অস্কারের দৌড়ে ভারত থেকে মনোনীত হলো মারাঠি থ্রিলার ছবি ‘গোনধাল’ (Gondhal)। ৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে (২০২৭ সালের অস্কার) ভারতের অফিশিয়াল এন্ট্রি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সন্তোষ দাবাখড় পরিচালিত এই ছবিটিকে। এই ছবি পিছনে ফেলেছে রণবীর সিং-এর ব্লকবাস্টার ফিল্ম ধুরন্ধরকে। ১৪জন জুরি মেম্বরের মধ্যে মাত্র ৪ জনের ভোট পেয়েছিল রণবীরের ছবি। শেষমেষ ‘গোন্ধল’-এর শিকে ছিঁড়ল।

‘আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম’: সন্তোষ দাবাখড়
ছবিটি মনোনীত হওয়ার পর বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে (PTI) দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিচালক তথা চিত্রনাট্যকার সন্তোষ দাবাখড় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ‘ছবিটি তৈরি করা থেকে জমা দেওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে ‘গোন্ধল’-ই ভারতের অফিশিয়াল এন্ট্রি হিসেবে সুযোগ পাবে। নিজের ছবির মাধ্যমে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত।’
কী নিয়ে ছবির গল্প?
গ্রামীণ মহারাষ্ট্রের লোকজ ঐতিহ্য, সংগীত, নৃত্য ও পৌরাণিক আচার ‘গোন্ধল’-এর প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে এই থ্রিলারটি। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এক নবদম্পতি। ‘সুমন’ নামের এক তরুণী কনে নিজের দাম্পত্য জীবনের দমবন্ধ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে প্রেমিক ‘সার্জে রাও’-এর ‘গোন্ধল’ আচারের প্রতি অন্ধ আসক্তিকে কাজে লাগায় এবং এক পবিত্র ঐতিহ্যকে প্রাণঘাতী খেলার রূপ দেয়।
পরিচালক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতীয় সিনেমা বললেই দারিদ্র্য বা জাতপাতের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে একটি ধারণা রয়েছে। আমি ভেবেছিলাম এমন একটি সিনেমা তৈরি করব যা আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলবে। ‘গোন্ধল’ ঠিক সেটাই করেছে।’
৩৩টি ছবিকে পেছনে ফেলে বাছাই
{{/usCountry}}৩৩টি ছবিকে পেছনে ফেলে বাছাই
{{/usCountry}}অস্কারে পাঠাতে বিভিন্ন ভাষার মোট ৩৩টি ছবি জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ‘ধুরন্ধর’, ‘বর্ডার ২’, ‘পেড্ডি’, ‘হনুমান অংশ’, ‘ইক্কিস’, ‘হক’, ‘রাজ্যপাল’-এর মতো বড় বাজেটের বিনোদনমূলক ছবির পাশাপাশি একাধিক স্বনামধন্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমাও ছিল। সেই সব ছবিকে পেছনে ফেলে ভারতের অফিসিয়াল এন্ট্রি হওয়ার দৌড়ে বাজি মেরেছে ‘গোনধাল’।
ছবির অভিনয় ও সংগীত এবং পরবর্তী পথচলা
ছবিটিতে অভিনয় করেছেন কিশোর কদম, সুরেশ বিশ্বকর্মার মতো প্রবীণ অভিনেতারা, পাশাপাশি ডেবিউ করেছেন ইশিতা দেশমুখ এবং নিষাদ ভোইর। ছবিটির সুরারোপ করেছেন কিংবদন্তি সংগীতপরিচালক ইলাইয়ারাজা।
২০২৭ সালের ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৯৯তম অস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। তবে তার আগেই ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে ১৫টি দেশের শর্টলিস্ট ঘোষণা করবে আকাদেমি। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে চূড়ান্ত পাঁচ মনোনয়ন নির্ধারণ করা হবে।
আমেরিকায় ছবিটির প্রচার নিয়ে সন্তোষ জানান, ‘আগামী ছয় মাসের জন্য আমাদের কাছে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তুত। দেশ আমাদের ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাব।’
উল্লেখ্য, এ যাবত কেবল তিনটি ভারতীয় চলচ্চিত্র অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক ফিচারের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিতে পেরেছিল— মেহবূব খানের ‘মাদার ইন্ডিয়া’ (১৯৫৭), মিরা নায়ারের ‘সালাম বম্বে!’ (১৯৮৮) এবং আশুতোষ গোয়ারিকরের ‘লাগান’ (২০০১)। ভারতের অফিশিয়াল এন্ট্রি হওয়ার পর এখন দেখার, ‘গোন্ধল’ অস্কারের চূড়ান্ত মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে কি না।