মুম্বইয়ের জুহুতে রবিবারের সন্ধ্যায় টাইগার শ্রফের (Tiger Shroff) ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য। হিন্দুস্তান টাইমস (HT)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুম্বই পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের আসল লক্ষ্য ছিলেন টাইগার শ্রফ নন, বরং বলিউড মেগাস্টার সলমান খান (Salman Khan)। সলমনের বান্দ্রার বাসভবনে কড়া নিরাপত্তা থাকায় ব্যর্থ হয়ে দুষ্কৃতীরা সহজেই আক্রমণ চালানো সম্ভব এমন একজন তারকা হিসেবে টাইগারকে বেছে নেয়।

মুম্বই পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্যাবলি:
সলমনের বাড়িতে রেইকি ও পরিকল্পনা বদল:
তদন্তে জানা গেছে, দুই শুটার প্রথমে বান্দ্রার ব্যাণ্ডস্ট্যান্ডে সলমন খানের বাড়ির চারপাশে রেকি করেছিল। কিন্তু সলমনের ওয়াই প্লাস (Y+) ক্যাটাগরির কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড দেখে হামলা চালানো অসম্ভব বুঝতে পেরে তারা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ডানহাত অমিত পণ্ডিতের সাথে যোগাযোগ করে। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নির্দেশে তারা বিকল্প ও ‘সহজ নিশানা’ খুঁজতে শুরু করে।
সোশ্যাল মিডিয়া দেখে টাইগারের সময়সূচি ট্র্যাক:
টাইগার শ্রফের কোনও সরকারি নিরাপত্তা বলয় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীদের পোস্ট থেকে শুটাররা জানতে পারে, প্রতি রবিবার জুহুর ‘পুষ্পা নার্সী গ্রাউন্ডে’ একা ফুটবল খেলতে যান অভিনেতা। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রবিবারে ময়দান থেকে গাড়ি নিয়ে বেরোনোর মুখে টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় তারা।
রাজস্থান থেকে গ্রেপ্তার ৩ মূল অভিযুক্ত:
রাজস্থানের কোটা (Kota) থেকে এই ঘটনায় জড়িত ১৮ বছরের ফুল সিং, রেহান আনসারি এবং ২২ বছরের হৃতিক কুমার ওরফে রৌশন রামুরাও মাহাতোকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মুম্বইয়ে এনে বুধবার এসপ্ল্যানেড আদালতে হাজির করে দীর্ঘ পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দায় স্বীকার ও হুমকি:
{{/usCountry}}লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দায় স্বীকার ও হুমকি:
{{/usCountry}}ঘটনার পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিত ও হরমন সান্ধু সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে হামলার দায় স্বীকার করে। হুমকিতে বলা হয়—'টাইগার শ্রফের সাথে যা ঘটেছে তার দায় অনিল পণ্ডিত এবং হরমন সান্ধু নিচ্ছে। তাকে ফোনে বোঝানো হয়েছিল, শোনেনি বলেই এই শিক্ষা। মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে কেউ যদি আমাদের কথা না শোনে বা সলমন খানের সাথে কাজ করে, তবে পরবর্তী নম্বর তার হবে। ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ।'
সলমন খানের নিরাপত্তা আরও জোরদার:
এই ঘটনার পরপরই সলমান খানের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ মাত্রায় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তাঁর বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের চারপাশে অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং রাস্তায় বসানো হয়েছে বিশেষ ব্যারিকেড।