‘কাঁটে’, ‘শুটআউট অ্যাট লোক্যান্ডওয়ালা’ ও ‘কাবিল’-এর মতো ব্লকবাস্টার অ্যাকশন চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত পরিচালক সঞ্জয় গুপ্তা (Sanjay Gupta)-র আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বলিউড। সম্প্রতি স্নানাগারে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে ৫৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তবে তাঁর মৃত্যুর পর পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর জীবনের অবিশ্বাস্য রোমান্টিক এক গল্প— যেখানে বিচ্ছেদ, অ্যান্ডারওয়ার্ল্ডের কালো ছায়া এবং ছয় বছর পর প্রাক্তন স্ত্রী অনুরাধা (অনু) লেখি-র কাছেই পুনরায় ফিরে আসার এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন তিনি। এক কথায় তাঁদের প্রেমের গল্প হার মানায় ফিল্মের চিত্রনাট্যকে।

প্রথম বিয়ে ও অ্যান্ডারওয়ার্ল্ডের অজানা ছায়া:
আড়াই বছরের প্রেমের পর ১৯৯৭ সালের ১৮ আগস্ট মাত্র ২২ বছর বয়সে অনু লেখিকে বিয়ে করেছিলেন সঞ্জয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পরেই তাঁদের দাম্পত্যে ফাটল ধরে এবং ২০০৩ সালে আইনি বিচ্ছেদ ঘটে।
এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় জানিয়েছিলেন, নব্বইয়ের দশকে অ্যান্ডারওয়ার্ল্ড থেকে একাধিক হুমকিমূলক ফোন আসত তাঁর কাছে। স্ত্রীকে সুরক্ষিত রাখতেই তিনি গোপন ঘরে গিয়ে সেই ফোন কল ধরতেন এবং স্ত্রীর কাছে সমস্ত বিষয় গোপন রাখতেন। তবে স্ত্রীর মনে সন্দেহ দেখা দেয় যে সঞ্জয় হয়তো পরকীয়ায় লিপ্ত।
সঞ্জয় অকপটে স্বীকার করেছিলেন, ‘আমার ভুল আচরণের জন্যই প্রথম বিয়েটা টিকে থাকেনি। ব্যর্থতা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং নারীদের প্রতি আসক্তি— সব মিলিয়ে আমারই দোষ ছিল। তবে আমি কোনওদিন অনুর ওপর থেকে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের হাত সরিয়ে নিইনি।’
৫ বছর ধরে পটিয়ে ফের প্রাক্তন স্ত্রীকে জয়:
২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হলেও সঞ্জয় অনুকে নিজের ‘একমাত্র সত্যিকারের প্রেম’ মনে করতেন। বিচ্ছেদের পর দুজনের পোষা কুকুর ‘বাডি’ ও ‘যেডা’র দেখভালের জন্য তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। অনুরাধার পরিবারের সাথেও সঞ্জয়ের সুসম্পর্ক বজায় ছিল।
{{/usCountry}}২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হলেও সঞ্জয় অনুকে নিজের ‘একমাত্র সত্যিকারের প্রেম’ মনে করতেন। বিচ্ছেদের পর দুজনের পোষা কুকুর ‘বাডি’ ও ‘যেডা’র দেখভালের জন্য তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। অনুরাধার পরিবারের সাথেও সঞ্জয়ের সুসম্পর্ক বজায় ছিল।
{{/usCountry}}২০০৯ সালে মুম্বাইয়ের খারের এক মন্দিরে অত্যন্ত ঘটা করে এবং পারিবারিকভাবে পুনরায় অনু লেখিকে দ্বিতীয়বারের জন্য বিয়ে করেন সঞ্জয়। বিয়ের পর সঞ্জয় রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘গত ৫ বছর ধরে আমি প্রাক্তনের পিছু ধাওয়া করেছি (Stalking) এবং শেষ পর্যন্ত ওকে রাজি করিয়ে নিজের জীবনে ফিরিয়ে এনেছি!’
পরিবার ও দ্বিতীয় জীবনের ইতি:
পুনরায় বিয়ের পর দুই সন্তানকে নিয়ে ছিল তাঁদের সুখের সংসার। সঞ্জয়ের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও অনুরাধা সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন রিল শেয়ার করে লিখেছিলেন, 'কাছের কোনও মানুষ আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে— এটাই জীবনের সবচেয়ে কঠিন অংশ।ট
নিজের পরিচালনায় অ্যান্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকার জগতকে রুপোলি পর্দায় তুলে ধরলেও, বাস্তবের প্রেম দিয়ে সেই অ্যান্ডারওয়ার্ল্ড ও বিচ্ছেদের দূরত্বকে হার মানিয়েছিলেন সঞ্জয় গুপ্তা।