বলিউডের অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত (Sanjay Dutt) পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও বেপরোয়া বক্তব্যের জন্য প্রায়শই চর্চায় থাকেন। সম্প্রতি অভিনেতা শেখর সুমন (Shekhar Suman)-এর জনপ্রিয় টক শো ‘শেখর টু নাইট’ (Shekhar Tonight)-এর গান্ধী জয়ন্তী স্পেশাল পর্বে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন তিনি। অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ‘মুন্না ভাই’ (Munna Bhai) অবতারে অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে বেশ কিছু মজার ও কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।

‘ভারতে আগের মতো শান্তি আর অনুভব করি না’
শো-এ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সঞ্জয়। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ অত্যন্ত ভালোবাসাময়, এখানে শান্তি থাকা উচিত। কিন্তু সত্যি বলতে, আমাদের দেশে আগের মতো সেই শান্তি আর অনুভব করতে পারি না। ভারতীয়দের হৃদয় বড় এবং আমরা অতিথিপরায়ণ। আমি মহাদেব (শিবজি)-র কাছে প্রার্থনা করি যেন সেই পুরোনো শান্তিময় দিনগুলো খুব শিগগির ফিরে আসে।’
৫ মিনিটের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হলে কী করবেন?
শেখর সুমন যখন তাঁকে ৫ মিনিটের জন্য নিজেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী (PM) হিসেবে কল্পনা করতে বলেন, তখন নিজের ট্রেডমার্ক ‘গান্ধীগিরি’ ও কমিক টাইমিং কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু তোপ দাগেন সঞ্জয়। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে সঞ্জয় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হয়ে উদ্যাপন করার জন্য আমি বিদেশে ঘুরে বেড়াব না, দেশের মানুষের মাঝে থাকব। না হলে প্রধানমন্ত্রী আর আমজনতার কানেকশন কীভাবে তৈরি হবে?’
গান্ধীজির ‘চতুর্থ বাঁদর’:
{{/usCountry}}গান্ধীজির ‘চতুর্থ বাঁদর’:
{{/usCountry}}গান্ধীজির তিন বাঁদরের (বুরা মত দেখো, বুরা মত শুনো, বুরা মত বলো) কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আজ একটা চতুর্থ বাঁদরেরও দরকার। সবাই যদি চোখ, কান, মুখ বন্ধ করে বসে থাকে, তবে খারাপ কিছু দেখলে সেটা ঠিক কে করবে? দেশ চলবে কীভাবে?’
নিজের ছবির বদলে গান্ধীজির ছবি:
তিনি প্রস্তাব দেন, সরকারি দেওয়াল থেকে নিজের ছবি কম করে গান্ধীজির নীতি ও ছবি বেশি লাগানো উচিত। কারণ প্রাতঃস্মরণীয় মানুষদের আদর্শ দেখাটা বেশি জরুরি, নিজের ছবি পরে তুললেও চলবে।
ট্রাম্পকে ‘জাদুকি ঝাপ্পি’ দেওয়ার বার্তা
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রসঙ্গ টেনে সঞ্জয় দত্ত হাসির ছলে জানান যে, তিনি বিশ্ব রাজনীতিতেও ‘গান্ধীগিরি’ চালু করতে চান। তিনি মজা করে বলেন, 'ট্রাম্প মামু সবাইকে ফ্রেমের বাইরে বার করতে চাইছে। ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। মিসাইল না পাঠিয়ে ফুল পাঠানো দরকার এবং বাড়িতে ডেকে চা খেতে খেতে সমস্যার সমাধান করা দরকার।' শেষে নিজের হিট সংলাপ আওড়ে বলেন, 'আমি আমেরিকা আসছি, তোমায় জাদুকি ঝাপ্পি দিতে।'
সঞ্জয় দত্ত নিজে সরাসরি রাজনীতির অংশ না হলেও তাঁর বাবা সুনীল দত্ত ছিলেন কংগ্রেসের সাংসদ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভাতেও জায়গা হয়েছিল সুনীল দত্তের। অভিনেতার বোন প্রিয়া দত্তও বাবার পদচিহ্ন অনুসরণ করেছেন। তিনিও জাতীয় কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী।