...
...
Next Story

বাইরে দূষণ, তাই করবেন না আউটডোর শ্যুট! ককটেল ২-র সেটে আজব দাবি শাহিদের

দিল্লির ভয়াবহ দূষণের মধ্যে 'ককটেল ২'-এর শুটিং করতে গিয়ে নাকি ভ্যান থেকেই নামতে চাননি শাহিদ কাপুর। অভিনেতার জন্য একাধিক এয়ার পিউরিফায়ার জোগাড় করা থেকে শুরু করে তাঁর আচরণ—সবকিছু নিয়েই এবার মুখ খুললেন ছবির লাইন প্রডিউসার সুমিত ত্যাগী।

Published on: Jul 03, 2026 02:32 PM IST
Advertisement

'ককটেল ২'-এর বড় অংশের শুটিং ইতালিতে হলেও ছবির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল দিল্লি-এনসিআর এলাকায়। সেই সময় রাজধানীর বায়ুদূষণ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৫০০-র গণ্ডিও পেরিয়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে শুটিং করতে গিয়ে শহীদ কাপুর নাকি একাধিক শর্ত দিয়েছিলেন। সম্প্রতি 'দ্য শিবম পডকাস্ট'-এ সেই অভিজ্ঞতার কথাই শোনালেন ছবির লাইন প্রোডিউসার সুমিত ত্যাগী। পাশাপাশি অভিনেতার ব্যক্তিত্ব নিয়েও অকপট মন্তব্য করেন তিনি।

আউটডোর শুটিং, শাহিদের জন্য এয়ার পিউরিফায়ারের ব্যবস্থা

শাহিদ কাপুর। (PTI)
শাহিদ কাপুর। (PTI)

সুমিত ত্যাগীর কথায়, দূষণের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শাহিদ কাপুর সেই পরিবেশে শুটিং করতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। অভিনেতার জন্য তড়িঘড়ি পাঁচ থেকে ছয়টি এয়ার পিউরিফায়ারের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল, যদিও সেগুলি মূলত ঘরের ভিতরে ব্যবহারের জন্য তৈরি।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছিল যে এত দূষণের মধ্যে শাহিদ শুটিং করবেন না। তাই তাঁর জন্য ৫-৬টি এয়ার পিউরিফায়ার আনতে হয়েছিল। কিন্তু সমস্যাটা হল, শুটিং হচ্ছিল সম্পূর্ণ খোলা জায়গায়।’

তিনি আরও জানান, গুরুগ্রামের সাইবার সিটিতে যখন শুটিং চলছিল, তখন তিনি জানতে চেয়েছিলেন খোলা জায়গায় ইনডোর এয়ার পিউরিফায়ার বসিয়ে আদৌ কী লাভ হবে। উত্তরে তাঁকে বলা হয়েছিল, ‘এটা আসলে মানসিক স্বস্তির জন্য করা হচ্ছে।’

‘শেষ মুহূর্তে কেনা হয়েছিল শুধু শহীদের জন্যই’

সুমিতের দাবি, ওই এয়ার পিউরিফায়ারগুলোর বাস্তবিক কোনও কার্যকারিতা ছিল না। তবে শাহিদের অনুরোধ মেনে প্রযোজনা সংস্থা দ্রুত ব্যবস্থা করেছিল।

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আমরা সাইবার সিটিতে শুটিং করছিলাম। চারপাশ পুরো খোলা। সেখানে একটা এয়ার পিউরিফায়ার আসলে কতটা সাহায্য করতে পারে?’

শাহিদের স্বভাব নিয়েও মন্তব্য সুমিতের

সুমিত অবশ্য এটাও স্বীকার করেছেন যে, দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করার ব্যাপারে শাহিদের উদ্বেগ অযৌক্তিক ছিল না। তবে তাঁর মতে, যেভাবে এয়ার পিউরিফায়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেটি কার্যকর সমাধান ছিল না।

তাঁর ভাষায়, ‘সতর্ক থাকা অবশ্যই দরকার ছিল। কিন্তু এটা কোনও বাস্তব সমাধান ছিল না। এটা ছিল শুধুই দেখানোর জন্য, যাতে অভিনেতার দাবি অগ্রাহ্য করা হয়েছে বলে তাঁর মনে না হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন যে প্রযোজনা সংস্থা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।’

শাহিদের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সুমিত বলেন, অভিনেতা নিজের ইচ্ছাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, ‘শাহিদ এমন মানুষ, যাঁর যখন যা করতে ইচ্ছে হবে, তখন সেটাই করবেন। যদি চলে যেতে ইচ্ছে করে, তবে চলে যাবেন। আগে থেকে অন্য কোনও পরিকল্পনা থাকলেও তাতে খুব একটা গুরুত্ব দেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, তিনি এমন একজন, যিনি বিশ্বাস করেন— আমি অন্যের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে খুব একটা ভাবব না, অন্যেরও আমার জন্য অতিরিক্ত ভাবার দরকার নেই।’

'কবীর সিং'-এর সেটেও অপেক্ষা করতে হয়েছিল কিয়ারাকে

এটাই প্রথম নয়, শাহিদ কাপুরকে ঘিরে শুটিং সেটের এমন অভিজ্ঞতার কথা আগেও প্রকাশ্যে এসেছে। ‘কফি উইথ করণ’-এ এসে কিয়ারা আডবানি জানিয়েছিলেন, 'কবির সিং' ছবির শুটিং চলাকালীন তাঁকে একবার প্রায় আট ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

কিয়ারার কথায়, ‘ওটা ছিল আমার শুটিংয়ের তৃতীয় বা চতুর্থ দিন। পরের দৃশ্যে শাহিদ কোন জুতো পরবেন, সেটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলছিল। সেই কারণেই আমাকে প্রায় আট ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল।’

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe