...
...
Next Story

Satluj: ‘সোমবারের মধ্যেই নিষিদ্ধ হতে পারে …’, দিলজিৎ-এর ভবিষ্যতবাণী মিলিয়ে মুক্তির দু-দিনেই ভারতে ‘ব্যান’ সতলুজ!

সেন্সর বোর্ডের নির্দেশ মেনে ছবিতে বদল আনেননি পরিচালক। ওটিটি-তে মুক্তি পাওয়া দু-দিনেই গায়েব দিলজিৎ দোসাঞ্জের সতলুজ। পাঞ্জাব পুলিশের বর্বরতার প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিতে কী আছে?

Published on: Jul 6, 2026, 07:30:20 IST
Advertisement

পঞ্জাবের মানবাধিকার কর্মী যশবন্ত সিং খালরার (Jaswant Singh Khalra) জীবনের বাস্তব ও মর্মস্পর্শী ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি সিনেমা ‘সতলুজ’ (Satluj)-কে কেন্দ্র করে ভারতীয় বিনোদন দুনিয়ায় এক নজিরবিহীন তোলপাড় শুরু হলো। গত ৩ জুলাই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিফাইভ (Zee5)-এ কোনও রকম সেন্সর কাট ছাড়াই মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি (যার আগের নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’)। কিন্তু সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়ার ঠিক দুই দিনের মাথায়, অর্থাৎ ৫ জুলাই রবিবার আচমকাই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ছবিটিকে।

‘সোমবারের মধ্যেই নিষিদ্ধ হতে পারে …’, দিলজিৎ-এর ভবিষ্যতবাণী মিলিয়ে মুক্তির দু-দিনেই ভারতে ‘ব্যান’ সতলুজ!
‘সোমবারের মধ্যেই নিষিদ্ধ হতে পারে …’, দিলজিৎ-এর ভবিষ্যতবাণী মিলিয়ে মুক্তির দু-দিনেই ভারতে ‘ব্যান’ সতলুজ!

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ছবিটির এই পরিণতি যে হতে চলেছে, তা মুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইনস্টাগ্রাম লাইভে হুবহু প্রেডিক্ট বা ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন ছবির মূল অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ (Diljit Dosanjh)।

‘সোমবারের মধ্যেই ছবিটা তুলে নেওয়া হতে পারে’— মিলে গেল দিলজিতের আশঙ্কা

ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রাম লাইভে অনুরাগীদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন দিলজিৎ। সেখানে এক ভক্ত তাঁকে জিজ্ঞেস করেন যে এই ছবি ওটিটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার কোনও ভয় তাঁর আছে কি না। জবাবে দিলজিৎ স্পষ্ট জানান যে তিনি সত্যিই অত্যন্ত আশঙ্কিত।

দিলজিৎ বলেছিলেন, ‘আজ শনিবার। আমার মনে হচ্ছে সোমবারের মধ্যেই হয়তো এই ছবিটা ওটিটি থেকে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে কোনও চিন্তা নেই, তোমরা এখনই এটা ডাউনলোড করে রেখে দাও।’

দিলজিতের এই আশঙ্কার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ রবিবারই ভারত থেকে ছবিটির স্ট্রিমিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় জিফাইভ। এর আগে থিয়েটারে মুক্তির জন্য সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) এই ছবিতে ১২টি কাটের নির্দেশ দিয়েছিল, যা নির্মাতারা মানেননি। ৩ বছর আটকে থাকার পর ওটিটি-তে আলোর মুখ দেখলেও, তা স্থায়ী হলো মাত্র ৪৮ ঘণ্টা।

ছবিটি রিলিজের পর পঞ্জাবি ভাষায় এক আবেগঘন পোস্ট করে দিলজিৎ লেখেন যে তিনি প্রায়ই টিমকে জিজ্ঞেস করতেন এই ছবি কোনও দিনও মানুষের সামনে আসবে কি না।

দিলজিতের কথায়, ‘আমরা কি আমাদের নিজেদের গল্পটাও বলতে পারব না? খালরা সাহেবের (যশবন্ত সিং খালরা) কণ্ঠস্বর ১৯৯৫ সালেও চেপে দেওয়া হয়েছিল... আর আজ (২০২৬ সালেও) তাঁর কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে! আমরা আসলে ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? তবে আমি কৃতজ্ঞ যে ছবিটা অন্তত দুদিনের জন্য হলেও রিলিজ হতে পেরেছিল।’

জিফাইভ-এর ধোঁয়াশাপূর্ণ অফিশিয়াল বয়ান

হঠাৎ করে এত সফল একটি ছবিকে কেন ভারতের দর্শকদের জন্য ‘পজ’ বা বন্ধ করে দেওয়া হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ অবশ্য জানায়নি জিফাইভ কর্তৃপক্ষ। তবে রবিবার রাতে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তারা দর্শকদের ধন্যবাদ জানায় এবং লেখে, ‘বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ভারতে ‘সতলুজ’ স্ট্রিম করা যাবে না। আমরা ছবির টিম এবং তাঁদের সৃজনশীল ভাবনার পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছি। আইনি ও সমস্ত রকম সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কীভাবে এই ছবিকে দ্রুত দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনা যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি।’

হানি ত্রেহান পরিচালিত এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও অর্জুন রামপাল অভিনীত এই ছবিটি ১৯৯৫ সালের পঞ্জাব পুলিশের নৃশংসতা এবং যশবন্ত সিং খালরার নিখোঁজ হওয়ার বাস্তব প্রেক্ষাপটে তৈরি।

কে এই যশবন্ত সিং খালরা?

১৯৯০-এর দশকে পাঞ্জাবে চরমপন্থী দমন অভিযানের নামে পুলিশের বিরুদ্ধে হাজার হাজার শিখ যুবককে অবৈধভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া, হত্যা করা এবং ‘লাওয়ারিশ’ বা অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাঁদের লাশ পুড়িয়ে ফেলার যে অভিযোগ উঠেছিল— তা তথ্যপ্রমাণসহ বিশ্বের সামনে এনেছিলেন যশবন্ত সিং খালরা। আর এই সত্য প্রকাশ করার অপরাধেই তাঁকে নিজের জীবন দিয়ে মূল্য চোকাতে হয়েছিল। তাঁকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ, এরপর লক-আপ রেখে চলে অকথ্য অত্যাচার। শেষে মৃতপ্রায় কালরাকে গুলি করে হত্যা করে তাঁর লাশ লোপাট করা হয়।

সমালোচকদের মতে, ছবিটি আপনাকে নাড়িয়ে দেবে। কিন্তু ওটিটি-তে আসার সাথে সাথেই যেভাবে এই ছবির ওপর অদৃশ্য নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া হলো, তা বাকস্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতার ওপর এক মস্ত বড় আঘাত বলে দাবি করছেন নেটিজেনরা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe