তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে তাঁদের পোশাক-আশাক, হাঁটা-চলা— সব কিছু নিয়েই সমাজমাধ্যমে কাটাছেঁড়া করাটা ইদানীং কিছু নেটিজেনদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নারী তারকাদের শারীরিক গঠন বা ওজন নিয়ে ‘বডি শেমিং’ করার নোংরা প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এবার ঠিক তেমনই এক কদর্য আক্রমণের শিকার হলেন ক্রিকেটের ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকরের রূপসী কন্যা তথা মডেল সারা তেন্ডুলকর। ইনস্টাগ্রামের দেওয়ালে তাঁকে সরাসরি ‘মোটি’ (মুটকি) বলে কটাক্ষ করায় এবার আর ভদ্রতার খাতিরে চুপ থাকলেন না সারা। বরং ট্রোলারদের যোগ্য জবাব দিয়ে নিজের ক্ষোভ ও বিরক্তি উগরে দিলেন তিনি।

সমাজমাধ্যমে নিজেকে ‘সাংবাদিক’ বলে দাবি করা এক ব্যক্তির কুরুচিকর ক্যাপশনের শিকার হয়েছেন সারা। শুধু তাই নয়, তেন্ডুলকর পরিবারের সদ্য বিবাহিত নতুন বউমা অর্থাৎ অর্জুন তেন্ডুলকরের স্ত্রী সানিয়া চান্ধোককেও এই নোংরা রসিকতার মধ্যে টেনে আনা হয়েছে। আর তাতেই মারাত্মক চটে গিয়ে সেই স্বঘোষিত সাংবাদিককে ট্যাগ করে তাঁর আসল রূপ কোটি কোটি অনুরাগীর সামনে এনেছেন সারা।
কী ছিল সেই বিতর্কিত ভিডিওতে?
ঘটনার সূত্রপাত, যখন ‘তাহির জাসুস’ নামের এক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে বিমানবন্দরে সারা তেন্ডুলকরের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেই ভিডিওর ওপর অত্যন্ত কুরুচিকরভাবে হিন্দিতে একটি ক্যাপশন লেখা ছিল— ‘মোটি ওয়ালি সারা হ্যায়, বাগল ওয়ালি ভাবি হ্যায়’ (মোটা মেয়েটি হলো সারা, আর পাশের জন তাঁর বৌদি)। ভিডিওতে সারার পাশে থাকা যে মহিলাকে ‘বৌদি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছিল, তিনি আর কেউ নন— বিশিষ্ট উদ্যোগপতি সানিয়া চান্ধোক। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই সারার ভাই অর্জুন তেন্ডুলকরের সাথে রাজকীয় বিয়ে হয়েছে সানিয়ার।
‘এটা কোনও সাংবাদিকতা নয়!’
{{/usCountry}}‘এটা কোনও সাংবাদিকতা নয়!’
{{/usCountry}}ইনস্টাগ্রামের বায়োতে নিজেকে ‘সাংবাদিক’ বলে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির এমন ‘নোংরা মানসিকতা’ এবং কদর্য শব্দপ্রয়োগ দেখে আর চুপ থাকেননি সারা। সেই পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে ওই ব্যক্তিকে সরাসরি ট্যাগ করেন সচিন-কন্যা। তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সারা লেখেন— ‘তুমি অত্যন্ত জঘন্য এবং ঘৃণ্য। এটাকে কোনওভাবেই ‘সাংবাদিকতা’ বলা চলে না। আমাদের। একা। ছেড়ে। দাও।’
পাশে দাঁড়িয়েছেন অনুরাগীরা:
সারার এই সাহসী প্রতিবাদের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অনুরাগীরাও ট্রোলারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, ‘সারা তুমি যেমন, তেমনই অসাধারণ সুন্দর। এই ধরনের বেকার ও মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষদের কথায় কান দিও না।’ আবার কেউ যোগ করেছেন, ‘সেলিব্রিটিদেরও একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে, তাঁদেরও খারাপ লাগা বা ভালো লাগা আছে— এটা এই ট্রোলাররা কবে বুঝবে?’
গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে পা না রেখেও সারার নিজস্ব ফ্যান বেস কোনো বড় বলিউড অভিনেত্রীর চেয়ে কম নয়। লন্ডনে পড়াশোনা শেষ করে নিজের মতো করে লাইফস্টাইল মেইনটেইন করা সারা যে অন্যায়ের বিরুদ্ধেও মুখ খুলতে পারেন, এই ঘটনা তারই প্রমাণ দিল।