দুর্গাপুজোয় আমিষ আহার ত্যাগ করে নিরামিষ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ‘বাগেশ্বর বাবা’ নামেই পরিচিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বঙ্গজুড়ে ইতিমধ্যেই চর্চার পারদ তুঙ্গে। এবার এই নিয়ে একদম চাঁচাছোলা ভাষায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মেখলা দাশগুপ্ত। সনাতন ধর্মের বিশালতা, উদারতা এবং বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য টেনে বাগেশ্বর বাবাকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন তিনি।

‘সনাতন ধর্ম এতটাও সংকীর্ণ নয়’: মেখলা
সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে মেখলা জানান, সনাতন ধর্ম কোনো নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা বিষয় নয়। তাঁর স্পষ্ট কথা, “সনাতন ধর্ম আসলে এতটাই বিশাল (vast) যে শুধু ঘাস খাওয়া মাথায় পুরোটা ধরা সম্ভব না!” গর্ব প্রকাশ করে গায়িকা বলেন, ‘বুক ঠুকে বলতে পারি এত লিবারেল (liberal) ধর্ম পৃথিবীতে আর দুটো নেই। এখানে রজস্বলা দেবীরও পুজো হয়, একদিকে শিব সর্বত্যাগী তো অন্যদিকে বিষ্ণু সমৃদ্ধির দেবতা।’
ধর্মের এই বৈচিত্র্য ও উদারতার নানা দিক তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, “কৃষ্ণ অর্জুনকে প্রয়োজনে নিজের গুরু-আত্মীয়ের হত্যার পরামর্শও দিচ্ছেন, মা কালী দিগম্বরী শ্মশানচারিণী তো মা লক্ষ্মী ধনসম্পদের আধার! রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের সম্পর্ককে পুজো করা হয়। উপোস করে পুজো, আবার উচ্ছিষ্ট দিয়ে পুজো, মূর্তি পুজো আবার নিরাকার ব্রহ্মসাধনা..সনাতন ধর্মে সবকিছুই সামিল করা হয়, এটা শুধু একটা ধর্ম নয়'।
বাঙালি সংস্কৃতি ও মাছ-মাংস বিতর্ক
{{/usCountry}}বাঙালি সংস্কৃতি ও মাছ-মাংস বিতর্ক
{{/usCountry}}বাঙালিদের আমিষ খাওয়া নিয়ে প্রায়শই ওঠা ট্রোলিং ও খোঁচা দেওয়া মন্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেখলা। বাঙালির মেধা ও ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে গায়িকা লেখেন, “এই মাছ-মাংস খেয়েই বাংলা প্রচুর কৃতি সন্তান তৈরি করেছে। অন্য একটা রাজ্য থেকে এত রকম বিষয়ে এত কৃতি পাওয়া মুশকিল। ক্ষমতা থাকলে অন্য আরেকটা রাজ্য থেকে আরেকটা রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি, বিবেকানন্দ, কিশোর কুমার তৈরি করে দেখাক!'
‘নিরামিষাশীদের’ দ্বিচারিতাকে বিঁধে তীব্র আক্রমণ
নিরামিষাশীদের একাংশের প্রতি তীব্র কটাক্ষ হেনে মেখলা তাঁদের দ্বিচারিতা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি লেখেন, 'আমিষ নিয়ে ভেজিটেরিয়ানরা এত বাতেলা মারে, তারপর দেখা যায় গোমাতার ছেলে সন্তান (beef) হলে বিদেশে এক্সপোর্ট হয়ে যায়! দেশের মানুষের টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে বসে থাকাদের মধ্যেও সম্ভবত ভেজিটেরিয়ানরাই এগিয়ে। নিজেরা ব্র্যান্ডেড জামাকাপড় পরে অন্যকে মোহ-মায় ত্যাগের জ্ঞান দেয়!”
পরিশেষে নিজের জাতি সম্পর্কে স্বকীয় দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে মেখলা যোগ করেন যে, আম বাঙালির হয়তো অনেক দোষত্রুটি রয়েছে, কিন্তু যে ক’টি ভালো গুণ বা ‘পদ্মফুল’ ফোটে, তাদের সুবাসেই বাকি সব সমালোচনা বা গন্ধ ঢাকা পড়ে যায়। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য কেন্দ্র করে মেখলার এই জোরালো জবাব এখন সামাজিক মাধ্যমে বেশ চর্চায়।