাঁর জীবনের এক বিরাট অধ্যায়কে চিরবিদায় জানালেন।

৪২ বছরের নিটোল বন্ধুত্ব:
সলমন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘এই মানুষটি গত ৪২ বছর ধরে আমার ভাইয়ের মতো ছিল। সবচেয়ে ভালো, দয়ালু এবং পরোপকারী একটা মানুষ। এমনকি যখন সে নিজে সমস্যায় জর্জরিত, তখনও হাসত, নাচত— কোনও কষ্ট বা দুশ্চিন্তা ছিল না তাঁর মধ্যে।’ সলমন আরও যোগ করেন, আর্থিক, মানসিক বা শারীরিক— পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সুশীলের মুখে সবসময় একটাই কথা থাকত, ‘কি ফারক নাই পৈন্দা, সব ঠিক হোগা’ (কিছু যায় আসে না, সব ঠিক হয়ে যাবে)।
মৃত্যুকে পাঞ্জা লড়া চ্যাম্পিয়ন:
সুশীলের মৃত্যুর মুহূর্তটি স্মরণ করে সলমন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, ‘ঠিক ৫ মিনিট আগে পর্যন্ত ওর নাম ছিল সুশীল কুমার। বিদায় বন্ধু। ও একজন প্রকৃত পুরুষের মতো বেঁচে ছিল এবং মৃত্যুর সাথে লড়াই করেছে একজন হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের মতো।’ সলমনের কথায়, মৃত্যু তাকে কাবু করতে পারলেও তার হাসি কেড়ে নিতে পারেনি। ‘আমার ভাই মুখে হাসি নিয়েই চিরনিদ্রায় চলে গেল।’
জীবনবোধের পাঠ:
{{/usCountry}}জীবনবোধের পাঠ:
{{/usCountry}}শোকের মাঝেও সলমন তাঁর অনুরাগীদের এক জীবনমুখী বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘তোমার জন্য কোনও চোখের জল নেই ভাই, আছে শুধু তোমার সঙ্গে কাটানো কিছু স্মৃতি আর হাসি। কেউ আগে যাবে, কেউ পরে— আমাদের সবাইকেই একদিন চলে যেতে হবে। আমরা জানি না কখন বা কীভাবে সেই সময় আসবে, তাই যাওয়ার আগে জীবনে অন্তত ভালো কিছু করে যাওয়া উচিত।’
শেষ বিদায়:
একেবারে ব্যক্তিগত ঢঙে সলমন তাঁর প্রিয় বন্ধুর প্রিয় জিনিসগুলো মনে করিয়ে দিয়ে লিখলেন, ‘এখন ওপারে গিয়ে সিগারেট আর হুইস্কি উপভোগ করো বন্ধু। চিয়ার্স! আমার মনে হয় আমি তোমাকে একটু বেশিই মিস করব।’
সুশীল কুমারের প্রয়াণে সলমনের ‘গ্যালাক্সি’ অ্যাপার্টমেন্টে এখন নিস্তব্ধতা। প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের নানা চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী থাকা এই ছায়াসঙ্গীর চলে যাওয়া যেন সলমনের জীবনের একটি স্তম্ভকেই সরিয়ে দিল।