যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নাগা সন্ন্যাসীদের হুঙ্কার এবং শঙ্খধ্বনির দৃশ্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। এই ছবি দেখে বিচলিত শ্রীলেখা। মূলত, কলকাতার গোলপার্ক মোড় থেকে যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশাল 'গেরুয়া সম্মান যাত্রা'। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বের হওয়া সেই মিছিলেই হাঁটেন বহু সাধু-সন্ন্যাসী ও নাগা সন্ন্যাসীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে এই ধর্মীয় আবহের জমায়েত দেখেই নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের সামনে সন্ন্যাসীদের ভিড়ের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শ্রীলেখা নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রশ্ন তোলেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কবে থেকে কুম্ভ মেলায় পরিণত হলো?’
স্থান পরিবর্তনের প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিনোদন জগতের তথাকথিত প্রতিবাদীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শ্রীলেখা। ঘটনা নিয়ে টলিউডের বড় অংশের নীরবতাকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, 'এসব দেখে 'ভিজ্যুয়াল পলিউশন' হচ্ছে না নিশ্চয়ই বড় বড় কথা বলা সব জীব গুলোর বা পরজীব গুলোর? কী, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সিলেক্টিভ রেবেলরা চুপ যে'।
উচ্চশিক্ষার অন্যতম সেরা কেন্দ্র যাদবপুরের মতো জায়গায় এমন ধর্মীয় ‘তাণ্ডব’ এবং তার বিপরীতে ইন্ডাস্ট্রির নীরব থাকার দ্বিমুখী নীতিকেই নিজের তোপের মুখে রেখেছেন শ্রীলেখা। অভিনেত্রীর এই বিস্ফোরক পোস্টের পর নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
প্রসঙ্গত, : 'আজাদি গ্যাং'কে যাদবপুর থেকে উৎখাতের ডাক দিয়েই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই যাত্রার আয়োজন করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার অফ এক্সেলেন্স, ঋষি অরবিন্দর ভূমি ৷ আমি শপথ নিয়েছি, সেখান থেকে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাং, কিষেণজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের, আর যারা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছে, তাদের শিকড়-সহ তুলে ফেলব’।
শ্রীলেখার পোস্টের কমেন্ট বক্সে উপচে পড়ছে মন্তব্য়। টলিউডের নীরবতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি চুপ যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষও। যিনি নিজে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী।