টিনসেল টাউনের গ্ল্যামার আর আলোর পেছনে তারকাদের জীবনেও যে কতটা অন্ধকার এবং কঠিন লড়াই লুকিয়ে থাকে, তা আরও একবার সামনে এল। শাহরুখ খানের ব্লকবাস্টার ছবি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ (Kuch Kuch Hota Hai)-এর সেই ছোট্ট অঞ্জলি কিংবা আলিয়া ভাটের সঙ্গে ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ ছবিতে অভিনয় করা অভিনেত্রী সানা সাঈদ (Sana Saeed) নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ও কঠিন লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে আনলেন।

ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে সানা খোলসা করেছেন যে, ছোটবেলা থেকেই তিনি ‘বুলিমিয়া’ (Bulimia) নামের এক মারাত্মক ইটিং ডিসঅর্ডার বা খাদ্য গ্রহণজনিত মানসিক ব্যাধির শিকার ছিলেন।
‘সবসময় লুকিয়ে খাওয়ার একটা তাড়না কাজ করত’
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ভিডিওতে সানা তাঁর খাদ্য সংক্রান্ত তীব্র উৎকণ্ঠা এবং কীভাবে তা অভিনেত্রীর দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করত, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, ‘The Bulimia Help Method’ নামের একটি বই পড়ার পর তিনি নিজের এই রোগটি সম্পর্কে প্রথম বুঝতে পারেন এবং তা থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা খোঁজেন।
স্মৃতিচারণ করে সানা বলেন, ‘আমি অনবরত একটা ভয়ের মধ্যে বাঁচতাম। সবসময় মনে হতো লুকিয়ে খাই, আর কেউ যদি হঠাৎ আমার ঘরে চলে আসে এবং ভাবে যে আমি অতিরিক্ত খাচ্ছি — এই চিন্তায় অস্থির থাকতাম। যখন আমি প্রথম বইটা পড়া শুরু করি, আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কারণ আপনি অবশেষে জানতে পারছেন আপনার আসল সমস্যাটা কী, কিন্তু আপনি তা স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছেন। বছরের পর বছর এই সমস্যার সাথে বাস করার পর আপনার মনে হতে শুরু করে যে আপনার মধ্যেই হয়তো মারাত্মক কোনো গলদ রয়েছে।’
‘বছরের পর বছর জানতামই না যে আমি অসুস্থ’
{{/usCountry}}‘বছরের পর বছর জানতামই না যে আমি অসুস্থ’
{{/usCountry}}সানার মতে, তাঁর এই রোগের শিকার হওয়ার চেয়েও বড় ধাক্কা ছিল নিজের কাছে এই সত্যিটা স্বীকার করা। বড় হওয়ার দিনগুলোতে তিনি বা তাঁর চারপাশের কেউ কখনো ‘বুলিমিয়া’ শব্দটির সাথে পরিচিত ছিলেন না।
আক্ষেপের সুরে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি নিজেকে বোঝাতাম যে এটা হয়তো খাওয়া-দাওয়ার সাধারণ কোনো সমস্যা, কিন্তু বুলিমিয়া নয়। কারণ নিজের কাছে এটা মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন ছিল। ছোটবেলায় এই রোগের নাম শুনিনি। যদি আগে শুনতাম, তবে হয়তো সরাসরি চিকিৎসার দিকে এগোতে পারতাম।’ সানা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ভাষা বা সঠিক শব্দের অভাবে তিনি এই কষ্ট একা, নীরবে সহ্য করেছেন। রোগটি ধরার পড়ার পরেও নিজের মনের ভেতরের লজ্জা ও সংকোচ কাটিয়ে উঠতে তাঁর আরও বহু বছর সময় লেগেছিল।
‘আমি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ’— বার্তা সানার
তবে সমস্ত অন্ধকার দিন পার করে সানা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। তাঁর অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ । আমি আমার শরীর এবং আমার জীবনে এর আগে কখনো এতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করিনি।’
এর পাশাপাশি যারা বর্তমানে এই ধরনের কোনো মানসিক বা শারীরিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে সানার বিশেষ পরামর্শ— ‘যদি আপনিও এই লড়াই লড়ে থাকেন, তবে দয়া করে এমন কারোর সাথে যোগাযোগ করুন যাকে আপনি বিশ্বাস করেন অথবা আপনার এলাকার কোনো বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। আপনারা সবাই একজন যোগ্য মানুষের থেকে সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রাখেন।’
বুলিমিয়া (Bulimia Nervosa) কী?
এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর ইটিং ডিসঅর্ডার। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রথমে মানসিক অবসাদ বা উদ্বেগের কারণে একবারে প্রচুর পরিমাণে খাবার খেয়ে ফেলেন, এবং পরবর্তীতে ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে নিজেরাই জোর করে বমি করে বা অন্য কোনো উপায়ে সেই খাবার শরীর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।