রিয়ালিটি শো-র সেই পুরনো দ্বৈরথ কি তবে আজও অমলিন? ২০১৫ সালের সারেগামাপা জয়ী সৌম্য চক্রবর্তীর ফেসবুক পোস্ট অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। নাম না নিলেও তাঁর নিশানায় যে সরাসরি রাজারহাট-গোপালপুরের বিদায়ী বিধায়ক অদিতি মুন্সী, তা স্পষ্ট। সৌম্য লিখেছেন, ‘২০১৫-য় সারেগামাপা-তে জিতে হেব্বি আনন্দ পেয়েছিলাম, ২০২৬-এ আবার তোকে হারতে দেখে ভালো লাগল!’

রাজারহাটে অদিতির ‘বিপত্তি’:
ভোট গণনার সাম্প্রতিক চিত্র বলছে, নিজের কেন্দ্রে বেশ কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন অদিতি। বিজেপির তরুণ তুর্কী প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে সপ্তম রাউন্ড শেষে ১৫,০১৬ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি (বিকাল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত)। মোট ১৪ রাউন্ড গণনার অর্ধেক পথ পেরোতেই এই বড় ব্যবধান তৃণমূল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
পুরনো হিসাব নিকেশ:
২০১৫ সালের সারেগামাপা-র ফাইনালে সৌম্য ও অদিতির রেষারেষি ছিল আকাশছোঁয়া। শেষ হাসি হেসেছিলেন বাঁকুড়ার সৌম্য। তার ঠিক ১১ বছর পর, অদিতির রাজনৈতিক হারের সম্ভাবনায় সৌম্যর এই ‘ব্যক্তিগত’ আক্রমণ টলিপাড়া ও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সৌম্যর পোস্টে ব্যবহৃত ‘তোকে’ সম্বোধন নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুললেও, গায়ক যেন নিজের জয় আর অদিতির সম্ভাব্য পরাজয়কে একই সুতোয় গেঁথে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
এখানেই থামেননি সৌম্য়। পোস্টের কমেন্ট বক্সে তিনি লেখেন, ‘কতো চাটুকারকে দেখলাম আমাদেরই ব্যাচের …. পারলে ওটাও চেটে দেয়….. দোতারা কিবোর্ড ঢোল নিয়ে ……. হা হা হা , বাব্বাহ, নীল বাতির নাটক ….. বাপরে বাপ , কি জ্বালা ….. পারলে এবার বাইরে বেরো !!!!!! চোর কোথাকার’। সৌম্যর ভক্তরাও অদিতিকে নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। অনেকে লেখেন, ‘উনি তো আবার কিছুই জানেন না, সবই ওঁনার বর জানেন’। পালটা সৌম্য লেখেন, ‘আর সারেগামাপা-তে জানতো অভিজিৎ সেন’। প্রসঙ্গত, শো-এর ডিরেক্টর ছিলেন অভিজিৎ।
তরুণজ্যোতির উত্থান:
{{/usCountry}}তরুণজ্যোতির উত্থান:
{{/usCountry}}বিজেপির আইনজীবী প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি প্রথম থেকেই রাজারহাট-গোপালপুরে কড়া টক্কর দিচ্ছিলেন। গণনার শুরু থেকে তাঁর এই আধিপত্য যদি শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে তা হবে অদিতির রাজনৈতিক কেরিয়ারে এক বড় ধাক্কা।
সপ্তম রাউন্ডের পর এখনও সাত রাউন্ড গণনা বাকি। ফলাফল শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে তা সময় বলবে, কিন্তু সৌম্যর এই পোস্ট বুঝিয়ে দিল— গানের মঞ্চের সেই হার-জিতের রেশ রাজনীতির পিচেও আজও একইরকম টাটকা।