একসময় বলিউড চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ ছিলেন সমীরা রেড্ডি। 'মুসাফির', 'রেস', 'নকশা', 'দে দানা দান'-এর মতো একাধিক ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি। যদিও বর্তমানে অভিনয়ে খুব একটা সক্রিয় নন, তবুও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর অকপট মন্তব্যের জন্য প্রায়ই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের প্রথম ছবির শুটিংয়ের সময়ের এমন একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন।

সমীরার মতে, তিনি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন, তখন পরিস্থিতি আজকের মতো ছিল না। সেই সময় নায়িকাদের গায়ের রং, উচ্চতা, ওজন এবং চেহারা নিয়ে একটি অলিখিত মানদণ্ড ছিল। আর সেই মানদণ্ডে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চাপই তাঁকে প্রথম ছবিতে গায়ের রং পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছিল।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে সোহেল খানের বিপরীতে 'ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া' ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন সমীরা রেড্ডি। সম্প্রতি Hauterrfly-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার প্রথম ছবি 'ম্যায়নে দিল তুঝকো দিয়া'-তে আমার গায়ের রঙ ২ থেকে ৩ শেড ফর্সা করা হয়েছিল। আমাকে এতটাই ফর্সা দেখানো হয়েছিল যে পর্দায় প্রায় ধূসর দেখাত। শুধু মুখে নয়, গায়ের রঙের সঙ্গে মিল রাখতে আমাকে সারা শরীরেও মেকআপ করতে হতো।’
এরপরই তিনি সমাজে গায়ের রঙ নিয়ে প্রচলিত মানসিকতার সমালোচনা করেন। সমীরা বলেন, ‘আপনি কি জানেন, আজও কত নারী নিজেদের পরিবারেই এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন? তাঁদের বাবা-মা কিংবা শ্বশুর-শাশুড়ি পর্যন্ত বলেন, 'তুমি কালো', 'তুমি মোটা'। কী ভয়ঙ্কর বিষয়! সৌন্দর্যের এই সংজ্ঞা কে তৈরি করেছে? কেন একজন মানুষের মূল্য শুধুমাত্র তাঁর গায়ের রং বা চেহারা দিয়ে বিচার করা হবে?’
অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময় এসব বিষয় নিয়ে তিনি খুবই অনিরাপদ বোধ করতেন। নিজের চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে গ্রহণ করতে শিখেছেন। সমীরা জানান, নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বুঝতে, নিজের নিরাপত্তাহীনতা কাটিয়ে উঠতে এবং নিজের স্বাভাবিক চেহারাকে ভালোবাসতে তাঁর প্রায় ২০ বছর সময় লেগেছে। এখন তিনি মনে করেন, প্রকৃত সৌন্দর্য আত্মবিশ্বাসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে, গায়ের রঙে নয়।
{{/usCountry}}অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময় এসব বিষয় নিয়ে তিনি খুবই অনিরাপদ বোধ করতেন। নিজের চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে গ্রহণ করতে শিখেছেন। সমীরা জানান, নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বুঝতে, নিজের নিরাপত্তাহীনতা কাটিয়ে উঠতে এবং নিজের স্বাভাবিক চেহারাকে ভালোবাসতে তাঁর প্রায় ২০ বছর সময় লেগেছে। এখন তিনি মনে করেন, প্রকৃত সৌন্দর্য আত্মবিশ্বাসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে, গায়ের রঙে নয়।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, দীর্ঘ বিরতির পর প্রায় ১৪ বছর পরে 'আখরি সওয়াল' ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন করেন সমীরা রেড্ডি। ছবিটিতে তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন সঞ্জয় দত্ত। তবে বড় প্রত্যাশা থাকলেও ছবিটি বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। তা সত্ত্বেও নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং সমাজের প্রচলিত সৌন্দর্যবোধ নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেত্রী।